আমি নির্দোষ ! ভার্চুয়াল হাজিরায় দাবি পার্থর, চুপ করিয়ে দিলেন বিচারক
এই মুহূর্তে যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটুকুই বলুন । পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে থামিয়ে দিয়ে একথা বলেন বিচারক ৷

Published : September 15, 2025 at 3:58 PM IST
কলকাতা, 15 সেপ্টেম্বর: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ একাধিক অভিযুক্ত । সোমবার আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালতে ভিডিয়ো কনফারেন্সে হাজির করানো হয় তাঁদের । জানা গিয়েছে, হাসপাতালের বেডে শুয়েই কালো চশমা পরে হাজির হতে দেখা যায় পার্থকে । আদালত সূত্রে খবর, এদিনও শুনানি চলাকালীন বারবার নিজেকে 'সম্পূর্ণ নির্দোষ' বলে দাবি করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ।
জানা গিয়েছে, শুনানি চলাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী । তাঁর দাবি, এই মামলায় ইতিমধ্যেই চারটি চার্জশিট জমা পড়েছে । প্রথম দিকের চার্জশিটে পার্থর নাম ছিল না । অথচ পরে তাঁকে অন্যতম অভিযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে । আইনজীবীর কথায়, "তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার কারণেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যেভাবে ফাঁসানো হয়েছে আমার মক্কেলকে । কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষীর বয়ানেও তাঁর নাম নেই ।" আদালতের কাছে পার্থকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি ।
পার্থর উদ্দেশে এদিন বিচারকের মন্তব্য, "অশোক সাহা, শান্তিপ্রসাদ সিংহ, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদে নিয়োগ করে আপনি দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করেছেন ।" তবে অভিযোগ মানতে চাননি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী । তিনি ফের বলেন, "আমি আদালতের উপর আস্থা রাখছি । প্রতিদিনই বলব, আমি নির্দোষ ।"
এরপর আরও কিছু বলতে চাইছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷ তবে তাঁকে থামিয়ে দেন বিচারক । স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, "আপনার আইনজীবী রয়েছেন, যা বলার তিনি বলবেন । সময় এলে আপনাকেও বলার সুযোগ দেওয়া হবে ।" একথা শুনে পার্থ পালটা প্রশ্ন করেন, "তা হলে আমার কোনও বক্তব্য রাখার অধিকার নেই ?" জবাবে বিচারক বলেন, "এই মুহূর্তে যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, কেবল ততটুকুই বলুন ।"
উল্লেখ্য, 2022 সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথমে ইডি গ্রেফতার করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে । পরে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় নাম জড়ায় তাঁর । রাজ্যের এসএসসি নিয়োগ মামলায়ও সিবিআই তাঁকে পরে গ্রেফতার করে । বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো না-থাকার কারণে, হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দিচ্ছেন ।
অন্যদিকে, নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ মামলায় চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে । বিচারক সোমবার আদালতে সমস্ত অভিযুক্তের উদ্দেশে অভিযোগপত্র পড়ে শোনান । অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে । পরীক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বর বিকৃত করা হয়েছে । ভুয়ো নিয়োগপত্র ব্যবহার, বৈদ্যুতিন নথি জালকরণ ও প্রমাণ লোপাটের কথাও উল্লেখ করেন বিচারক ।
জীবনকৃষ্ণ সাহা, প্রসন্ন রায় প্রমুখের উদ্দেশে বিচারক বলেন, "আপনারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন । চাকরিপ্রার্থীদের প্রভাবিত করে ঘুষ নিতে বাধ্য করেছেন ।"

