'সময়ের অভাবে দেখা করতে পারছি না', রাষ্ট্রপতির বার্তা জানালেন আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মা
মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মা ৷ সেখানকার অভিজ্ঞতা জানালেন তাঁরা ৷

Published : March 9, 2025 at 9:27 PM IST
কলকাতা, 9 মার্চ: মেয়ের জন্য ন্যায় বিচার চাইতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আরজি করে ধর্ষিতা ও নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা ৷ কিন্তু কলকাতা থেকে দিল্লিতে পৌঁছে তাঁদের শুনতে হয়, সময়ের অভাবে দেখা করতে পারছে না রাষ্ট্রপতি ৷
"তখন কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ি ৷ কিন্তু, হাল ছাড়িনি ৷ আগামিদিনেও ছাড়ব না ৷", নাগরিক সমাজের মিছিল শেষে রবিবার সন্ধ্যায় রানুচ্ছায়া মঞ্চে এ কথাই বললেন আরজি করের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা ৷ তাঁর আক্ষেপ, সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি ৷ দেখা করেনি প্রধানমন্ত্রীও ৷
কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়েছিলেন আরজি করের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা ও বাবা ৷ সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখা করেন সিবিআইয়ের অধিকর্তা প্রবীণ সুদের সঙ্গে ৷ আরজি করের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয় দু'পক্ষের। পাশাপাশি তাঁরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ৷ দেখা করার অনুমতি নিতে গেলে সদুত্তর পাননি । নির্যাতিতার মা বলেন, "দিল্লিতে পৌঁছনোর পর আমাদের কাছে রাষ্ট্রপতির তরফে বার্তা আসে ৷ সেখানে তিনি লিখেছেন, "আমি এই ঘটনায় মর্মাহত ৷ কিন্তু সময়ের অভাবে আমরা দেখা করতে পারছি না ৷"
গত বছর 9 অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চারতলার সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায় ৷ ধর্ষণ ও খুনের মামলায় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় শিয়ালদা আদালত ৷ যদিও তরুণীর পরিবার এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ দাবি করে আসছে, একা সঞ্জয় এই ঘটনা ঘটাননি। আরও অনেকে এর সঙ্গে জড়িত আছে।
যথার্থ বিচারের দাবিতে রবিবার ফের পথে নামল নাগরিক সমাজ ৷ সেই মিছিল শেষ হয় রানুচ্ছায়া মঞ্চে ৷ সেখানেই উপস্থিত ছিলেন আরজি করে নির্যাতিতার মা ও বাবা ৷ মা বলেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের পাশপাশি একটা আবেদন জানাব ৷ আমি বা আমার মেয়ে কোনও অন্যায় করিনি ৷ তাহলে কেন আমরা মুখ ও নাম দেখাব না ? বরং যারা দোষ করেছে, তাদের মুখ লুকিয়ে ঘোরা উচিত ৷ আমি চাই আমার মেয়ের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকুক ৷ কারণ সে 31 বছর পর্যন্ত তাঁর নামের জন্যই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল ৷"
এদিন সুপ্রিম কোর্টের মামলা নিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, "জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আমাদের মামলটা সুয়োমোটো হয়ে গেল ৷ আমার মনে হয় ইচ্ছাকৃত, কারণ স্বার্থ ছিল ৷ যাতে আমরা ন্যায় বিচার না পাই ৷ আমারা এখন চাইছি যাতে আমাদের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আবার হাইকোর্টে আমাদের চলে আসে ৷ তাহলেই আমরা প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ আর পরে ডিভিশন বেঞ্চ যেতে পারব ৷"
এর পাশাপশি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরব হন ৷ তাঁর কথায়, "সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে কোন কালো দিনে আমরা আছি ৷ হাসপাতালগুলি কীভাবে চলে, সেটা মুখ্যমন্ত্রী জানেন ৷ যাতে বিচার না পাই, সেই ব্যবস্থাই উনি করেছেন ৷ মুখ্যমন্ত্রী আদেশ দিয়েই এই ব্যবস্থা করেছেন ৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলে সেটা ভুল করব ? পরের বার সুযোগ এলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করা আমাদের দায়িত্ব ৷"

