ETV Bharat / state

সম্পত্তির লোভে 'সুপারি কিলার' দিয়ে মা-বাবাকে খুন, মেয়ে-জামাইয়ের যাবজ্জীবন

প্রাক্তন সেনাকর্মী বাবা'র সম্পত্তি হাতাতে স্বামীকে নিয়ে বাবা-মাকে খুন মেয়ের ৷ হারবার সেই 'জোড়া হত্যা' মামলায় মেয়ে-জামাইয়ের যাবজ্জীবনের কারাদণ্ড ৷

PARENTS KILLED FOR PROPERTY
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 3, 2025 at 7:37 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বারাসত, 3 মার্চ: সম্পত্তির লোভে সুপারি কিলার দিয়ে মা-বাবাকে খুন মেয়ের ৷ তাকে সঙ্গ দেয় জামাই ৷ 'সুপারি কিলার' দিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করিয়ে 'নাটক'। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি ৷ নৃশংস এই খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মেয়ে ও জামাই। গ্রেফতার হয়েছিল সুপারি কিলারও।

টানা সাড়ে চার বছর মামলা চলার পর অবশেষে সোমবার হারবার সেই 'জোড়া হত্যা' মামলায় মেয়ে নিবেদিতা সাধু ও তার স্বামী বান্টি সাধু এবং সুপারি কিলার অজয় দাসের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল বারাসত জেলা আদালত ৷ সেই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমান। অনাদায়ে আরও ছ'মাসের কারাদণ্ডের সাজাও শুনিয়েছেন জেলা আদালতের পঞ্চম অতিরিক্ত মুখ্য বিচারক ৷

মেয়ে-জামাইয়ের যাবজ্জীবন (নিজস্ব চিত্র)

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, 2020 সালের 15 সেপ্টেম্বর উত্তর 24 পরগনার হাবড়া থানার টুনিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন সেনাকর্মী রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী লীলারানি মণ্ডল খুন হন। বাড়িতেই দু'জনকে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। দম্পতি খুনের ঘটনায় পুলিশমহলে তোলপাড় পড়ে যায় ৷ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কোনও কিনারা করতে পারছিল না। সন্দেহের বশে প্রথমে তন্ময় বর নামে পাড়ার এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে ৷ কিন্তু দিনকয়েকের মধ্যেই পুলিশ বুঝতে পারে, জোড়া খুনের ঘটনায় তন্ময়ের কোনও যোগ নেই। তারপর পুলিশ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যসংগ্রহ করে ৷ বাড়ির লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, রামকৃষ্ণবাবুর ছোট জামাই বান্টি সাধুর প্রায় 7 লক্ষ টাকা দেনা রয়েছে ৷ সেই দেনা শোধ করার জন্য মেয়ে নিবেদিতা বাবা-মায়ের কাছে বারবার টাকার দাবি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন ৷

Life sentence for son-in-law
শ্বশুর-শাশুড়িকে খুনে জামাইয়ের যাবজ্জীবন (নিজস্ব চিত্র)

শ্বশুর রামকৃষ্ণবাবু ও শাশুড়ি লীলারানিকে খুন করার ষড়যন্ত্র করে বান্টি। অজয় দাস নামে এক ভাড়াটে খুনিকে তাঁরা এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করেন। তাতে সহযোগিতা করে মেয়ে নিবেদিতা। 2020 সালের 15 সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বাড়ির ছাদ বেয়ে নীচে নেমে ভাড়াটে খুনি অজয় দম্পতিকে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে ৷ কালো মুখোশ পরে অজয় সেদিন রাতে শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিল ৷ ওই দম্পতির মাথায় ও বুকে গুলি করা হয়েছিল ৷ পরে পুলিশ ওই তিন জনকেই গ্রেফতার করে ৷ ভাড়াটে খুনি অজয় দাসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় দম্পতি খুনের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে বারাসত আদালতের পঞ্চম অতিরিক্ত মুখ্য বিচারক দীপালি শ্রীবাস্তব সিনহার এজলাসে চলে মামলাটি। মোট 26 জন সাক্ষ্য দিয়েছেন ৷ সোমবার আদালত সাজা ঘোষণা করে। তিন জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক ৷

এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন,"এই হত‍্যা মামলায় দোষীদের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে সুপারি কিলার অজয় দাসের ফোনের কল রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ ছিল । তার আশঙ্কা ছিল, পরবর্তীতে এই বান্টি ও নিবেদিতা তাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে ৷ সেই কারণে তিন জনের কথোপকথন তিনি তাঁর ফোনে রেকর্ড করে রেখেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন জনেরই কন্ঠস্বর মিলে গিয়েছিল। এছাড়া ডিএনএ এক্সপার্ট-সহ অন্যান্যরা সহযোগিতা করেছেন।"

নাবালিকাকে ধর্ষণ, 136 বছরের কারাদণ্ড অভিনেতার

শ‍্যালিকার মেয়েকে লাগাতার ধর্ষণ! জেনে ফেলায় স্ত্রীকে খুন, যাবজ্জীবন সাজা আসামির