'আবর্জনার শহর' তকমা ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগ পানিহাটির, হচ্ছে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মুরাগাছায় 15 বিঘা জমিতে হবে পানিহাটির ডাম্পিং গ্রাউন্ড । মহিষপোতার জমিতে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হবে ।

Published : October 13, 2025 at 7:38 PM IST
কলকাতা, 13 অক্টোবর: পানিহাটি পুর এলাকায় জঞ্জাল সমস্যার সমাধান হতে চলেছে । এই পুরসভা পাচ্ছে নিজেদের নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড । সঙ্গে একাধিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রকল্প চালু হবে । কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে 15 বিঘা জমিতে এই ডাম্পিং গ্রাউন্ড হবে । ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পাঁচিল তোলার কাজ । দুই খাতে কমবেশি তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হবে বলেই জানিয়েছেন পানিহাটির চেয়ারম্যান সোমনাথ দে ।
পানিহাটির ডাম্পিং গ্রাউন্ড তার বর্জ্য বহন ক্ষমতা হারিয়েছে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর । জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে সেখানে নতুন করে জঞ্জাল ফেলা বন্ধ । এদিকে প্রতিদিন টন টন জঞ্জাল উৎপাদন হয় পুর এলাকা জুড়ে । ফলে বড় রাস্তা কিংবা অলিগলি সবটাই যথেচ্ছ ময়লা আবর্জনার ভরে উঠেছে । কিছুটা ময়লা প্রতিদিন ডাম্পার করে ধাপায় এনে ফেলা হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দিনে দিনে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল ।

এদিকে রামচন্দ্র পুর এলাকায় পানিহাটি পুরসভার নিজস্ব জায়গা থাকলেও সেখানে স্থানীয়দের বাধায় জঞ্জাল ফেলা যায়নি । এমনকি মহিষপোতা এলাকায় জমিতেও একই প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষকে । শেষমেষ এই জ্বলন্ত সমস্যার সমাধান হল । চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বিষয়টি অবগত করেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে । ফিরহাদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায় বৈঠক মুশকিল আসান হয় ।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি পুর এলাকার সীমানা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মুরাগাছায় একটি 15 বিঘা জমি আছে বিলকান্দা-1 পঞ্চায়েতের । তারা সেই জমি পানিহাটিকে দিয়েছে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য । পরিবর্তে মহিষপোতার জমি পঞ্চায়েত নিয়েছে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করবে বলে । পুজোর দিনেও অতিরিক্ত জঞ্জালের জেরে নাভিশ্বাস ফেলেছে পানিহাটি । তবে এবার সেই দিন শেষ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে । জঞ্জাল মুক্ত শহর হবে বলেই আশা প্রকাশ করছে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে ।
তিনি বলেন, "ইতিমধ্যে দু’টি খাতে টাকা এসেছে । একটি জমিটির বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি, অন্যটি ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পরিকাঠামো তৈরির জন্য । এখানে পচনশীল বর্জ্য সার তৈরি হবে ও অপচনশীল সবুজ জ্বালানি তৈরি হবে । পাশাপাশি আমরা পরিকাঠামো তৈরি করে রামচন্দ্রপুর গ্রাউন্ডটি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করব । সেই কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই শুরু করেছি । ডাম্পিং গ্রাউন্ড হলে শহরের জঞ্জালের ছবি সম্পূর্ণ বদলে যাবে । পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে দুই খাতে কমবেশি তিন কোটি টাকা এসেছে । বর্ষার কারণে কাজ একটু ধীরে গতিতে হচ্ছিল ৷ বর্ষা মিটছে এবার কাজের গতি বাড়বে ।"

