রীতি মেনে আরাধনা, ফলহারিণী অমাবস্যায় বেলুড় মঠে ষোড়শী পুজোর আয়োজন
ফলহারিণী কালীপুজোয় প্রথা মেনে বেলুড় মঠে ষোড়শীরূপে পূজিতা হন মা সারদা ৷ এই তিথিতে তাঁকে ষোড়শী রূপে পুজো করেছিলেন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ ৷

Published : May 27, 2025 at 8:54 PM IST
বেলুড়, 27 মে: জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে পালিত হয় ফলহারিণী কালী পুজো ৷ এই তিথিতে ‘ফলহারিণী’ অর্থাৎ যিনি ভক্তদের সকল কর্মফল হরণ করে অভীষ্ট ও পারমার্থিক ফল দান করেন, তাঁর পুজো করা হয় ৷ এই উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ-সহ রাজ্যের বহু জায়গায় হয় বিশেষ আরাধনা ৷
রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বেলুড় মঠে এই পুজো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে ৷ 1280 বঙ্গাব্দের 13 জ্যৈষ্ঠ—ফলহারিণী কালীপুজোর দিন, ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর স্ত্রী সারদা দেবীকে ষোড়শী রূপে উপলব্ধি করে ষোড়শ উপাচারে পুজো করেছিলেন ৷ সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর এই তিথিতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সমস্ত কেন্দ্রে ষোড়শী পুজোর আয়োজন হয় ৷

বেলুড় মঠে ফলহারিণী অমাবস্যার রাতে ঠাকুরের গর্ভগৃহে, তাঁর বাম পাশে মা সারদার প্রতিকৃতি স্থাপন করে চলে নিশিপুজো ৷ সন্ন্যাসীরা রীতি মেনে পুজো করেন, ভক্তিগীতি ও স্তোত্র পাঠের দ্বারা মাকে আহ্বান জানান ৷ সারারাত ধরে চলা এই পুজো শেষ হয় ভোরে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ৷
এই ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের মূল বার্তা—নারীর পূজা অর্থাৎ জীবন্ত মাতৃশক্তির আরাধনা ৷ শাস্ত্রসম্মত বিধিতে, ভক্তিভরে সম্পন্ন হয় এই পুজো, যা ঠাকুর-শ্রীমার ত্যাগ ও আদর্শের গভীর স্মরণ ৷
এবার ফলহারিণী কালীপুজোর তিথি ছিল, 11 জৈষ্ঠ্য (26 মে) সকাল 11টা 9 মিনিট থেকে 12 জৈষ্ঠ্য (27 মে) সকাল 8টা 46 মিনিট পর্যন্ত ৷ প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী রূপে পূজিতা হন তারাপীঠের মা-তারা ৷ ফলহারিণী কথার অর্থ হল ফলহরণকারী ৷ ফলহারিণী রূপে মা-তারা সব অশুভ ফল হরণ করেন ৷ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিথিতে মা-তারার পুজো করলে অশুভ যা তা নাশ হয় এবং শুভ ফল লাভ হয় ৷

