জমি বিক্রি করে পড়িয়েছেন বাবা ! নজরকাড়া রেজাল্টে প্রতিদান ছেলের
বাবার স্বপ্ন ছিল পরিবারের কেউ ডাক্তার হোক । সেই স্বপ্ন সত্যি করে দেখালেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাসিন্দা অনিক ঘোষ ৷

Published : June 15, 2025 at 2:13 PM IST
কলকাতা, 15 জুন: স্বপ্ন ছিল পরিবারের কেউ ডাক্তার হোক । সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে ছেলেকে কষ্ট করে পড়াশোনা শেখান মুর্শিদাবাদের তুষারকান্তি ঘোষ । জমি বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনার খরচা জোগাতেন ৷ অবশেষে সমস্ত কষ্ট সফল হল ৷ সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকায় 67 ব়্যাঙ্ক করলেন ছেলে অনিক ঘোষ ৷ যদিও দুঃখ একটাই, দাদু তা দেখে যেতে পারলেন না ৷
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এলাকার অনিক ঘোষ পড়াশোনার জন্যে থাকেন দুর্গাপুরে । সেখানে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি । দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণিতেও তাঁর ফল ছিল চোখ ধাঁধানো । এবার সর্বভারতীয় ডাক্তারি পরীক্ষাতেও ফল হয়েছে নজরকাড়া । ব়্যাঙ্ক করেছেন 67 ৷ বাড়ির প্রথম প্রজন্মের শিক্ষিত অনিক । বাবা কৃষক, মা গৃহবধূ । হাজার কষ্ট থাকলেও সন্তানকে তা বুঝতে দেননি কখনও । দুর্গাপুরে রেখে ছেলের পড়াশোনা করিয়েছেন তুষার । প্রথমে আইসিএসসি বোর্ড, তারপর একাদশ-দ্বাদশে সিবিএসসি বোর্ডে পড়াশোনা করেন অনিক ।
অনিকের কথায়, "বাবা আমাকে একাদশ-দ্বাদশে পড়ানোর জন্য অর্ধেক জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন । আজ আমি বাবার সেই আত্মত্যাগের উপহার দিলাম । আমার বাবা-মা আজ খুব খুশি । আমি ভাবতে পারিনি এত ভালো ফলাফল হবে । আমি দিনে মোটামুটি চার-পাঁচ ঘণ্টা পড়তাম । আমার মোবাইল দেখতে খুব ভালো লাগে । আমার মোবাইল দেখার সময়টা পড়াশোনা করার থেকেও বেশি ছিল । একাদশ শ্রেণি থেকেই আমি নিটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।"
মানুষের শরীর কেমনভাবে চলে, এই নিয়ে জানতে বরাবরই কৌতুহল ছিল অনিকের । সেই জন্যই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি ৷ তাঁর কথায়, "আমি ছোট থেকেই ভাবতাম একটা মানুষের শরীরে এমন কী কী রয়েছে যার কারণে তার শরীর কাজ করছে ? পরে জানতে পারি আমার দাদুর ইচ্ছে ছিল বাড়ির কেউ একজন ডাক্তার হোক । এমনকী, শেষ জীবনে তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যান । যদিও আমি দাদুকে দেখিনি । পুরো গল্পটাই শুনেছি বাবার মুখে । তাই ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি ।"
অনিক নিজেকে তৈরি করছেন দিল্লি এইমসে যাওয়ার জন্য । তিনি বলেন, "আমার রাজ্যে অনেক মেডিক্যাল কলেজ আছে ঠিকই । কিন্তু, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করলাম এত ভালো ফলাফল করলাম । আমার কাছে সুযোগ আছে সব থেকে ভালোটা পাওয়ার । তাহলে কেন যাব না !"
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন অনিক ৷ তবে তাঁর মতে, "এই আন্দোলন আরও দরকার ছিল । এই আন্দোলন শুধু ছিল ডাক্তারদের । কিছুদিন সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন । তারপর আর প্রতিবাদ করেননি । এটা ভুল । মানুষকে জানতে হবে বুঝতে হবে । রাজনীতিতে থেকে শুরু করে শিক্ষাগত সবদিক থেকে মানুষকে আরও শিক্ষিত হতে হবে । তবেই আমাদের সমাজে আর এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না । এই আন্দোলন শুধু ডাক্তারদের নয় ৷ এই আন্দোলন প্রতিটা মানুষের হওয়া দরকার ছিল ।"

