ফের বন্ধ জাতীয় সড়ক-10, আড়াই কোটির ক্ষতি পরিবহণ-ব্যবসায়, উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা
আগামী 15 অগস্ট পর্যন্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ৷

Published : August 13, 2025 at 4:08 PM IST
কালিম্পং, 13 অগস্ট: ফের বন্ধ হল বাংলা-সিকিম লাইফ লাইন 10 নম্বর জাতীয় সড়ক । আগামী 15 অগস্ট পর্যন্ত ওই জাতীয় সড়ক দিয়ে সমস্তরকম যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHIDCL) । এই নিয়ে টানা 15 দিন বন্ধ হল ওই জাতীয় সড়ক ।
টানা আটদিন বন্ধ থাকার পর গত 9 অগস্ট সাময়িকভাবে খুলে ছিল জাতীয় সড়ক । তবে শুধু মাত্র ছোট যান ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল । টারখোলা, মামখোলা, তিস্তাবাজার, রিশি, মেল্লি ও 27 মাইলের মতো জায়গায় একমুখী যান চলাচল করছিল । বাকি সমস্ত ভারী যান বিকল্প পথ গরুবাথান, আলগাড়া হয়ে কালিম্পং ও সিকিম চলাচল করছিল ।
কিন্তু দু'দিন ধরে পাহাড় থেকে সমতলে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ফের নতুন করে ওই সড়কে একাধিক জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটেছে । যে কারণে বুধবার থেকে ফের ওই সড়ক দিয়ে সমস্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ।

জানা গিয়েছে, এদিন রিশি ও 27 মাইলে নতুন করে ধসের ঘটনা ঘটেছে । ধসের জেরে সড়কের বড় অংশ খাদে চলে গিয়েছে । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রশাসনিক আধিকারিকরা । জেসিবি দিয়ে ধস সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন । নতুন করে পাহাড় কেটে সড়ক তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে ।

কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, "18 অগস্ট পর্যন্ত জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ । নতুন করে বেশ কয়েক জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটেছে । পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে ।" জিটিএ-র চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান বলেন, "জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে এর আগেও বর্ষার কারণে আগেভাগে প্রস্তুতি ও ধস প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল । কিন্তু তারপরেও যেভাবে ধস হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটকদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ।"

এদিক, বারবার ধসের কারণে পাহাড়ের পর্যটনে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে । একদিনে, প্রায় চার কোটির ক্ষতি হয়েছে পর্যটনে । এবার পুজোর পর্যটনের মরশুম অনেকটাই এগিয়ে এসেছে । এতে বারবার এই ধরনের ধসের কারণে উদ্বেগে রয়েছে পর্যটনমহল । মঙ্গলবারই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষর ডিরেক্টর কৃষ্ণ কুমারকে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছে পর্যটন সংস্থার সদস্যরা ।


হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, "আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে 10 নম্বর জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছি । আমরা চরম উদ্বেগে রয়েছি । যেভাবে বারবার ওই সড়ক ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আগামীতে সড়কটি থাকবে কি না, সেটা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে । আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক ।"

অন্যদিকে, পর্যটনের পাশাপাশি পরিবহণেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে । ইস্টার্ন চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, "টানা বন্ধ রয়েছে জাতীয় সড়কটি । এতে পরিবহণ ও ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে । একদিনেই প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে । সমস্ত গাড়ি ঘুরপথে বিশাল পথ অতিক্রম করে যেতে হচ্ছে । এতে খরচ অনেকটা বেড়েছে । দ্রুত এই সড়ক ঠিক না-হলে ব্যবসায় আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে ।"


