বাংলাদেশি তকমায় যোগীরাজ্যে আটক ! 15 জন পরিযায়ী শ্রমিককে ফেরাল মুর্শিদাবাদ পুলিশ
বাংলাদেশে পুশব্যাকের চেষ্টার অভিযোগ পরিযায়ী শ্রমিকদের ৷ সোশাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করে সাহায্য চাইতেই পদক্ষেপ করে জেলা পুলিশ ৷

Published : September 10, 2025 at 2:23 PM IST
মুর্শিদাবাদ, 10 সেপ্টেম্বর: যোগীরাজ্যে আটকে থাকা 15 জন পরিযায়ী শ্রমিককে ফিরিয়ে আনল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ৷ বুধবার সকালে তাঁরা সালার আজিমগঞ্জ শাখার চৌরিগাছা স্টেশনে নামেন ৷ অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাঁদের 5 দিন আটকে রেখেছিল ৷
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সুপার কুমার সানিরাজ বলেন, "পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল ৷ সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের উদ্ধারের আবেদন জানতে পেরে, আমরা সে রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরিয়ে এনেছি ৷ সকলেই সুস্থভাবে বাড়ি ফিরেছেন ৷"
অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় বহরমপুর থানা এলাকার দোসীমানাপাড়া, হালসানাপাড়া এবং চাঁদপাড়া এলাকার 15 জন বাসিন্দা তথা পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ৷ তাঁরা সকলেই হকারের কাজ করতেন ৷ পাঁচদিন ধরে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার পুলিশ আটকে রেখেছিল ৷ ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও কোনও লাভ হয়নি ৷ এমনকি তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাকের চক্রান্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ওই 15 জন পরিযায়ী শ্রমিক ৷
এরই মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তাঁরা ৷ যেখানে রাজ্য প্রশাসনের কাছে তাঁদের উদ্ধারের আবেদন জানানো হয় ৷ সেই ভিডিয়ো দেখার পরেই জেলা পুলিশ প্রশাসন উত্তরপ্রদেশের বস্তির জেলার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৷ যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে মুর্শিদাবাদ পুলিশ প্রশাসন ৷
বুধবার সকালে সাড়ে 9টা নাগাদ চৌরিগাছা রেল স্টেশনে নামেন 15 জন পরিযায়ী শ্রমিক ৷ সকলেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন ৷ তাঁদের বাড়ি বহরমপুর থানা এলাকার ৷ পরিযায়ী শ্রমিক নূর আহম্মেদ বলেন, "আমরা ভারতীয় নাগরিকত্বের সব প্রমাণ দেখিয়েছিলাম ৷ কিন্তু, জাল নথি বলে গ্রাহ্য করা হয়নি ৷ আমাদের বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছিল ৷" এজাজ আহম্মেদ বলেন, "আমরা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জেলা পুলিশের কাছে উদ্ধারের আবেদন করেছিলাম ৷ পুলিশকে ধন্যবাদ ৷"
এ দিন রেল স্টেশনে জেলা পুলিশের তরফে সকল পরিযায়ী শ্রমিককে স্বাগত জানানো হয় ৷ সেখানে তাঁদের হাতে ফুল, মিষ্টি তুলে দেন পুলিশ আধিকারিকরা ৷ মহম্মদ আরশের আলম এবং সাইফুল শেখ স্টেশন থেকে বাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ৷ তাঁদের বাড়ি বহরমপুর থানার রাঙামাটির চাঁদপাড়ায় ৷

