পিএফ অফিসে অসাধু আধিকারিক ও দালাল চক্র ! হাইকোর্টের যাওয়ার হুঁশিয়ারি মনোজ টিগ্গার
আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জানান, তিনি তথ্য নিয়ে CBI তদন্তের দাবি করবেন হাইকোর্টে । পিএফের দুর্নীতিতে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে ৷

Published : June 23, 2025 at 7:29 PM IST
জলপাইগুড়ি, 23 জুন: জলপাইগুড়ি পিএফ অফিসে অসাধু আধিকারিক, কর্মী ও দালালদের চক্র চলছে বলে অভিযোগ ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা ।
সাংসদের আরও অভিযোগ, জলপাইগুড়ি পিএফ দফতরে দালাল ধরলে 72 ঘণ্টার মধ্যে টাকা পাওয়া যায় ৷ আর শ্রমিকরা একা এলে টাকা পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় ৷ দেখা যাচ্ছে, দিনের পর দিন পিএফ দফতরে এসে টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে শ্রমিকদের ৷ সোমবারও এক চা-শ্রমিকের ছেলে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর পিএফের টাকার জন্য অফিসে ঘুরছেন ৷ কিন্তু তিনি টাকা পাচ্ছেন না-বলে অভিযোগ ।
পিএফ দফতরে এসে এদিন সেই দৃশ্য দেখেন মনোজ টিগ্গা ৷ এরপরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন দিনের পর দিন পিএফের টাকা পাচ্ছেন না । শেষে প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে আধিকারিকের টেবিলে কাগজ ছুঁড়ে মারেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ । পাশাপাশি পিএফ দফতরে আধিকারিকদের উপর যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন মনোজ টিগ্গা ।
তিনি বলেন, "আমি বারবার পিএফ অফিসে আসছি । অসাধু চা-মালিকরা চা-শ্রমিকদের পিএফের টাকা কেটে নিলেও তারা টাকা জমা করছেন না । এর আগেও পিএফ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বলেছি কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে । একটা গরিব মানুষের জীবনের শেষ সঞ্চয় হল পিএফ । সেটাও সে পাচ্ছে না । মালিক আসছে পিএফের টাকা কাটছে তারপর পালিয়ে যাচ্ছে । আবার কোনও মালিক আসছে বাগান খুলছে কয়েক বছর চালানোর পর আবার বাগান বন্ধ করে চলে যাচ্ছে । কিন্তু চা শ্রমিকরা কিছুই পাচ্ছে না । তাছাড়া পিএফ অফিসে একটা দালাল চক্র চলছে ।"
কেন্দ্রীয় সরকারের দফতরের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ ৷ মনোজ টিগ্গা বলেন, "শ্রমিকরা পিএফ পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অফিসে আসছে, তাতে চটি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে তাঁদের । দফতরে এলেও কাজ হয় না ৷ কিন্তু দালালকে ধরলে সেই কাজ 72 ঘণ্টার মধ্যে হয়ে যায় । এটা কী করে হচ্ছে? পিএফের প্রাপ্য অধিকার । সেটা কেন পাবে না । পিএফ যার সে টাকা পাবে ৷ কিন্তু এখানে কার টাকা কে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বোঝাই যাচ্ছে না ।"

তাঁর কথায়, "আমি পিএফ কমিশনারকে আলিপুরদুয়ারের লঙ্কাপাড়া, ডিমডিমা, কোহিনুর-সহ কয়েকটা বাগানের কথা বলেছি । এই সকল চা-বাগানের কত জন শ্রমিককে গত 2015 সাল থেকে 2025 সাল পর্যন্ত পিএফের টাকা দেওয়া হয়েছে ? কী নাম তাদের ? পিএফ নম্বর কত? কবে তারা টাকা পেয়েছে । এই তথ্য দিতে আমার কাছে 15 দিন সময় চেয়েছে পিএফ কমিশনার । এই তথ্য নিয়ে আমি হাইকোর্টের আবেদন করব । কারণ, কারা কারা এই সকল চা-বাগানের টাকা খেয়েছে । এর সঙ্গে কোনও পিএফ আধিকারিক জড়িত থাকতে পারে বা যদি কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে ।"
মনোজ টিগ্গার বক্তব্য, "15 দিনের ভেতরে তালিকা আমাকে দেবে জানিয়েছে । আমরা চা-বাগান থেকে উঠে এসেছি । একের পর এক চা-বাগান বন্ধ হচ্ছে । চা-বাগানগুলো ICU তে চলে গিয়েছে । শ্রমিকরা পিএফের টাকা পাবে না, এটা হতে পারে না । শ্রমিকদের যদি ফিরে যেতে হয় তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে । আমি তথ্য নিয়ে CBI তদন্ত দাবি করব হাইকোর্টে । পিএফের দুর্নীতিতে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে ।"
এদিন তিনি বলেন, "এক চা-শ্রমিকের ছেলে বাবার পিএফের টাকা তুলতে দিনের পর দিন ঘুরে যাচ্ছে । সেটা নিয়েই আমি দফতরে বলেছি ।" পিএফ দফতরে আসা ওই চা-শ্রমিকের ছেলে সেলিম হোসেন বলেন, "বাবা ইসমাইল হোসেন মারা যাওয়ার পর পিএফ দফতরে কাগজ জমার দিয়েছি ৷ তারপর এখনও পিএফের টাকা পাইনি । বারবার এসে ঘুরে যাচ্ছি । আজ সাংসদকে বিষয়টি জানাই ।"
এদিকে জলপাইগুড়ি রিজিওনাল পিএফ কমিশনার পবন কুমার বনসাল বলেন, "আমাদের অফিসারের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ আসে । আজ সাংসদ আচমকাই আমাদের দফতরে এসেছিলেন । তিনি বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন । আমরা খতিয়ে দেখছি । এখানে দালাল চক্রের কোনও বিষয় নেই ৷ এখন সবই অনলাইনে হয় । আমরা সেই কারণে শ্রমিকদের সচেতনও করছি । আমরা বেশ কিছু তথ্য সাংসদকে দিয়েছি । আরও কিছু তথ্য তাকে দিয়ে দেব । যিনি পিএফ পাবেন, তাঁকেই দেওয়া হয় । অন্য কাউকে অথরাইজড করা নেই । আমরা শ্রমিকদের সচেতন করার জন্য লিফলেট বিলি করি । আমরা সময় সময় বিভিন্ন চা-বাগানের বিরুদ্ধে পিএফ না-দেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি । সাংসদ যে সমস্ত তথ্য চেয়েছেন ৷ আমরা তা দিয়ে দেব ।"

