2 মাস পরেও জট কাটল না দক্ষিণে, জেলা কমিটিকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ সেলিম-সুজনের
দক্ষিণ 24 পরগনার নবগঠিত জেলা কমিটি নিয়ে বিদ্রোহ সিপিআইএমে ৷ নাম প্রত্যাহার করে নেন সুজনপত্নী-সহ 17 জন ৷

Published : March 18, 2025 at 6:08 PM IST
কলকাতা, 17 মার্চ: দু’মাস পরেও সমাধান সূত্র বেরল না দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার 17 জন বিদ্রোহী সিপিআইএম নেতাদের নিয়ে ৷ সমস্যা মেটাতে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ডাকা বৈঠকেও এলেন না কোনও বিদ্রোহী নেতা ৷ ফলে দক্ষিণ 24 পরগনার সমস্যা সমাধানের দায়ত্বি জেলা কমিটির উপরেই ছাড়লেন মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তীরা ৷
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, জেলা কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক, তাঁদের উপরেই সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব কীভাবে ছাড়ল শীর্ষ নেতৃত্ব ! উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ 24 পরগনার জেলা কমিটি গঠন করা হয় ৷ সেই কমিটির প্যানেলের নাম প্রকাশ হতেই 17 জন নেতানেত্রী নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন ৷ কারণ হিসেবে বলা হয়, পুরনো জেলা কমিটির চারজন সদস্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৷
বিদ্রোহী 17 জন নেতানেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী মিলি চক্রবর্তী ৷ সেই থেকেই দক্ষিণ 24 পরগনায় সিপিএমের সংগঠনে অচলাবস্থা তৈরি হয় ৷ দু’মাসের বেশি সময় পরে গত সোমবার সমস্যার সমাধান বের করতে সেই বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তী ৷
সেই বৈঠক ডাকার সময় প্রস্তাব দেওয়া হয়, বাদ যাওয়া চারজনের মধ্যে দু’জন নেতাকে জেলা কমিটিতে ফের অন্তর্ভুক্ত করা হবে ৷ কিন্তু, সেই প্রস্তাবের পরেও বৈঠকে যোগ দেননি কেউ ৷ বিদ্রোহীদের প্রশ্ন, চারজনের মধ্যে দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে, বাকিদের কেন সামিল করানো যাবে না ! পাশাপাশি, কেন ওই চারজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন একাধিক প্রশ্নের কোনও জবাব না-পাওয়ায় বিদ্রোহীরা বৈঠকে যোগ দেননি বলে জানা গিয়েছে ৷
বৈঠকে কেউ না-আসায় দক্ষিণ 24 পরগনার জেলা সম্পাদক রতন বাগচীর নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটির উপরেই এর সমাধান বের করার দায়িত্ব ছেড়েছেন সেলিম-সুজনরা ৷ উল্লেখ্য, জেলা কমিটিতে কারা থাকবেন, সেই নাম প্রস্তাব করেছিলেন রতন বাগচী নিজে ৷ সেখানে 65 জন ডিসিএমের নাম প্রস্তাব করেন একদা মহেশতলা এলাকার দাপুটে এই সিপিআইএম নেতা ৷
তবে, সেই তালিকা থেকে 17 জন নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন ৷ তালিকায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী মিলি চক্রবর্তী, চন্দনা ঘোষ দস্তিদার, সুব্রত দাশগুপ্ত, রাজ্য কমিটির সদস্য রাহুল ঘোষ এমনকি ডিওয়াইএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ অপূর্ব প্রামাণিক, সাম্য গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ৷
অবশ্য, এই নাম প্রত্যাহার ও বিদ্রোহের পিছনে সিপিআইএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিযোগ ৷ যার একদিকে প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ী এবং অপরদিকে সুজন চক্রবর্তী ৷ যদিও, এই অভিযোগ মানতে নারাজ সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ৷ সুজন চক্রবর্তীর দাবি, "সিপিআইএম একটি গণতান্ত্রিক দল ৷ ডিসিএম থেকে যে কেউ নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিতেই পারেন ৷"

