কুশমণ্ডিতে লক্ষ্মীপুজোর মেলা দেখা ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার আদিবাসী নাবালিকা
মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী৷ ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়৷ এক নাবালাক-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ মূল অভিযুক্ত পলাতক৷

Published : October 9, 2025 at 8:52 PM IST
কুশমণ্ডি (দক্ষিণ দিনাজপুর), 9 অক্টোবর: গণধর্ষণের শিকার এক আদিবাসী নাবালিকা৷ ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানা এলাকায়৷ পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্তে নেমে পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে৷ ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক৷
নির্যাতিতার মা জানান, তাঁদের গ্রামে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে৷ মঙ্গলবার সেই মেলায় গিয়েছিলেন তাঁরা৷ ফেরার সময় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল৷ তখনই তাঁদের পথ আটকায় ছয় দুষ্কৃতী৷ তারাই অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরতা ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায়৷ তার পর গণধর্ষণ করে৷
নির্যাতিতার দিদির বক্তব্য, তাঁরা পরে ঘটনাস্থলে যান৷ মেয়েটিকে উদ্ধার করেন৷ সেই সময় নির্যাতিতা রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে পড়েছিল৷ তার জ্ঞানও ছিল না৷ তার পর হাসপাতালে নিয়ে যান৷ জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রথমে নির্যাতিতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কুশমণ্ডি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ সেখানে মেয়েটির প্রাথমিক চিকিৎসা হয়৷ তার পর মেয়েটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে৷ সেখানেই মেয়েটির বাকি চিকিৎসা হয়৷
পরিবারের তরফে গতকাল, বুধবার কুশমণ্ডি থানায় ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ পকসো আইন-সহ বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে৷ তদন্তে নামে পুলিশ৷ তার পর পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়৷ সেই পাঁচজনের মধ্যে একজন নাবালক৷ তার বয়স 16 বছর৷ বৃহস্পতিবার চারজন অভিযুক্তকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়৷ একজনকে জুভেনাইল কোর্টে পেশ করা হয়৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ জানা যায়নি৷
এদিকে এদিন ওই নাবালিকাকেও আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সূত্রের খবর, সেখানে সে গোপন জবানবন্দি দিয়েছে৷ তবে এই ঘটনায় এখনও একজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ অভিযোগ, সে-ই মূল অভিযুক্ত৷ পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে৷ গঙ্গারামপুরের এসডিপিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মঙ্গলবার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে। আমরা ঘটনার তদন্তে নেমে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। এই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। কুশমণ্ডি থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।’’
অন্যদিকে পরিবারের তরফে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি তোলা হয়েছে৷ তবে এই ঘটনায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে, এই দুষ্কৃতী কারা? তারা কি এলাকায় থাকে? তাদের সঙ্গে কি কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ রয়েছে? তারা নির্যাতিতা বা তার পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল? পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷

