জম্মু-কাশ্মীরে কাজে গিয়ে উধাও মালদার পরিযায়ী শ্রমিক, রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে পরিবার
নিখোঁজের নাম বুদ্ধু চৌধুরী ৷ 12 দিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার ৷ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠেছে ৷

Published : April 9, 2025 at 8:02 PM IST
মালদা, 9 এপ্রিল: জম্মু ও কাশ্মীরে কাজে যাওয়ার পথে আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছেন মালদার এক পরিযায়ী শ্রমিক ৷ এই ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন পরিবারের লোকজন ৷ 12 দিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি কেউ ৷ তাঁকে ঘরে ফেরাতে শেষ পর্যন্ত ইংরেজবাজার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন স্ত্রী ৷
কিন্তু ইংরেজবাজার থানার পুলিশ এখনও পর্যন্ত তাঁর স্বামীকে উদ্ধারে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ তাঁর ৷ ওই শ্রমিককে ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ৷ তিনি এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ৷ এদিকে ইংরেজবাজার থানার তরফে দাবি করা হয়েছে, নিখোঁজ ওই পরিযায়ী শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য পুলিশ যথাসম্ভব চেষ্টা চালাচ্ছে ৷
নিখোঁজ ওই শ্রমিকের নাম বুদ্ধু চৌধুরী৷ বয়স 45 বছর ৷ বাড়ি ইংরেজবাজার ব্লকের কোতওয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রিজ কলোনি এলাকায় ৷ স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এলাকারই দুই ঠিকাদার লিলিমা চৌধুরী ও বালেশ্বর চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বুদ্ধু জম্মু ও কাশ্মীরে টাওয়ারের কাজ করতে গিয়েছিলেন ৷ এবার প্রথম নয়, বুদ্ধু মাঝেমধ্যেই ভিনরাজ্যে কাজে যেতেন ৷ এবার ভিনরাজ্যে যাওয়ার জন্য লিলিমা ও বালেশ্বর তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দাদন (অগ্রিম) দিয়েছিলেন ৷ গত 28 মার্চ তাঁরা ট্রেনে চাপেন ৷ ট্রেনে থাকাকালীন স্ত্রী গঙ্গামনির সঙ্গে বুদ্ধুর কথা হয়েছিল ৷ কিন্তু 29 মার্চ রাত থেকে বুদ্ধুর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ৷
গঙ্গামনি বলেন, “লিলিমা আর বালেশ্বর ওকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিল ৷ সেখানে পৌঁছে আমার স্বামীর সঙ্গে ওরা কী করেছে বলতে পারব না ৷ কোন ট্রেনে ওরা রওনা দিয়েছিল, আমার স্বামী কোন স্টেশনে নেমেছিল, সেসব ওরা জানাচ্ছে না ৷ ঘরের লোককে খোঁজার জন্য ওদের ফোন করে বারবার আবেদন জানিয়েছি ৷ কিন্তু ওরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছে, ওরা আমার স্বামীকে খুঁজতে পারবে না ৷ এমনকি ওখানকার থানাতেও এনিয়ে কিছু জানাতে পারবে না ৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ঘরে আমার চারটি মেয়ে ৷ কোনও ছেলে নেই ৷ স্বামীর অবর্তমানে আমরা কীভাবে চলব ৷ আমরা গরিব মানুষ ৷ দিনে খাটি, দিনে খাই ৷ এখন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে ৷ পাঁচদিন আগে এখানকার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি ৷ আমার স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছি ৷ পুলিশ বলেছিল, আমাদের বাড়িতে তদন্তে আসবে ৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত আসেনি ৷ মনে হচ্ছে, আমার স্বামীকে ওরা কাউকে দিয়ে দিয়েছে ৷ গোটা ঘটনা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য আর প্রধানকে জানিয়েছি ৷ আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই ৷”

বুদ্ধুর বোন চন্দনা চৌধুরী বলছেন, “লিলিমা আর বালেশ্বর জোর করে দাদাকে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে কাজে নিয়ে গিয়েছিল ৷ দাদা এর আগেও বহুবার ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছে ৷ কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি ৷ আমরা চাই, ওরা যেন লোকটাকে খুঁজে বের করে ৷ কিন্তু ওরা কিছু করছে না ৷ দাদার পরিবার খুব গরিব৷ বউদিদের খুব কষ্টে দিন চলছে ৷ কোনোদিন খাবার জুটছে, কোনোদিন জুটছে না ৷ আমরা চাই, দাদা দ্রুত ঘরে ফিরে আসুক ৷”
এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য করুণ বিশ্বাস বলেন, “বুদ্ধু চৌধুরী আমার বুথেরই বাসিন্দা ৷ খবরটা পেয়ে আমি ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম ৷ বুদ্ধু দাদনে ভিনরাজ্যে কাজে যাচ্ছিল ৷ সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায় ৷ ওর স্ত্রী ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ বুদ্ধুকে গ্রামে ফিরিয়ে আনতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব ৷ এনিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কথা বলব ৷”
ইংরেজবাজার থানার এক আধিকারিকের দাবি, ওই পরিযায়ী শ্রমিকের খোঁজ পাওয়ার যাবতীয় চেষ্টা চলছে ৷ তাঁর মোবাইল ফোন সুইচ অফ থাকায় এখনও তাঁর লোকেশন ট্রেস করা যায়নি ৷ প্রয়োজনে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে ৷

