ETV Bharat / state

গুজরাতে কাজে গিয়ে নিখোঁজ মালদার পরিযায়ী শ্রমিক

আতঙ্কে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা ৷ তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন আমেদাবাদে ৷ সেখানেই তাঁরা ওই পরিযায়ী শ্রমিকের সন্ধান করছেন ৷

MIGRANT LABOUR MISSING
গুজরাতে কাজে গিয়ে নিখোঁজ মালদার পরিযায়ী শ্রমিক (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 1, 2025 at 6:49 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 1 মে: গুজরাতের আমেদাবাদে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ কালিয়াচকের এক শ্রমিক ৷ গত 23 এপ্রিল থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ৷ তাঁকে খুঁজে পেতে পরিবারের সবাই আমেদাবাদ চষে বেড়াচ্ছেন ৷ এখনও পর্যন্ত ওই শ্রমিকের কোনও সন্ধান না পেয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা ৷

নিখোঁজ ওই শ্রমিকের নাম নাসিউল হক ৷ বয়স 34 বছর ৷ বাড়ি মালদার কালিয়াচক 1 নম্বর ব্লকের সুজাপুরে ৷ গত 19 এপ্রিল তিনি আমেদাবাদের উদ্দেশে রওনা দেন ৷ 22 এপ্রিল পরিবারের লোকজনের সঙ্গে শেষবার তাঁর কথা হয় ৷ সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি স্টেশন পৌঁছোতে চলেছেন ৷ তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই ৷ তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ৷

এরপর কয়েকদিন পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করতে থাকেন ৷ যদি তিনি ফোন করেন বা তাঁর ফোন খোলা পাওয়া যায় ৷ কিন্তু সেসব কিছু না হওয়ায় পরিবারের তরফে 25 এপ্রিল কালিয়াচক থানায় তাঁর নামে একটি মিসিং ডায়েরি করা হয় ৷ 26 এপ্রিল পরিবারের লোকজন আমেদাবাদ ছুটে যান ৷ তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি ৷ এমনকি পুলিশও তাঁর কোনও সন্ধান পায়নি ৷

Migrant Labour Missing
মালদায় পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া মিসিং ডায়েরি (নিজস্ব ছবি)

নাসিউলের ছোট ভাই মহম্মদ হাসনুজ্জামান বলেন, “দাদা 19 তারিখ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ৷ প্রথমে হাওড়া গিয়েছিল ৷ 21 এপ্রিল হাওড়া থেকে আমেদাবাদগামী ট্রেনে চাপে ও ৷ 22 তারিখ সন্ধে ছ’টা নাগাদ ওর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় ৷ জানায়, পরদিন সকালে আমেদাবাদ পৌঁছে যাবে ৷ কিন্তু তারপর থেকেই দাদার ফোন বন্ধ ৷ ও কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই বুঝতে পারছি না ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা 25 তারিখ গোটা ঘটনা কালিয়াচক থানার পুলিশকে জানিয়েছি ৷ পুলিশও দাদার সন্ধান পায়নি ৷ কয়েকবার থানা যাওয়ার পরও ওর কোনও খোঁজ না পেয়ে আমরা আমেদাবাদ চলে আসি ৷ এখানেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি ৷ কিন্তু এখনও দাদার সন্ধান পাওয়া যায়নি ৷ বউদি আর বাচ্চারা সবসময় কান্নাকাটি করছে ৷ পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন, আমার দাদাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হোক ৷”

সাম্প্রতিক সময়ে গুজরাতেও পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসনুজ্জামান ৷ তিনি বলেন, “কিছুদিন আগেই গুজরাতে বাংলার শ্রমিকদের গায়ে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে ৷ বাংলার শ্রমিকদের আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে ৷ এসব কারণে আমরা সবাই খুব ভয় পাচ্ছি ৷ তাই পরিবারের সবাই মিলে আমেদাবাদ চলে এসেছি ৷ দাদাকে দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ৷’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিয়াচক থানার এক আধিকারিক বলেন, “ওই পরিযায়ী শ্রমিকের সন্ধান পেতে আমরাও সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি ৷ ইতিমধ্যে গুজরাত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে ৷ নাসিউলের ফোন এখনও বন্ধ থাকায় তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি ৷ গুজরাত পুলিশও তাঁর খোঁজ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ আমাদের আশা, দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়া যাবে ৷’’

একই সঙ্গে ওই পুলিশ আধিকারিকের বার্তা, ‘‘তবে আমরা মালদার পরিযায়ী শ্রমিকদের জানাতে চাই, তাঁরা কোথায় কাজে যাচ্ছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, কীভাবে যাচ্ছেন, ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার আগে এসব বিস্তারিতভাবে পুলিশকে জানিয়ে রাখুন৷ তাতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে পুলিশের পক্ষে তদন্ত করা সুবিধেজনক হবে ৷”

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে রাজস্থান ও ওড়িশায় হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন মালদা জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ৷ শুধুমাত্র বাঙালি পরিচয়ের কারণে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ৷ প্রাণভয়ে ভিনরাজ্য থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল কালিয়াচক-বৈষ্ণবনগরের অসংখ্য শ্রমিককে ৷ ওই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়েছিল চারদিকে ৷

এনিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির সঙ্গে কথা বলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তারপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় ৷ কিন্তু আবারও সেই ওড়িশায় বাংলার এই শ্রমিকদের হেনস্তা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ ৷ আবারও প্রাণের তাগিদে পালিয়ে এসেছেন চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর ও রতুয়ার 40 জন পরিযায়ী শ্রমিক ৷ মালদা জেলা পুলিশের উদ্যোগে ঘরে ফিরে এসেছেন তাঁরা ৷ ঠিক সেই সময় গুজরাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন মালদার এক পরিযায়ী শ্রমিক ৷