জল সীমানা পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ, গ্রেফতার 19 মৎস্যজীবী
ভারতীয় জল সীমানা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ভারতে ৷ বিএসএফের হাতে গ্রেফতার 19 জন 'বাংলাদেশি' মৎস্যজীবী ৷ তবে, ধৃতরা বাংলাদেশি মৎস্যজীবী বললেও বৈধ কোনও নথি দেখাতে পারেনি।

Published : September 15, 2025 at 3:25 PM IST
সুন্দরবন, 15 সেপ্টেম্বর: সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে ধাওয়া করে 19 জন 'বাংলাদেশি'কে গ্রেফতার করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি, একটি ট্রলার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ধৃতদেরকে রবিবার সুন্দরবন কোষ্টাল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বিএসএফ। সোমবার তাদের আদালতে পেশ করা হয়েছে ৷
সুন্দরবনের গোসাবা রেঞ্জের বাগমারা জঙ্গল এলাকায় টহলদারি চালাচ্ছিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর জওয়ানরা। সেই সময় তাঁরা দেখতে পান, ভারতীয় জল সীমানার মধ্যে একটি ট্রলার ঘাঁটি রয়েছে। ট্রলারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এদিকে বিএসএফকে দেখে ট্রলারটি পালাতে থাকে। বিএসএফ দ্রুত ট্রলারের পিছু ধাওয়া করে। দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করার পর শেষমেশ ট্রলারটিকে ধরে ফেলে বিএসএফ।
এ বিষয়ে ক্যানিং এসডিপিও রাম কুমার মণ্ডল বলেন, "ভারতীয় জলসীমানা টহল দেওয়ার সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের নজরে আসে একটি সন্দেহজনক ট্রলার। সেই ট্রলার টিকে ধাওয়া করে আটক করে বিএসএফ। এরপরে ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বিএসএফ -এর অফিসাররা ৷ ধৃতরা জানায় তাঁরা সকলেই বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। ধৃত বাংলাদেশিদেরকে সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে বিএসএফ। অভিযুক্তদেরকে আজ আলিপুর মহকুমার আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে চাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।"
ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার পুরালিয়া গ্রামে ৷ তবে, ধৃতরা বাংলাদেশি মৎস্যজীবী বললেও বৈধ কোনও নথি দেখাতে পারেনি। এমনকী অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমা অতিক্রম করে তারা। বিএসএফ ট্রলারটি বাজেয়াপ্ত করে। ধৃত বাংলাদেশিদের রবিবার সুন্দরবন কোষ্টাল থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে বিএসএফ। কী কারণে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল ধৃতরা, সে বিষয়ে নিজেদের হেফাজত নিয়ে জিঞ্জাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করেছে সুন্দরবনর কোষ্টাল থানার পুলিশ। ধৃতদেরকে সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়েছে, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ৷
পরিকল্পনা মাফিক বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ? নাকি ভুলবশত জলসীমা পার করেছিলেন মৎস্যজীবীরা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জেরা করেই রহস্যভেদের চেষ্টায় তদন্তকারীরা। ধৃতরা কেন ভারতীয় জলসীমা পেরিয়েছিলেন? ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত? তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ধৃতরা নিজেদের মৎস্যজীবী বলে দাবি করলেও তা আদৌ সত্য কি না, সেটাও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর সুন্দরবন হয়ে অনেকেই অবৈধভাবে জলসীমা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। বহু বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতারও হয়েছে। সেই কারণেই ধৃতদের উদ্দেশ্য ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের পতনের পর যে কোনওমূল্যে দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের তরফে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। বহু বাংলাদেশি গ্রেফতারও হয়েছে। সেসবের মধ্যে এই ঘটনা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ওড়াতে পারছে না।

