ETV Bharat / state

চা-শ্রমিকদের 'দুর্দশা' দেখতে পীযূষ গোয়েলকে উত্তরবঙ্গে আমন্ত্রণ টিগ্গার

উত্তরবঙ্গের বন্ধ ও রুগ্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের দ্বারস্থ আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা ।

ETV BHARAT
পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে দেখা করেন মনোজ টিগ্গা (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 13, 2025 at 4:58 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 13 অগস্ট: উত্তরবঙ্গের বন্ধ ও রুগ্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা ঘোচাতে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে দেখা করলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা । তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানান, উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পের জগৎজোড়া খ্যাতি সত্ত্বেও চা-শ্রমিকদের অবস্থার কোনও উন্নতি নেই । মাঝেমধ্যেই একের পর এক চা-বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৷ উত্তরের প্রায় 300টি চা-বাগানের পাঁচ লক্ষ শ্রমিকের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উত্তরবঙ্গে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ । যদিও একে ভোটের আগে চা-বাগান নিয়ে রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷

আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার দাবি, উত্তরবঙ্গের মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি চা-বাগান বন্ধ হয়ে আছে । জলপাইগুড়ি জেলার তিনটি চা-বাগান বন্ধ, দার্জিলিং জেলার পাঁচটি চা-বাগান বন্ধ । উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির দাবিতে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ ।

পীযূষ গোয়েলকে উত্তরবঙ্গে আমন্ত্রণ টিগ্গার (নিজস্ব ভিডিয়ো)

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে চা-শিল্পের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবগত করেছেন টিগ্গা । তিনি লিখেছেন, চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি দীর্ঘদিনের ৷ পাশাপাশি পিএফের টাকা চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কেটে নিলেও তা জমা হয় না বলে অভিযোগ । এমন পরিস্থিতিতে চা-শ্রমিকদের দুর্বিষহ অবস্থা বলে জানিয়েছেন তিনি ।

মনোজ টিগ্গা এবিষয়ে বলেন, "আমি বন্ধ চা-বাগান, রুগ্ন চা-বাগান এবং চা-বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের কী অবস্থা তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে জানিয়েছি । পাশাপাশি এই রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় চা-বাগানের কী পরিস্থিতি হয়েছে তা মন্ত্রীকে জানিয়েছি । বন্ধ, রুগ্ন চা-বাগানে চা-শ্রমিকদের পিএফের টাকা কেটে নিলেও তা জমা হয় না । কেন্দ্রীয় সরকার চা-বাগানের পরিস্থিতি দেখে হস্তক্ষেপ করুক । চা-বাগানে কাজ করা আদিবাসী, গোর্খা সম্প্রদায়ের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা দিনের পর দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে । মন্ত্রী যাতে উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের সমস্যা খতিয়ে দেখতে আসেন, সেজন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর জেলায় পরিদর্শন করে মন্ত্রী যাতে পদক্ষেপ করেন সেই দাবি জানানো হয়েছে । আমরা চাই, চা-বাগানের শ্রমিকদের অবস্থা ভালো হোক । মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি চা-শ্রমিকদের পরিস্থিতি দেখতে উত্তরবঙ্গে আসবেন ।"

জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, "ভোট এলেই বিজেপি নেতারা মন্ত্রীদের দ্বারস্থ হন । চা-বাগানের জন্য কিছুই করেনি কেন্দ্রীয় সরকার । রাজ্য সরকারকেই সবকিছু করতে হয় । কেন্দ্রের বিজেপি সরকারে চা-বাগানের প্রতিমন্ত্রীও তো ছিলেন জন বারলা । ভোট এলেই একে বলছে, ওকে বলছে, এসব ভাঁওতা দিয়ে লাভ হবে না । কেন্দ্রের অধীনে থাকা চা-বাগানেও খারাপ অবস্থা । মনোজ টিগ্গাই বলুক, আর যেই বলুক, ভোটের আগে এসব বলে লাভ নেই ।"