ETV Bharat / state

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জমি অধিগ্রহণ সমস্যা মিটেছে ? প্রশ্ন শুনে মানস-কণ্ঠে কৃষ্ণবাণী

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পাঁচটি স্লুইস গেটের কাজ পরিদর্শনে মানস ভূঁইয়া ৷ স্লথ গতিতে কাজ দেখে আধিকারিকদের ধমক ক্ষুব্ধ মন্ত্রীর ৷

GHATAL MASTER PLAN
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ পরিদর্শনে মানস ভূঁইয়া ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 15, 2025 at 4:26 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

ঘাটাল 15 জুন: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জমি অধিগ্রহণকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্যা কি মিটেছে ? সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন শুনে কার্যত এড়িয়ে গেলেন রাজ্যের জল সম্পদ ও উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ৷ জবাবে তাঁর গলায় শোনা গেল কৃষ্ণবাণী ৷ রণভূমিতে দাঁড়িয়ে শ্রীকৃষ্ণের অর্জুনকে দেওয়া বাণী শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে ৷

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে রূপনারায়ণ নদের উপর তৈরি হচ্ছে পাঁচটি স্লুইস গেট ৷ সেই কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মানস ভূঁইয়া ৷ সেখানেই তিনি দাবি করেন, "কতটা জমি প্রয়োজন হবে, তার জন্য দাম কত দিতে হবে, সেই সব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে ৷"

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ পরিদর্শনে মানস ভূঁইয়া ৷ (ইটিভি ভারত)

এর প্রেক্ষিতে মানসকে প্রশ্ন করা হয়, তবে কি জমি জটের সমস্যা মিটে গেছে ? যার জবাবে মন্ত্রীর কৃষ্ণবাণী, "যুদ্ধ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করেছিলেন, সখা আমি এখন কী করব, আমি তো তোমার পদতলে ভয়ঙ্কর আবর্তে বসে আছি ৷ তখন শ্রীকৃষ্ণ জবাব দিয়েছিলেন, জীবনে অনেক সমস্যা থাকবে ৷ কিন্তু, তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে ৷"

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের তরফে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য 500 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৷ প্রতিবছর বর্ষাকালে রূপনারায়ণ দু’কূল ভাসিয়ে ঘাটালকে প্লাবিত করে ৷ সেই সমস্যা মেটাতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ৷ আর গতবছর এর কাজ শুরু হতেই জমির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ৷ সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে ঘাটাল পুরসভার 3 নম্বর থেকে 12 নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ জমি লাগবে ৷

Ghatal Master Plan
চলছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্লুইস গেট তৈরির কাজ ৷ (ইটিভি ভারত)

আর তাই গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য এই 10টি ওয়ার্ডের অসংখ্য বাসিন্দার কাছে জমির জন্য আবেদন জানায় রাজ্য সরকার ৷ কিন্তু, ঘরবাড়ি খুইয়ে সর্বসান্ত হতে নারাজ ঘাটালের অধিকাংশ মানুষ ৷ তারপরেই জমি না-দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয় ৷

এই জটিলতার মধ্যে রূপনারায়ণের উপর স্লুইস গেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ৷ শিলাবতী ও দাসপুরে রূপনারায়ণ নদের উপর এই স্লুইস গেটগুলি তৈরি হচ্ছে ৷ পাঁচটি স্লুইস গেটের কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মানস ভূঁইয়া ৷ কিন্তু, কাজের গতি অনেক স্লথ এই অভিযোগে ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকদের একপ্রকার ধমকই দিলেন তিনি ৷

দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিলেন রাজ্যের জল সম্পদ ও উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ৷ মন্ত্রীর কথায়, "জল যাতে না-ঢোকে তার জন্য যা ভালো, সেটাই করতে হবে ৷ আমি এটুকুই বুঝি ৷" স্লুইস গেট তৈরির কাজ পরিদর্শন করতে সেচ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক, ঘাটালের মহকুমা শাসক-সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন ৷