ETV Bharat / state

স্ত্রীকে কুপিয়ে হৃৎপিণ্ড ব্যাগে ভরে ঘুরে বেড়াল স্বামী ! দেহাংশ দেখাল প্রতিবেশীদের

হাড়হিম করা ঘটনা জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে ৷ স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করে তাঁর দেহাংশ ব্যাগে ভরে ঘুরে বেড়ালেন স্বামী ৷

ETV BHARAT
ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 22, 2025 at 12:40 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

ময়নাগুড়ি, 22 অগস্ট: স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করে তাঁর হৃদপিণ্ড ব্যাগে ভরে ঘুরে বেড়ালেন স্বামী ! আবার ব্যাগ খুলে তিনি কয়েকজনকে সেই হৃৎপিণ্ড দেখিয়েওছেন বলে অভিযোগ ৷ হাড়হিম করা এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে । অভিযুক্ত রমেশ রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ।

ময়নাগুড়ি শহর সংলগ্ন ব্যাংককান্দি এলাকার ঘটনা । অভিযোগ, আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ রায় তাঁর স্ত্রীে দীপালি রায় (45)-কে খুন করে তাঁর হৃৎপিণ্ড ও অন্যান্য দেহাংশ একটি ব্যাগে ভরে এলাকায় ঘুরছিলেন ৷ প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর শরীরের অংশ দেখান তিনি ৷ এই কাণ্ড দেখে ঘাবড়ে গিয়ে লোকজন স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানালে সেখান থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় ৷ উল্লেখ্য, ময়নাগুড়ির ব্যাংককান্দির বাসিন্দা পরেশের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে । তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে ।

স্ত্রীকে কুপিয়ে হৃৎপিণ্ড ব্যাগে ভরে ঘুরে বেড়াল স্বামী ! (নিজস্ব ভিডিয়ো)

স্থানীয় সূত্রে খবর, রমেশ রায় ও তাঁর স্ত্রী দীপালি রায় গতকাল রাতে তাঁদের নিজের বাড়িতেই ছিলেন । অভিযোগ, আজ সকালে স্ত্রীকে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন রমেশ । তার পর দেহাংশ কেটে একটি ব্যাগে ভরে এলাকায় ঘুরে বেড়ান । প্রতিবেশীরা রমেশের বাড়িতে গিয়ে দেখেন, বিছানা রক্তে ভেসে যাচ্ছে ৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশকে ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ।

ময়নাগুড়ি থানায় খবর দেওয়ার পর পুলিশ গ্রামে আসার পর থেকেই বেপাত্তা রমেশ রায় । পুলিশ মৃত দীপালি রায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে । ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, "ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ।"

স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু রায় বলেন, "আজ সকালে পরেশ ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল । সে এক বাড়িতে গিয়ে ব্যাগের ভিতর থেকে স্ত্রীর কলিজা বের করে দেখায় ৷ এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি আমাকে জানায় । আমি পরেশের বাড়িতে গিয়ে দেখি তার স্ত্রী ঠিক আছে কি না । তখনই দেখি, বিছানায় রক্ত । তাতেই সন্দেহ হয় । এরপর প্রধানকে জানাই পুলিশকে জানানোর জন্য । নিশ্চয়ই পরেশই তার স্ত্রীকে খুন করেছে ।"

ময়নাগুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান নীলিমা রায় বলেন, "আমাকে স্থানীয়রা খবর দেয়, আমারই প্রতিবেশী একজন ব্যক্তি ব্যাগের ভেতরে দেহাংশ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং একজনের বাড়িতে গিয়ে সে শরীরের অংশ দেখায় । আমি জানার পর পুলিশে খবর দিই । পুলিশ আসে। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । যে খুন করেছে সে পলাতক ।"