বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ! স্ত্রী-পুত্রকে খুনের পর নিজেকে শেষ করলেন যুবক
পুলিশের প্রথামিক অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সন্দেহ এবং তা থেকে আক্রোশেই এই খুন। দেহগুলি উদ্ধার করে বহরমপুর মর্গে পাঠিয়েছে বেলডাঙা থানার পুলিশ।

Published : October 8, 2025 at 5:54 PM IST
বেলডাঙা, 8 অক্টোবর: স্ত্রী ও নাবালক পুত্রকে করাত দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে নিজেকে শেষ করলেন স্বামী। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে বেলডাঙা থানার আন্ডিরণ গ্রামে। ওই ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্ত্রী'র নাম মৌসুমি হালদার (28), ছেলের নাম রায়ান হালদার (7) এবং স্বামী সনজিৎ হালদার (32) ৷ দেহগুলি উদ্ধার করে বহরমপুর মর্গে পাঠিয়েছে বেলডাঙা থানার পুলিশ।
ঠিক কী কারণে স্ত্রী-পুত্রকে খুন করে নিজেকে শেষ করলেন যুবক, সে বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট নয় পুলিশ ও পরিবারের কাছে। নিকট আত্মীয়রাও কিছুই জানাতে পারছেন না। তবে স্ত্রী'র প্রণয়ঘটিত কারণে আক্রোশ খুন হতে পারে বলেই প্রাথমিক অনুমান পুলিশের ৷ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, "স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করার পরই সনজিৎ হালদার গলায় ফাঁস দিয়ে নিজেকে শেষ করছেন ৷ তবে খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । এর পিছনে কী কারণ রয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
স্থানীয় ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গিয়েছে, সনজিৎ হালদার পেশায় প্যান্ডেল শ্রমিক ৷ হালদার দম্পতির একমাত্র ছেলে বছর সাতেকের রায়ান। আন্ডিরণে নিজের বাড়িতেই তিন জনে থাকতেন। দুর্গাপুজোয় সনজিৎ প্যান্ডেল তৈরির কাজে রাতদিন ব্যস্ত থাকতেন ৷ পুজোর সময় বহুদিন রাতে বাড়ি আসতে পারেননি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, সম্প্রতি স্ত্রী'র উপর পরকীয়ার সন্দেহ শুরু করেন সনজিৎ। এই নিয়ে মাঝেমধ্যেই পরিবারে অশান্তি হত।
স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের জেরই ওই খুন বলে জানাচ্ছেন এলাকার লোকজন। স্থানীয় নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য জানিয়েছেন, সনজিৎ হালদার পেশায় প্যান্ডেল শ্রমিক ছিলেন। দরিদ্র হলেও সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু কি কারণে স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করে নিজেকে শেষ করলেন ওই প্যান্ডেল শ্রমিক সে বিষয়ে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। প্রতিবেশীরাও ওই ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। তবে বারবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রসঙ্গে উঠে এসেছে ৷
পুলিশেরও প্রথামিক অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সন্দেহ এবং তা থেকেই আক্রোশে খুন। তবে নাবালক ছেলেকে কেন খুন করতে গেলেন ? উঠে আসছে এমন প্রশ্ন ৷ প্রতিবেশীদের কথায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর নাবালক ছেলেকে দেখার কেউ নেই । সেই ভেবেই ছেলেকেও খুন করেছে ৷ ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ৷ স্থানীয় বাসিন্দারাই বেলডাঙা থানায় খবর দেয়। পুলিশ তিন জনের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলডাঙা থানার পুলিশ ৷ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ৷

