পরকীয়া সন্দেহ, বাঁশদ্রোণীর রাস্তায় নাবালক সন্তানের সামনেই স্ত্রী-র গলায় কোপ স্বামীর
স্ত্রী’র পরকীয়ার সন্দেহে দু’জনের মধ্যে চলছিল দাম্পত্য কলহ ! তার জেরেই মহিলার উপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা বলে অভিযোগ ৷

Published : August 27, 2025 at 5:55 PM IST
কলকাতা, 27 অগস্ট: স্ত্রী-র সঙ্গে বিবাদ, আর তার জেরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে ৷ বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানার ব্রহ্মপুর এলাকায় ৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় অসীমা নস্কর নামে ওই মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৷ অভিযুক্ত স্বামী হরিপদ নস্কর (40)-এর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ৷
জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল প্রায় আটটা নাগাদ ব্রহ্মপুরে সুকুর আলির চায়ের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে ৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দা অসীমা নস্কর (35) নিয়মিত কাজে বেরিয়ে যেতেন ৷ সেই নিয়ে তাঁর স্বামী হরিপদ নস্কর প্রায়ই অশান্তি করতেন বলে অভিযোগ ৷ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে দাবি প্রতিবেশীদের ৷ তাঁদের কথায়, হরিপদ প্রতিনিয়ত স্ত্রী’র চরিত্র নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করতেন ৷ আর এই নিয়েই দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে ৷

অভিযোগ, এ দিন সকালেও দু’জনের মধ্যে তীব্র অশান্তি হয় ৷ সেই অশান্তির জেরে ব্রহ্মপুরে ওই চায়ের দোকানের সামনে হরিপদ কোমর থেকে একটি ধারাল অস্ত্র বের করে অসীমার গলায় কোপ বসিয়ে দেন ৷ ঘটনাটি ঘটে তাঁদের নাবালক সন্তানের সামনেই ৷ অসীমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করায় ৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, তাঁর আঘাত গুরুতর ৷
অন্যদিকে, লোকজন জড়ো হতে দেখে অভিযুক্ত হরিপদ নস্কর এলাকা থেকে পালিয়ে যান ৷ পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিএনএসের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ যদিও, পলাতক হরিপদ নিখোঁজ রয়েছেন ৷ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে ৷ তদন্তের স্বার্থে এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নস্কর দম্পতির মধ্যে প্রায়ই তর্কাতর্কি ও অশান্তি হত ৷ এমনকি গত কয়েক মাসে প্রতিবেশীরা বারবার তাঁদের মধ্যস্থতা করানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি বদলায়নি ৷ ঘটনা প্রসঙ্গে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ৷ পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হয় ৷ অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক অশান্তি যে কোনও বড় ধরনের অপরাধের চেহারা নিতে পারে ৷ এই ঘটনাটি সমাজের জন্য বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা ৷ স্থানীয় এক প্রবীণের কথায়, "স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হতো ৷ কিন্তু, প্রকাশ্যে এভাবে খুনের চেষ্টা অত্যন্ত নৃশংস ! এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি ৷"
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে ৷ পাশাপাশি, ঘটনাটি কেন এবং কীভাবে ঘটল, তার মূল কারণ খতিয়ে দেখা হবে ৷

