দুর্যোগে অনেক জায়গা বন্ধ, এবার পুজোয় বাংলায় পর্যটক বাড়বে: মমতা
উত্তরকন্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এবারের দুর্গা পুজোয় বাংলায় পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের সংখ্যাকে ছাপিয়ে যেতে পারে ৷

Published : September 10, 2025 at 6:25 PM IST
শিলিগুড়ি, 10 সেপ্টেম্বর: এবারের পুজোয় পশ্চিমবঙ্গে আরও বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ বুধবার উত্তরকন্যায় এমনই আশাপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর মতে, যেহেতু এবার দেশের অনেক পর্যটনস্থলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে, তাই এবারের পুজোয় বাংলায় পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের পর্যটক সংখ্যাকে ছাপিয়ে যেতে পারে ৷ তিনি এদিন আরও জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে পুজোর পর তিনি পাহাড় সফরে আসতে পারেন ৷
বুধবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক সভা সেরে শিলিগুড়ি আসেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ উত্তরকন্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি ৷ প্রথমেই সংবাদমাধ্যমকে পুজোর শুভেচ্ছা জানান ৷ বলেন, "আজ রাস্তায় তেঁতুলতলা দুর্গোৎসব কমিটি আমার কাছে পুজোর অনুদান দেওয়ার অনুরোধ করে ৷ আমি কলকাতায় ফোন করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা করে দিয়েছি ৷ পুজোর পর এখানে সাংবাদিকদের নিয়ে একটা বিজয়া সম্মেলন করার ইচ্ছে রয়েছে ৷ কারণ, পুজোর পর আমি পাহাড়ে আসি ৷ এবার পুজো অনেক আগে ৷ এতে উদ্বোধনের দিনও একদিন কমে গিয়েছে ৷ এবার পুজোর বোধন ষষ্ঠীর আগের দিনই হচ্ছে ৷ এই বর্ষার মধ্যে পুজো উদ্যোক্তারা ঠিকমতো মণ্ডপ বানাতে পারছে না ৷ আজ একটি আদিবাসী মেয়ে আমাকে একগোছা কাশফুল দিয়েছে ৷ এসবেও পুজোর গন্ধ মাখা থাকে ৷ ভালো লাগে ৷"
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "পুজো আসছে ৷ মা সবার জন্য ধনধান্যে পুষ্পে ভরে, মুক্ত আকাশ গড়ে, ফুলে ফলে ভরে ৷ মন আকাশ, আনন্দ আকাশ, আকাশে বাতাসে মায়ের সুমধুর ধ্বনি বেজে উঠুক ৷ মা তো মঙ্গলা ৷ সর্বমঙ্গলা মা সবাইকে ভালো রাখুন ৷ পুজোর সময় যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁরা চলে আসেন ৷ খুশির কথা, গত বছর পুজোর সময় 19 কোটি পর্যটক বাংলায় এসেছিলেন ৷ এবার হয়তো পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে ৷ কারণ, দুর্যোগের জন্য অনেক পর্যটনের জায়গায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ বৈষ্ণোদেবী মন্দির যাওয়ার রাস্তায় ধস নেমেছে ৷ অনেক মানুষ মারা গিয়েছে ৷ অনেকেই সেখানে যেতে ভালোবাসে ৷ কিন্তু কী করে যাবে ? গোটা উত্তরাখণ্ড জলে ভাসছে ৷ পঞ্জাবও জলে ভাসছে ৷ পুরো মুম্বইও জলে ভাসছিল ৷ বাংলাতেও সব ডুবুডুবু করছে ৷ এত বর্ষা ৷"
বাংলায় বর্ষার জলে বন্যার বিষয়টি উল্লেখ করে এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, "আমরা বারবার বলেছি ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে বাংলাকে রাখা হোক ৷ ভুটানকে আমরা ভালোবাসি ৷ কিন্তু ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে বাংলাকে রাখা উচিত ৷ কারণ, ভুটানের সংকোশ নদীর জলে আমাদের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ভাসে ৷ একদিকে নেপালের জল, একদিকে ভুটানের জল, অন্যদিকে সিকিমের জল ৷ তার সঙ্গে রয়েছে তিস্তা ৷ উত্তরবঙ্গে এর প্রভাব বেশ ভালো পড়ে ৷ আর দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসি, মাইথন, পাঞ্চেতের জলে ত্রাহি রব ওঠে ৷ বাংলার পরিস্থিতি একেবারে নৌকার মতো ৷ বিহার, উত্তরপ্রদেশের জলে এখন গঙ্গা ভর্তি ৷ জল উঁচু থেকে নীচে নামে ৷ বাংলা কত জল হজম করবে ? এটা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবা উচিত ৷ আগে গঙ্গা ভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে রাজ্যকে টাকা দেওয়া হত ৷ এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাকে একটা পয়সাও দেওয়া হয় না ৷ দুর্যোগ যখন আসে, সবার জন্যই আসে ৷ এটা বুঝতে হবে ৷ আগে কলকাতায় গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোলের অফিস ছিল ৷ এখন পটনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷ এসবের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলা ৷"

