বাংলা ভাষা নিয়ে খেলার চেষ্টা করবেন না, রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমচন্দ্রকে টেনে ফের বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
কামারপুকুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করিয়ে, ফের নাম না-করে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : August 5, 2025 at 3:47 PM IST
আরামবাগ, 5 অগস্ট: বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা নিয়ে যখন রাজনীতির তরজা তুঙ্গে, তখনই কামারপুকুরে গিয়ে ফের এই নিয়ে নাম না-করে বিজেপিকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি আবারও মনে করিয়ে দিলেন, বাংলা ভাষাতেই রবীন্দ্রনাথ জন-গণ-মন লিখেছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র জাতীয় সংগীত রচনা করেছিলেন ৷
মঙ্গলবার হুগলির আরামবাগে জয়রামবাটি কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের নতুন অতিথি নিবাস, পার্কিং-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ সেই অনুষ্ঠানেই তিনি বলেন, "জাতীয় সংগীত লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বন্দেমাতরম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৷ হিন্দু পথ প্রদর্শক রামকৃষ্ণদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, সারদা মা ৷ সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ৷ এমন অনেক নাম আছে যাঁরা দেশকে দিশা দেখিয়েছিলেন ৷ তাঁরা সবাই বাঙালি ৷ আমি এটুকু বলতে পারি, রামকৃষ্ণদেবের সর্বধর্ম সমন্বয়কে আমরা বিশ্বাস করি, পাথেয় করি ৷ নতুন করে আমাদের শিখতে হবে না ৷ একবার যা ব্রেনে নিয়ে নিয়েছি, সেটা ড্রেনে যাবে না ৷ আমাদের ভাষা নিয়ে কেউ খেলার চেষ্টা করবেন না, অসম্মান করার চেষ্টা করবেন না ৷"
বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি করার অভিযোগে এর আগে বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এদিন সেই সুরেই তিনি বলেন, "ধর্মকে জানতে আমাদের অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই ৷ ঠাকুর রামকৃষ্ণ, সারদা মায়ের সঙ্গে থাকলেই তা জানা যায় ৷ তাঁরা আমাদের ধর্মের পথ দেখিয়েছেন ৷ রামকৃষ্ণদেব সবাইকে একসঙ্গে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ৷ তাই আমাদের মধ্যে কোনও ভাগাভাগি নেই ৷ তিনি বলেছেন, টাকা মাটি মাটি টাকা ৷ এ কথা বলে তিনি আদতে সমাজ এবং চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন ৷ তাই ধর্ম নিয়ে আমাদের কারও কাছে কিছু শেখার নেই ৷ স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো গিয়ে হিন্দু ধর্মের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন ৷ অনেক কষ্ট তাঁকে করতে হয়েছে ৷ কখনও রাস্তায়, কখনও ট্রেনের কামরায় থেকেছেন ৷ এঁরা সবাই কিন্তু বাংলা ভাষায় কথা বলতেন, মনে রাখবেন ৷"
এদিন জয়রামবাটি কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড তৈরির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ শুধু ঘোষণা করাই নয়, ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি জয়রামবাটি কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের লোকত্তরানন্দ মহারাজকে নিযুক্ত করে 10 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন ৷

