পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মানে বিশ্বকর্মা পুজোয় ছুটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক সভা থেকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি জেলাশাসককে নির্দেশ দেন দুয়ার সরকার থেকে আধার কার্ড করানোর ব্যবস্থা করার৷

Published : September 10, 2025 at 3:51 PM IST
জলপাইগুড়ি, 10 সেপ্টেম্বর: পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একাধিক ইস্যুতে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মানে আরও একটি পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি৷ বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মানে এবার থেকে বিশ্বকর্মা পুজোয় ছুটি থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী এখন তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন৷ বুধবার তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিন৷ এদিন তিনি জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক সভা করেন৷ সেই সভার মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বকর্মা পুজোয় রাজ্য সরকারের তরফে ছুটি দেওয়ার ঘোষণা করেন৷

পাশাপাশি ওই সভার মঞ্চ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যাঁদের আধার কার্ড নেই, তাঁদের দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে আধার কার্ড করে দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেন তিনি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে আধার কার্ড করে দিতে বলব জেলাশাসককে৷ না-হলে সমস্যা হবে৷’’
এদিন নিয়োগের পরীক্ষা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে যেগুলো বন্ধ হয়েছিল, সেই পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি’র নোটিফিকেশন হয়েছে। বাদ বাকি যা আছে, আইনের বিশেষজ্ঞ যাঁরা আছেন, তাঁরা পরামর্শ নিচ্ছেন। আইনের জটিলতা কেটে গেলেই আমরা চেষ্টা করব সঙ্গে থাকার। সঙ্গে থাকার মানে এর থেকে বেশি আমি বলতে পারি না আইনের ভাষায়।’’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমি এখনও মনে করি শিক্ষক নিয়োগে 35 হাজার পদে আমরা নিয়োগ করেছি। আরও 21 হাজার পদ খালি আছে। এটা হয়ে গেলে বাদ বাকিটা দেখে নেব।’’ এই ইস্যুতে তিনি সরব হন বিরোধীদের বিরুদ্ধে৷ মমতা বলেন, ‘‘করবেন কী! যখনই নিয়োগ করতে যাচ্ছি, পিআইএল করে আটকে দিচ্ছে। কোর্টে গিয়ে আটকাচ্ছো কেন? ছেলেমেয়েদের চাকরির প্রয়োজন নেই! তোমরা কোর্টে যাচ্ছো কেন? চাকরি করতে দেবে না। চাকরি দেবে না। চাকরি খাবে? দেখবে-জ্বলবে আর লুচির মতো ফুলবে। বাংলা এসব মানে না।’’

এদিন আবাস যোজনা আরও একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানান, জলপাইগুড়ি জেলায় চা-বাগানের 13 হাজার বাড়ি করা হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের বোনাস 20 শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। বোনাস পেতে যাতে শ্রমিকদের সমস্যা না-হয়, সেই বিষয়টি মুখ্যসচিবকে দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ একই সঙ্গে বিরোধী চা-শ্রমিক সংগঠনগুলিকেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দয়া করে শ্রমিকদের টাকা নিয়ে খেলবেন না।’’
এর পরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, ‘‘বাংলার বাড়ি করে দিয়েছি। আমি কাউকে বিনা আশ্রয়ে মরতে দেব না। দিল্লিকে বলব তোমাদের দয়া, ভিক্ষা চাই না। 100 দিনের কাজ বন্ধ আমাদের যায় আসে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে সংসার চালাবেন। আপনারা কর্মশ্রী প্রকল্পে কাজ পাচ্ছেন। কর্মশ্রী প্রকল্পে 78 লক্ষ মানুষকে কাজ দিয়েছি। জলপাইগুড়ি জেলাতে 3 লক্ষ 36 হাজার কাজ পাবে কর্মশ্রী প্রকল্পে।’’
নাম না-করে তিনি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে৷ মমতা বলেন, ‘‘আমার নামে খেলা হবে, আমার নামে স্টেডিয়াম হবে। আমি আমার নামে কিছুই করিনি। মনিষীদের নামে করতে হবে।’’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সর্বশিক্ষা অভিযান থেকে রাস্তা, সব প্রকল্পেই কেন্দ্র বাংলাকে বঞ্চনা করছে৷ এছাড়া এদিন তাঁর ভাষণে দিঘার জগন্নাথধাম তৈরির প্রসঙ্গ উঠে আসে৷ রাজ্য সরকার যে এবার দুর্গা অঙ্গন তৈরি করছে, সেকথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে বলেও এদিন তিনি অভিযোগ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলা বলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করছে। আমি বলব আরও বেশি করে বাংলায় কথা বলুন। অসম থেকে নোটিশ পাঠাচ্ছে আলিপুরদুয়ারের কোচবিহারে। আমরা বেশি করে বাংলা ভাষায় কথা বলব। কে কোন ভাষায় কথা বলবে, কোনও সমস্যা নেই। আমাদের বাংলা বাংলা চালাবে, দিল্লি নয়। আমাদের বাংলায় দেড় কোটি লোক আছে৷ আমরা তো কিছু বলি না!’’
পাশাপাশি বলেন, ‘‘যতদিন রাজনীতি করব, মাথা উঁচু করে করব। পার্লামেন্ট থেকে পেনশন নিলে কয়েক কোটি টাকা হতো। কিসের জন্য আমাকে এত বদনান করা হবে? আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে লজ্জায় মাথা খারাপ হয়ে পালিয়ে যেত।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাংলা ভালাও থাকল দেশ ভালো থাকবে। জয় বাংলা বলব।’’

