ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে তৈরি মনিটরিং কমিটি, প্রস্তুত 500 কোটি: মমতা
অসম বন্যার জন্য টাকা পায়, তবে বাংলা তো সৎ সন্তান তাই টাকা পায় না ৷ ঘাটালে গিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : August 5, 2025 at 8:10 PM IST
ঘাটাল, 5 অগস্ট: ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ এই প্ল্যান রূপায়ণে একটি মনিটরিং কমিটিও তৈরি করা হয়েছে ৷ ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ঘাটালের বন্যার জন্য এদিন ডিভিসির উপর দায় চাপিয়েছেন তিনি ৷ পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, অসম বন্যার জন্য কেন্দ্রীয় সাহায্য পেলেও, বাংলা তা পায় না ৷ এদিন ঘাটাল থেকে ফের বাংলা ভাষার সম্মানহানি ও এসআইআর-এর বিরোধিতায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী ৷
মঙ্গলবার ঘাটাল শহরের আড়গোড়া চাতালে জলমগ্ন রাজ্য সড়কে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেখানেই তিনি বলেন, "এবারে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে । তারই সঙ্গে অতিরিক্ত জল ছেড়েছে ডিভিসি এবং বিভিন্ন বাঁধগুলি । আর তাতেই ব্যাপক জলমগ্ন হয়ে রয়েছে ঘাটাল । আমরা ঘাটালের মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি । এই প্ল্যান পুরোপুরি সুপরিকল্পিতভাবে করার জন্য প্রায় 500 কোটি টাকা প্রস্তুত আছে । ইতিমধ্যে সেচমন্ত্রী, ঘাটালের সাংসদ, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি করে তোলা হয়েছে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়নের জন্য ।"
ঘাটালের পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বলতে বলতে যখন ফেডআপ হয়ে গিয়েছি, তখন এবার অ্যাকশন নিতে হবে ৷ উই হ্যাভ টু ওয়েট ফর দ্যাট ৷ পরবর্তীতে কী করব, সেটা আমাদের প্ল্যান করতে হবে ৷ এটাই আমাদের গেমপ্ল্যান ৷ অসম বন্যার টাকা পায় ৷ বাংলা তো বঞ্চিত ৷ বাংলা হচ্ছে সৎ সন্তান ৷ বাংলার সঙ্গে সবসময় বিমাতৃসুলভ আচরণ ৷"

একইসঙ্গে এদিন এসআইআর নিয়েও ঘাটালবাসীকে সতর্ক করেন মমতা ৷ সবাইকে ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "এসআইআর-এর নামে এনআরসি করার প্ল্যান চলছে ৷ ভোটার লিস্টে নাম তোলা থেকে কেউ যেন বাকি না থাকেন ৷ যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা দরবার করবেন ৷ আমরা পাশে থাকব ৷ এপিক কার্ড তো নির্বাচন কমিশনই করেছিল ৷ আধার কার্ড করেছিল সরকার ৷ এত কোটি টাকা তাহলে কী হবে ? এই টাকা দিয়ে বন্যায় কাজে লাগাক ৷ এটা পুরো প্ল্যান করা গেম ৷ প্ল্যানটা তৈরি করেছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ৷ আমরা এটা সইব না, এগুলো মানছি না ৷"
ঘাটালে গিয়ে 'বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ' নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, "এত বড় সাহস, বলছে বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই ৷ যে বাংলা ভাষা স্বাধীনতার জন্ম দেয়, যে বাংলা ভাষা জাতীয় নবজাগরণের জন্ম দেয়, যে বাংলা সারা এশিয়াতে দ্বিতীয়, আমি ভাষায় মা বলতে শিখেছি তা বলতে পারব না, এটা কখনও হয় না ৷ মাতৃভূমিকে রক্ষা করার শপথ আমাদের সকলের ৷"
এদিন বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের হাতে ত্রাণও তুলে দেন মমতা ৷ পাশাপাশি আড়গোড়া চাতাল থেকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাদার হাব পরিদর্শন করেন তিনি । তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী, মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, জেলাশাসক খুরশেদ আলি কাদেরি, পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার ও অন্যান্য তৃণমূল নেতানেত্রীরা।
উল্লেখ্য, টানা মাস দেড়েক বৃষ্টির পর অবশেষে বৃষ্টি কমতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে ঘাটালে । তবে ঘাটালের পাশাপাশি এখনও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে চন্দ্রকোনা ওয়ান, চন্দ্রকোনা টু, দাসপুর, কেশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ৷ ধীরে ধীরে জল কমছে ঘাটাল মনসুকার ঝুমি নদীতে । তবে এখনও বেশকিছু এলাকা ঝুমির জলে প্লাবিত রয়েছে । মনসুকা 1 গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ বেশকিছু এলাকা এখনও জলমগ্ন । এদিকে, ঘাটাল পুর এলাকা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকাও জলের তলায় রয়েছে ৷
বন্যার জলে প্লাবিত এলাকার অনেক স্কুল ৷ ডিঙি নৌকায় জল পেরিয়ে চলছে নিত্য যাতায়াত । প্রশাসনের তরফে ঘাটাল পুর শহর ও ঘাটাল ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে চলছে ত্রাণ বিলি থেকে চিকিৎসা, পানীয় জল-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ । চলতি মরসুমের বর্ষায় এই নিয়ে কয়েকদিন অন্তর পাঁচবার বন্যার কবলে ঘাটালবাসী । প্রবল দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের ।

