মতুয়া বারুণি মেলার রাশ কার হাতে ? আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের দ্বারস্থ শান্তনু-মমতা
মতুয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বারুণি মেলার অনুমতি কে পাবেন- শান্তনু ঠাকুর নাকি মমতাবালা ঠাকুর ? এর মীমাংসা করতে দু'পক্ষই জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হল ।

Published : March 19, 2025 at 9:18 PM IST
|Updated : March 19, 2025 at 9:31 PM IST
বারাসত, 19 মার্চ: শান্তনু ঠাকুর নাকি মমতাবালা ঠাকুর, কার হাতে থাকবে এবারের মতুয়া মেলার রাশ ! একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আরেকজন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ৷ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দু'পক্ষই উত্তর 24 পরগনা জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হল ৷ এদিন আইনজীবী মারফত দু'পক্ষের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন)-এর কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন বলে খবর ৷ শুনানিতেও অংশ নেন ৷ শুনানিতে শান্তনু ও মমতাবালা-দুই তরফ প্রশাসনের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন ৷
রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের প্রতিনিধি হিসাবে এদিন বারাসতের জেলা পরিষদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বিধায়ক-কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুর এবং কয়েকজন আইনজীবী ৷ অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের পক্ষে প্রতিনিধি ছিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দুরাম গাইন এবং চার আইনজীবী ৷
জেলা প্রশাসনের কাছে দু'পক্ষই দাবি করে, "তাঁদের কাছে মেলার আয়োজনের যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে ৷ তাই এবার ঠাকুরনগরে 'বারুণি মেলার' আয়োজনের অধিকারী একমাত্র তারাই ৷" যদিও শেষ পর্যন্ত মেলার 'রাশ' কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সকলে ৷
মতুয়া মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর ঠাকুরনগরের ঠাকুর বাড়িতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ৷ কিন্তু, প্রতিবার মেলা ঘিরে ঠাকুর বাড়ির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে ৷ বিশেষ করে মেলা 'পরিচালনা' কে করবেন, তা নিয়ে টানাপোড়েন লেগেই লাগে ঠাকুর বাড়ির দুই পরিবারের মধ্যে ৷
একদিকে শান্তনু ঠাকুর বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ৷ অন্যদিকে, মমতাবালা ঠাকুর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ৷ জেঠিমা এবং ভাইপোর এই দড়ি টানাটানিতে মতুয়া ভক্তরাও কার্যত দ্বিধাবিভক্ত ৷ ঠাকুর পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন সত্ত্বেও এতদিন ঐতিহ্যবাহী বারুণি মেলার অনুমতি ছিল মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের হাতে ৷ এবছর সেই অনুমতি বাতিল করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৷
62 বছর আগের আইন মেনে মতুয়া মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ৷ তা ইতিমধ্যে বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, 1973 সালে রাজ্য পঞ্চায়েত আইন লাগু হওয়ার পর 1963 সালের জেলা পরিষদ আইন অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ৷ সেই আইনেই জেলা পরিষদ এক পক্ষকে অনুমতি দিয়ে গিয়েছে এত দিন ৷ তাই অনুমতি বাতিল করেছে হাইকোর্ট ৷
বিচারপতি অমৃতা সিনহা দু’পক্ষকে নতুন করে মেলা আয়োজনের অনুমতির জন্য আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ 19 মার্চের মধ্যে তা বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদকে ৷ এতদিন মেলার দায়িত্ব পেয়ে এসেছেন মমতাবালা ও তাঁর অনুগামীরা ৷ এবার সেই মেলার দায়িত্ব পেতে মরিয়া শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা ৷ আদালতের নির্দেশে এদিন জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল দু'পক্ষ ৷
এই বিষয়ে মমতাবালার মেয়ে ও বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, "গতবার মেলা শেষে মায়ের ঘরে তালা মেরে দেওয়া হয়েছিল ৷ তা নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছিল ৷ এবার যাতে এরকম কিছু না হয়, তা নিয়ে শান্তনুদা ও সুব্রতদার সঙ্গে কথা বলব ৷ চেষ্টা করব, একসঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠুভাবে মেলার আয়োজন করতে ৷ আমরা একই পরিবারের বংশধর ৷ ভোটের সময়েও আমি দাদাদের আশীর্বাদ চেয়েছিলাম ৷ আবারও দাদাদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে মতুয়া মেলা একসঙ্গে করা যায় ৷"
এদিকে, শান্তনু ঠাকুরের প্রতিনিধি মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দুরাম গাইন বলেন, "নতুন আইনের ভিত্তিতে মেলার অনুমতি পাওয়ার অধিকার শান্তনু ঠাকুরের ৷ মেলা আয়োজনের সমস্ত কাগজপত্রও রয়েছে আমাদের কাছে ৷ শুনানি শেষ হয়েছে ৷ বাকিটা প্রশাসনের ব্যাপার ৷ আইন আইনের মতো চলবে ৷" সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে তবেই মেলা পরিচালনা করা উচিত, মনে করছেন বিজেপি সাংসদের প্রতিনিধি ৷ তবে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে ৷

