ETV Bharat / state

ভাঙা বেড, নেই ওষুধ; সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্দশার ছবি মালতিপুরে

মাথার উপর ফ্যান থাকলেও ঘোরে না ৷ ওআরএস পর্যন্ত কিনে আনতে হচ্ছে বাইরে থেকে ৷ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্দশার ছবি মালতিপুরে ৷

MALDA MALATIPUR HOSPITAL
মালতিপুর হাসপাতাল (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2025 at 8:56 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 4 জুলাই : রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমগ্র দেশের মধ্যে উপরের দিকেই রয়েছে ৷ তাঁর আমলে বিশেষ করে এই রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় যে উন্নতি হয়েছে, তা আগে কখনও কল্পনা করা যায়নি ৷ একই দাবি করে থাকেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে দলের নেতা-নেত্রীরা ৷ এই অবস্থায় চাঁচল 2 নম্বর ব্লকের মানুষজন প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সেই উন্নয়ন কি এই ব্লকে এসে থমকে গিয়েছে ?

মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন এবং সংবাদমাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না এই ব্লকে ৷ তাঁদের দাবি, রাজ্যের অন্য জায়গার সঙ্গে এই ব্লকেও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রকৃত উন্নয়ন করা হোক ৷

সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্দশার ছবি মালতিপুরে (ইটিভি ভারত)

বেহাল হাসপাতাল

  • চাঁচল 2 নম্বর ব্লক হাসপাতালটি মালতিপুরে ৷ সেই মালতিপুর গ্রামীণ হাসপাতালের পরিস্থিতি সত্যিই শোচনীয় ৷ সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, নার্স কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরও অভাব রয়েছে ৷ নেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ৷ সামান্য স্যালাইন কিংবা ওআরএসও রোগীদের বাড়ির লোকজনকে বাইরের দোকান থেকে কিনে আনতে হয় ৷ হাসপাতালের ওয়ার্ডের ছাদে ফ্যান ঝুলছে ৷ কিন্তু দু'একটি ছাড়া বাকিগুলি ঘোরে না ৷ বেডগুলি জরাজীর্ণ ৷ সেই ভাঙাচোরা বেডের বদলে মাটিতে শুয়ে রোগীরা ৷
  • বেড ভেঙে পড়ার ভয় তো আর থাকে না ! হাসপাতাল জুড়ে আবর্জনা ৷ বাইরে এবং ভিতরেও ৷ হাসপাতালের বারান্দাতেই দাঁড় করানো একাধিক মোটর বাইক ৷ যেন সেটা পার্কিং প্লেস ৷ এসব নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষজন ৷

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় জামালপুর গ্রামের আবদুল জাব্বারের প্রশ্ন, দিদির উন্নয়ন কি তবে মালতিপুর গ্রামীণ হাসপাতালে এসে থমকে গিয়েছে ? দিদি তো স্বাস্থ্য পরিষেবায় এত টাকা খরচ করছেন ৷ তাহলে টাকাটা যাচ্ছে কোথায় ? আমার স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ তাঁর বমি-পায়খানা থামছে না ৷ কিন্তু হাসপাতালে এই সামান্য সমস্যার ওষুধও নেই ৷ আমাকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে ৷ সরকারি হাসপাতাল থাকতে আমি কেন বাইরে থেকে ওষুধ কিনব ? শুধু ওষুধ নয়, স্যালাইনও আমাকে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে ৷ ওয়ার্ডে ফ্যান নেই ৷ এই গরমে রোগীদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে ৷"

MALDA MALATIPUR HOSPITAL
ভাঙাচোরা বেড (ইটিভি ভারত)

জাব্বার সাহেবের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে এলাকার জিতালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার ওঁরাও ৷ তাঁর বক্তব্য, "এখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা বলতে বাথরুমটা রয়েছে ৷ সেখানে আবার যেখানে সেখানে রক্ত পড়ে রয়েছে ৷ কিন্তু বাথরুম থেকে জল বেরোনোর ব্যবস্থা নেই ৷ হাসপাতালে দু'একটা ফ্যানই ঘুরতে দেখা যায় ৷ সেই ফ্যানের হাওয়া কেউ পায়, কেউ আবার এই গরমে না-ঘুমিয়েই রাত পার করে দেয় ৷ অনেক বেডে বিছানা নেই ৷ এখানে বেশিরভাগ ওষুধই রোগীদের পরিবারকে কিনে দিতে হয় ৷ দু'দিন ধরে এখানে স্যালাইন নেই ৷"

কংগ্রেসের বক্তব্য

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জেলা তৃণমূল সভাপতির মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই হাসপাতাল যে অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে তা ভালোই বোঝা গিয়েছে ৷ মালতিপুর ব্লক যুব কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ ইব্রাহিমের কথায় ৷ তিনি বলেন, "এই হাসপাতালের অবস্থ্য খুবই শোচনীয় ৷ এখানে আসা রোগীদের পরিবার একাধিকবার আমাদের অভিযোগ জানিয়েছে, এখানে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না ৷ বেড সেভাবে নেই ৷ এই গরমেও অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক ফ্যান নেই ৷ 95 শতাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে ৷ এখানকার বিধায়ক এই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ৷ হাসপাতালের উন্নয়নে তাঁর কোনও ভূমিকা আমাদের চোখে পড়েনি ৷ আমরা চাই, এই হাসপাতাল থেকে মানুষ ভালো পরিষেবা পাক ৷"

বিধায়ক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য

  • এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে মালতিপুরের বিধায়ক, এই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের মালদা জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বক্সি জানান, মালতিপুর গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নতির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে ৷ আশা করা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সমস্যা মিটে যাবে ৷ তবে এনিয়ে বিরোধীদের কোনও কথা শুনতে তিনি রাজি নন ৷
  • চাঁচল 2 নম্বর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সৈয়দ ইকবাল জানান, হাসপাতালে ওষুধ থাকতেও রোগীদের দেওয়া হয় না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যে ৷ তবে কিছু ওষুধ সবসময় হাসপাতালে মজুত থাকে না ৷ সেই ওষুধ রোগীদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয় ৷ তবে বেড এবং ওয়ার্ড নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে ৷ সেই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি ৷ তবে কবে সেই কাজ করা হবে তা জানি না ৷ এখানে নার্সিং স্টাফ বাড়ানোর জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে ৷"