ETV Bharat / state

নাবালিকা ধর্ষণে তৃণমূল নেতার যাবজ্জীবন ! একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় প্রথম সাজা

নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল মালদা জেলা আদালত ৷

ETV BHARAT
নাবালিকা ধর্ষণে যাবজ্জীবন তৃণমূল নেতার (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2025 at 7:57 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 4 জুলাই: নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় প্রথম সাজা ঘোষণা হল বাংলায় ৷ শুক্রবার মালদা জেলা আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে ৷ এক নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় এদিন প্রাক্তন শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছেন মালদা জেলা আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত বিচারক রাজীব সাহা ৷ একইসঙ্গে, ওই নেতাকে 50 হাজার টাকা জরিমানা ও নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক ৷

ঘটনাটি ঘটেছিল 2021 সালের 4 জুন ৷ নির্যাতিতা ন’বছর বয়সি নাবালিকার বাবা সেই সময় শিলিগুড়ির একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন ৷ সেদিন সেই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার 11 বছর বয়সি এক তুতো বোনের সঙ্গে বাড়ির কাছেই একটি আমবাগানে খেলছিল ৷ সেই বাগানটি স্থানীয় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের ৷ বাগানের পাশেই তাঁর বাড়ি ৷ এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত তিনি ৷ অভিযোগ, সুযোগ বুঝে ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ৷ নাবালিকার পরিবার বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ওই তৃণমূল নেতা এই কাজ করেছিল বলে এখনও মনে করেন এলাকার মানুষজন ৷

ETV BHARAT
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা (নিজস্ব চিত্র)

এই ঘটনায় 5 জুন নির্যাতিতার মা স্থানীয় থানায় ওই প্রাক্তন শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ ঘটনার পুলিশি তদন্ত শুরু হয় ৷ এই ঘটনাকে একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা হিসাবেই দেখানো হয় ৷ তারই ভিত্তিতে সিবিআইকে এই মামলার তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ 2022 সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই মালদা জেলা আদালতে এই মামলার চার্জশিট পেশ করে ৷

মোট 22 জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর গত বুধবার মালদা জেলা আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত বিচারক রাজীব সাহা 66 বছর বয়সি ওই তৃণমূল নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেন ৷ এদিন অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান বিচারক ৷

সিবিআইয়ের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র এদিন বলেন, “একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে 55টি ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা হয়েছিল ৷ কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশ দিয়েছিল ৷ এই 55টি মামলার মধ্যে প্রথম মামলার রায় আজ ঘোষিত হয়েছে ৷ এটা পকসো মামলা ৷ এই মামলায় অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও 50 হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে ৷ একইসঙ্গে বিচারক নির্যাতিতার অভিভাবকদের স্টেট ফান্ড থেকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ৷ 22 জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচারক অভিযুক্তকে গত বুধবার দোষী চিহ্নিত করেছিলেন ৷ আজ সাজা ঘোষণা করেছেন ৷ আমরা সর্বোচ্চ সাজার দাবি করেছিলাম ৷ কিন্তু সমাজের কথা চিন্তা করে বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন ৷”

তৃণমূলের মালদা জেলা মুখপাত্র আশিস কুণ্ডুর দাবি, “যে অভিযুক্তের কথা বলা হচ্ছে সে কোনওদিনই তৃণমূলের নেতা ছিল না ৷ হয়তো সে তৃণমূলের সমর্থক হয়ে থাকতে পারে ৷ বিরোধীরা এখন তাকে নেতা বানিয়ে তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে ৷ কিন্তু ওদের এই অপপ্রচেষ্টা কখনওই সফল হবে না ৷”