তাইকোন্ডর রাজ্য স্কুল ক্রীড়ায় সোনা জয়, ন্যাশনাল গেমসে সুযোগ পেল মালদার অঙ্কুশ
বাবা বিস্কুটের হকার ৷ নিম্নবিত্ত পরিবার অঙ্কুশ রায়ের ৷ তার ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য বাবা-মা সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন ৷

Published : August 30, 2025 at 4:43 PM IST
মালদা, 30 অগস্ট: কলকাতায় আয়োজিত 69তম স্টেট লেভেল স্কুল গেমসে তাইকোন্ড প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য পেল পুরাতন মালদার এক পড়ুয়া ৷ ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল ফর স্কুল গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস-এর উদ্যোগে 24 থেকে 26 অগস্ট কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আয়োজিত হয় এই প্রতিযোগিতা ৷ তার অনূর্ধ্ব-17 বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করল অঙ্কুশ রায় ৷
একইসঙ্গে আগামী অক্টোবরে অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে আয়োজিত হতে চলা স্কুল ভিত্তিক ন্যাশনাল গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়েছে সে ৷ তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা-মা-সহ এলাকার মানুষজন ৷

অঙ্কুশের বাড়ি পুরাতন মালদা পুরসভার 5 নম্বর ওয়ার্ডের তৈলমুণ্ডই পাড়ায় ৷ বাবা অভিজিৎ রায় পেশায় বিস্কুটের হকার ৷ প্রতিদিন সকালে স্থানীয় একটি বেকারি থেকে বিস্কুট নিয়ে ফেরি করতে বেরিয়ে যান তিনি ৷ অঙ্কুশের মা পদ্মা রায় বাড়ির কাজকর্ম সামলান ৷ অভাবের সংসারেও অভিজিৎ ও পদ্মা ছোট থেকে ছেলেকে তাইকোন্ড প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন ৷
গত দু'বছর ধরে তাইকোন্ড প্রশিক্ষক কৃষ্ণ বাঁশফোরের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অঙ্কুশ ৷ এর আগেও অঙ্কুশ বিভিন্ন তাইকোন্ড প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার পেয়েছে ৷ কিন্তু এবার ন্যাশনাল গেমসে সুযোগ পাওয়ায় এখন তার বাবা-মা'র একটাই দুশ্চিন্তা, ইটানগর যাতায়াতের টাকা পাবেন কোথায়? ছেলের ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য তাঁরা সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন ৷
পদ্মা রায় বলেন, "আমার ছেলে কলকাতায় খেলতে গিয়েছিল ৷ সেখানে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক নিয়ে ফিরেছে ৷ ওর এই সাফল্যের জন্য আমাদের খুব ভালো লাগছে ৷ তবে আমরা আর্থিকভাবে ভীষণ দুর্বল ৷ কেউ সাহায্য করলে ছেলেটা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে ৷ আরও সফল হবে ৷ তবে ওর এই সাফল্যের পিছনে কৃষ্ণ স্যারের অবদান সবচেয়ে বেশি ৷ তাঁর প্রশিক্ষণে না-থাকলে ছেলে হয়তো এতটা এগোতে পারত না ৷ এর জন্য কৃষ্ণ স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷ তিনি আমার ছেলেকে আশীর্বাদ করুন যেন ও ভবিষ্যতেও সাফল্য পায় ৷ ন্যাশনালেও সফল হতে পারে ৷"
অঙ্কুশ বলে, "কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ স্কুল গেমসে আমি স্বর্ণপদক পেয়েছি ৷ একইসঙ্গে আমি ন্যাশনাল স্কুল গেমসেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি ৷ রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে ৷ এর জন্য আমি কৃষ্ণ স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ৷ তাঁর জন্যই আমি আজ এই পদক পেয়েছি ৷ তিনি যেভাবে আমাকে দিন-রাত প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সেটা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না ৷ কৃষ্ণ স্যার আর বাবা-মা'র সহযোগিতা না-থাকলে আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছোতে পারতাম না ৷ তাঁদের সবাইকে আমি প্রণাম জানাই ৷"
এলাকার বাসিন্দা দীপক বাগচী বলেন, "আমাদের পাড়ার অঙ্কুশ অনেকদিন ধরে তাইকোন্ড প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ৷ চার বছর ধরে ও এই খেলার সঙ্গে যুক্ত ৷ এবার সে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পেয়েছে ৷ ন্যাশনালেও সুযোগ পেয়েছে ৷ ওদের বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল ৷ ওর বাবা হকারি করেন ৷ দিন আনি দিন খাই পরিবার ৷ ওল্ড মালদার বাসিন্দা হিসাবে সবার কাছে আমার আবেদন, যে যেভাবে পারেন ওকে সাহায্য করুন ৷ ওকে আশীর্বাদ করুন যেন ও এর থেকেও বড় জায়গায় যেতে পারে ৷ আমরা সবাই অঙ্কুশের জন্য গর্বিত ৷ ওর আরও সাফল্য কামনা করছি ৷"

