ভুয়ো নথি বানিয়ে প্রবাসী বাঙালির কোটি টাকার বাড়ি বিক্রি পরিচারিকার !
ছোট থেকে যে বাড়িতে মানুষ, সেই বাড়ির সদস্যরা প্রবাসে থাকার সুযোগে কোটি টাকায় বাড়িটি বিক্রি করলেন পরিচারিকা ৷ খবর পেয়ে থানার দ্বারস্থ প্রবাসী-পরিবার ৷

Published : March 18, 2025 at 8:12 PM IST
বোলপুর, 18 মার্চ: জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ শান্তিনিকেতনে নতুন নয়। এবার ভুয়ো আধার কার্ড ও বংশের নকল শংসাপত্র বের করে প্রবাসী বাঙালির বাড়ি-জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পরিচারিকার বিরুদ্ধে ৷ লিখিত অভিযোগ পেয়ে চন্দনা মাহারা নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ।
শান্তিনিকেতনের অ্যান্ড্রুজ পল্লিতে বিশ্বভারতীর প্রয়াত প্রাক্তন অধ্যাপক সৌরীন্দ্রনাথ মিত্র ও দেবশ্রী মিত্রের বাড়ি। এই বাড়িতেই পরিচারিকার কাজ করত চন্দনা ৷ অভিযোগ, বাড়ির মালিকদের মৃত্যুর পর 'মিত্র' পদবি নিয়ে নকল আধার কার্ড ও বংশের শংসাপত্র বের করে বাড়ি-জমি বিক্রি করে দেয় চন্দনা ৷ আমেরিকায় থাকতে এই খবর পান বাড়ির মালিকের ছেলে সৌম্যশঙ্কর মিত্র ৷ তারপর তিনি অভিযোগ দায়ের করেন ৷
মিত্র বাড়ির ইতিহাস :
বিশ্বভারতীর ইংরাজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন ডঃ সৌরীন্দ্রনাথ মিত্র ৷ 1985 সালে তিনি অবসর নেন ৷ শান্তিনিকেতনের অ্যান্ড্রুজ পল্লিতে প্রায় 10 কাঠা জমির উপর তিনি একটি বাড়ি করেছিলেন ৷ 1989 সালে তিনি প্রয়াত হন ৷ সেই সময় এই বাড়িতে থাকতেন তাঁর স্ত্রী দেবশ্রী মিত্র ও তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে । বাড়ির তিন সন্তানই এখন কর্মসূত্রে বাইরে ৷
প্রয়াত অধ্যাপক সৌরীন্দ্রনাথ মিত্রের ছেলে সৌম্যশঙ্কর মিত্র। তিনি যোগমায়াদেবী কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক । তিনি জানান, তাঁদের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে মালির কাজ করতেন বোলপুরের শ্রীনিকেতনের বাসিন্দা মন্টু মাহারা ৷ তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী মাহারাও এই বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন ৷ সেই সুবাদে তাদের বড় মেয়ে চন্দনা মাহারার এই বাড়িতে যাতায়াত ছিল ৷ বাড়ির মালিক সৌরীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর দেবশ্রী মিত্রের দেখভাল করতেন চন্দনা ৷ 2021 সালে কোভিডের সময় মৃত্যু হয় দেবশ্রীর ৷

মিত্র বাড়ির 'শত্রু' !
দেবশ্রীর মৃত্যুর পর থেকে বাড়িতে থাকত চন্দনা ও তাঁর স্বামী ৷ আগে উৎসব-অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে সৌম্যশঙ্কর মিত্র ও তাঁর দুই বোন মধুশ্রী মিত্র, ভাস্বতী মিত্র শান্তিনিকেতনের এই বাড়িতে আসতেন ৷ সদ্য সেসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ৷ কারণ, সৌম্যশঙ্কর মিত্র আমেরিকায় গিয়ে মেয়ের কাছে বসবাস করছিলেন ৷ অভিযোগ, সেই সুযোগ নিয়ে এই চন্দনা মাহারা নিজের নামের পদবী 'মিত্র' করে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করেন ৷ তাঁর আগের আধার কার্ডে 'মাহারা' পদবি রয়েছে । এমনকী স্কুল সার্টিফিকেটেও 'মাহারা' পদবি জ্বলজ্বল করছে। শুধু তাই নয়, বোলপুর পুরসভা থেকে 'মিত্র' পদবি নিয়ে চন্দনা মাহারা নিজেকে অধ্যাপক সৌরীন্দ্রনাথ মিত্রের একমাত্র কন্যা দাবি করে বংশধর শংসাপত্র বা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট বের করে নেন ৷ এগুলো নিয়ে অ্যান্ড্রুজ পল্লির বাড়িটি বিক্রি করে দেন ৷ জমি ও বাড়ির বর্তমান বাজার দর কমপক্ষে 1 কোটি টাকা ৷

আমেরিকায় বসে নিজেদের বাড়ি বিক্রি হয়ে গিয়েছে এই খবর পান প্রয়াত অধ্যাপক সৌরীন্দ্রনাথ মিত্রের ছেলে সৌম্যশঙ্কর মিত্র । তারপরেই তিনি শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ অভিযোগের ভিত্তি তদন্তে নামে পুলিশ ৷ চন্দনা মাহারা নামে ওই মহিলাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ।
এই বিষয়ে বাড়ির বর্তমান মালিক অধ্যাপক সৌম্যশঙ্কর মিত্র ফোনে ইটিভি ভারতকে বলেন, "আমাদের বাড়িতে ছোট থেকে বড় হয়েছে চন্দনা ৷ আমার বাবা ওকে খুব ভালোবাসতেন ৷ ওর বিয়েও দিয়েছিলেন। একটি বাড়িও করে দিয়েছিলেন ৷ আমার মায়ের মৃত্যুর পর নিজেকে আমার বাবার একমাত্র কন্যা দাবি করে বোলপুর পুরসভা থেকে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট বের করে । তারপর আমাদের বাড়ি বিক্রি করে দেয় । আমি জানতে পেরে আমার বোনকে বলি । তারপর থানায় অভিযোগ করি ।"

