বন্যপ্রাণ-পরিবেশ বাঁচাতে ফরেস্ট অফিসার হতে চায় মাধ্যমিকে অষ্টম পাপড়ি
মাধ্যমিকের সম্ভাব্য মেধাতালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে বর্ধমানের পাপড়ি মণ্ডল ৷ প্রাপ্ত নম্বর 688 ৷

Published : May 2, 2025 at 3:34 PM IST
বর্ধমান, 2 মে: মাধ্যমিক পরীক্ষায় 688 নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় রাজ্যের মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী পাপড়ি মণ্ডল । ভবিষ্যতে ফরেস্ট অফিসার হতে চায় পাপড়ি । পাশাপাশি ডাব্লুবিসিএস পরীক্ষাতেও বসার ইচ্ছাও তার আছে ।
বাংলায় 97, ইংরেজিতে 95, অংকে 100, জীবনবিজ্ঞানে 99, ভৌতবিজ্ঞানে 98, ইতিহাসে 99, ভূগোলে 100 নম্বর পেয়েছে এই ছাত্রী । তার বাবা দেবাশিস মণ্ডল পেশায় ব্যবসায়ী ৷ তার মা পূর্ণিমা মণ্ডল গৃহবধূ । এই ভালো ফলের পেছনে তার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি । এছাড়া কৃতিত্ব আছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও ।
পাপড়ি মণ্ডল ইটিভি ভারতকে বলে, ‘‘এগ্রিকালচার নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে । আসলে আমি ফরেস্ট অফিসার হতে চাই । কারণ, দেশে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে আসছে । গাছগাছালির সংখ্যা কমছে । তাই দেশের জন্য, পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য ফরেস্ট অফিসার হতে চাইছি ।’’
সে বেড়াতে যেতে ভালোবাসে৷ কিন্তু পড়াশোনার চাপে যাওয়া হয় না বলেই পাপড়ি জানিয়েছে ৷ কেমন সেই চাপ ? সেই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পাপড়ির ভবিষ্যত পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি উত্তরে ৷ সে বলছে, ‘‘আপাতত পাখির চোখ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করা ।’’

যদিও সারাক্ষণ যে সে পড়াশোনা নিয়ে থাকে, এমনটাও নয় ৷ কিছুটা অবসর সে রোজই পেত ৷ সেই সময় তার কাটত কীভাবে ? উত্তরে পাপড়ি বলেছে, ‘‘অবসর সময় কাটাতাম ডিটেকটিভ বই, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই পড়ে ।’’ তাছাড়া ক্রিকেট দেখতেও ভালোলাগে পাপড়ির ৷ আইপিএল না-দেখলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দেখেছে বলেও জানিয়েছে সে ৷ দেশ-দশের পক্ষে সে খবর রাখে ৷ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ করেছে সে ৷ একই সঙ্গে সে মনে করে, যুদ্ধ হলে মধ্যবিত্ত জীবনে প্রভাব পড়তে পারে ৷

এত ভালো ফল করার জন্য কীভাবে পড়াশোনা করা উচিত ? পাপড়ির উত্তর, ‘‘ভালো ফল করতে গেলে প্রতিটা বিষয়কে খুঁটিয়ে পড়া খুব দরকার । একাধিক বই জোগাড় করে নোট তৈরি করতে হবে । প্রতিদিন ঘড়ি ধরে অংক প্র্যাকটিস করতে হবে । তবেই সাফল্য আসবে ।’’

পাপড়ির মা পূর্ণিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘ছোট থেকেই পাপড়ি ছিল খুব জেদি । যা বলতাম, সব কিছু উলটো করতো । সেই জন্য মারও খেয়েছে আমার কাছে । পরে ওকে বুঝিয়ে বললে সব কিছু করতো । তবে পড়ার জন্য ওকে কোনোদিন বলতে হয়নি । ওর যখন ভালো লাগতো পড়তে বসতো । ও ভালো রেজাল্ট করবে সেটা আশা করেছিলাম । খুঁটিয়ে বই পড়াতেই এই সাফল্য এসেছে ।’’

