ETV Bharat / state

কসবায় ছেলেকে খুন করে দম্পতির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ধৃত লোন রিকোভারি এজেন্ট

এই ঘটনায় এই নিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷ আরও কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷

KOLKATA POLICE
লালবাজার (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 8, 2025 at 3:07 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 মার্চ: কসবা-কাণ্ডে আরও একজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ ৷ ধৃতের নাম সোমশুভ্র মণ্ডল । তাঁকে দক্ষিণ 24 পরগনার সোনারপুর থেকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা ৷ কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "ইনি একজন লোন রিকভারি এজেন্ট । তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনায় আর কারা কারা যুক্ত আছে তা চিহ্নিত করব ৷"

গত মঙ্গলবার কসবা থানা এলাকার পূর্বপল্লীর হালতু রথতলায় একটি বাড়ি থেকে তিনটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ৷ এক দম্পতি তাঁদের আড়াই বছরের নাবালক পুত্রকে নিয়ে নিজেদের জীবন শেষ করে দেন ৷ পুলিশ দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখে সোমনাথ রায়ের সঙ্গে তাঁর ছেলের দেহটি বাঁধা ৷ ওই অবস্থায় তাঁর দেহ ঝুলছে৷ পাশেই ঝুলছে সোমনাথের স্ত্রী সুমিত্রার দেহ ৷

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সোমনাথ ও সুমিত্রার আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে আসে ৷ তবে তার আগে তাঁরা নাবালক পুত্রকে হত্যা করেছিলেন বলে জানতে পারেন ৷ তদন্তে নেমে দেহ উদ্ধারের দিনই পুলিশ সোমনাথের মামা-মামীকে গ্রেফতার করে ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে সোমনাথ-সুমিত্রাকে মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ৷ সেই চাপের জেরেই তাঁরা চরম পদক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ৷

Kasba Triple Death Case
ধৃত সোমশুভ্র মণ্ডল (নিজস্ব চিত্র)

ধৃতদের জেরা করে ঋণের বিষয়টি সামনে আসে ৷ সেই সূত্রেই আসে চঞ্চল মুখোপাধ্যায় নামে এক লোন রিকোভারি এজেন্টের নাম ৷ তাঁকে প্রথমে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ ৷ চঞ্চলকে জেরা করে সোমশুভ্র মণ্ডলের বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ ৷ লালবাজার সূত্রের খবর, মৃত সোমনাথ রায়কে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে লক্ষাধিক টাকার লোন করে দিয়েছিলেন সোমশুভ্র । তার পরিবর্তে মোটা অংকের কমিশন নিজের কাছে রেখেছিলেন তিনি । ফলে ঋণের পুরো টাকা না পেলেও সুদ পুরোটাও দিতে হচ্ছিল সোমনাথকে ৷

আর্থিক অনটনের কারণে সুদের টাকা ঠিকমতো দিতে পারছিলেন না সোমনাথ ৷ সেই কারণে তাঁর উপর লাগাতার চাপ দেওয়া হয়েছে ৷ সেই চাপের জেরেই তাঁর ও তাঁর পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে ৷ আপাতত পুলিশ খুঁজে দেখছে তাঁদের এই পরিণতির পিছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না !