ফের বেপরোয়া গতির বলি বন্যপ্রাণ, গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু চিতাবাঘের
ফের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল বন্যপ্রাণীর ৷ রাস্তা পার হতে গিয়ে মৃত্যু হল চিতাবাঘের ৷ এর আগেও একইভাবে প্রাণ গিয়েছে হাতির ৷

Published : August 5, 2025 at 1:53 PM IST
আলিপুরদুয়ার, 5 অগস্ট: ফের গতির বলি বন্যপ্রাণ। রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল চিতাবাঘের। ঘটনাটি ঘটে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট ব্লকের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি জঙ্গলের কাছে ৷ সোমবার রাতে অসম-শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কের উপর একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে ছুটছিল ৷ তখনই রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাণ যায় পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘটির ৷
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা পার হওয়ার সময় চিতাবাঘটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তীব্র গতিতে যাওয়া কোনও গাড়ি ধাক্কা দেয় চারপেয়টিকে ৷ ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় চিতাবাঘটির। মৃত্যুর খবর পেয়ে বনকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছন ৷ মৃত চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান ৷ আজ (মঙ্গলবার) চিতাবাঘের ময়নাতদন্ত করা হবে ৷
এই ঘটনায় জলদাপাড়া বন্যপ্রানী বিভাগের ডিএফও প্রবীণ কাসওয়ান বলেন, "ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ ও বন দফতর যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করেছে। এই ধরনের ঘটনা আটকাতে বনকর্মীদের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে ৷ উল্লেখ্য, 2021 সালে মাদারিহাটের ওই সরকারি করাত কলের কাছে 48 নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে একটি চলন্ত লরির ধাক্কায় একটি হাতির মৃত্যু হয়েছিল। চার বছর পর আবার একটি গাড়ির গতির বলি হল একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘের ৷

ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্য়াসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, "এক বছর আগে হলং ও তোর্সা নদীর মাঝখানে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য এলাকায় চিতাবাঘ মারা গিয়েছিল ৷ এছাড়াও বাইসন-সহ অন্যান্য প্রাণীর প্রাণ একইভাবে চলে গিয়েছিল ৷ জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে চিতাবাঘ সংখ্যায় খুব কম ৷ এরা মারা গেলে জঙ্গলের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়ে পড়ে ৷ যেহেতু আমাদের জঙ্গলে বড় বাঘ (রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার) নেই, তৃণভোজী ও মাংশাসী প্রাণীদের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে চিতাবাঘের ভূমিকা অনেক ৷"
তিনি আরও বলেন, "আমরা গাড়িচালকদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা যখন কোনও জাতীয় উদ্যান অভয়ারণ্য বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করবেন তখন আপনাদের গাড়ির গতিবেগ যেন কম করে দেন ৷ যাতে এই সকল বন্যপ্রাণীর অঘোরে প্রাণ না-যায় ৷ আমরা বন দফতরের সঙ্গে কথা বলে, যৌথভাবে যেসব অঞ্চল দিয়ে বন্যপ্রাণী চলাচল করে সেখানে হোর্ডিং লাগানোর ব্যবস্থা করব ৷"

