ETV Bharat / state

হেঁটে ঘুরে দেখেন শান্তিনিকেতন, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মানও আচার্য মনমোহন সিংয়েরই অবদান

শান্তিনিকেতনের সংস্কার কাজে 100 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ৷ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে হেঁটে ঘুরে দেখেছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ৷

MANMOHAN SINGH
2008 সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আচার্য মনমোহন সিং ৷ (ছবি - সংগৃহীত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 27, 2024 at 5:58 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বোলপুর, 27 ডিসেম্বর: আজ শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ'। তবে, কবিগুরুর সাধের শান্তিনিকেতনের এই সম্মান একদিনে আসেনি ৷ এর বীজ বপন হয়েছিল 2008 সালের সালের 6 ডিসেম্বর ৷ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসে 100 কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেছিলেন ৷ সেই টাকায় বিশ্বভারতীর বহু প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়েছিল ৷

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঘোষিত টাকা বরাদ্দ করেছিলেন তৎকালীন যোজনা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রণব মুখোপাধ্যায় ৷ সেই টাকায় সংস্কার হয়েছিল প্রাচীন শান্তিনিকেতন গৃহ থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ভবন ও ভাস্কর্যগুলি ৷ উল্লেখ্য, 2008 সালের ওইদিনে অন্য আচার্যদের মতো গাড়িতে চড়ে নয়, বরং পায়ে হেঁটে আশ্রম ঘুরে দেখেছিলেন তিনি ৷ সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি ৷

শান্তিনিকেতনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মানে অবদান আচার্য মনমোহন সিংয়ের ৷ (ইটিভি ভারত)

প্রাক্তন আচার্যের সেই অবদান আজও স্মরণ করেন শান্তিনিকেতনবাসীরা ৷ আর তাঁর প্রয়াণে আরও বেশি করে মনমোহন সিংয়ের অবদানকে মনে করছেন তাঁরা ৷ শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, "ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতনে আচার্য মনমোহন সিংয়ের অবদান অনেক ৷ তিনিই সমাবর্তনে শান্তিনিকেতনে এসে 100 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন ৷ যা দিয়ে শুরু হয়েছিল আশ্রম সংস্কার ৷ জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধির পর, তাঁর মতো আচার্য আর দেখিনি আমার জীবনে ৷"

Manmohan Singh
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন আচার্য মনমোহন সিং, সঙ্গে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি ৷ (ছবি - সংগৃহীত)

2004 সালে ভারতের 13তম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিং ৷ পদাধিকার বলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর আচার্য হন তিনি ৷ 2008 সালের 6 ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন তিনি ৷ সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন যোজনা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রণব মুখোপাধ্যায়, রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী ৷

গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে শান্তিনিকেতন গৃহে এসেছিলেন তিনি ৷ পরে আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ৷ এই অনুষ্ঠানেই প্রখ্যাত শিল্পী কেজি সুব্রহ্মণ্যম 'অবন-গগন' পুরষ্কার দেওয়া হয়েছিল ৷ ঘুরে দেখেছিলেন রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা ৷ সেখানে সাদা ক্যানভাসে আজও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে ৷

Manmohan Singh
তৎকালীন ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (পিছনে) সঙ্গে আচার্য মনমোহন সিং ৷ (ছবি - সংগৃহীত)

সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ও আচার্য মনমোহন সিংয়ের শান্তিনিকেতন সফরের একাধিক ছবি তুলেছিলেন রবীন্দ্রভবনের তৎকালীন চিত্রগ্রাহক সমীরণ নন্দী ৷ তিনি বলেন, "শান্ত স্বভাবের মানুষটি গুরুদেবকে শ্রদ্ধা জানাতে গাড়িতে নয়, পায়ে হেঁটে শান্তিনিকেতন গৃহে এসেছিলেন ৷ খোঁজ নিচ্ছিলেন খুঁটিনাটি বিষয়ে ৷ তারপরেই একশো কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেছিলেন ৷ সঙ্গে ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় ৷ তাঁর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন ৷ প্রণববাবু সেই সময় যোজনা কমিশনের চেয়ারম্যান ৷ তিনিই টাকা বরাদ্দ করেছিলেন ৷ আমি ছবি তোলার সুবাদে তাঁর খুব কাছেই ছিলাম ৷ তাই বুঝেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে তাঁর জানার কতটা ইচ্ছে ছিল ৷"

আজ শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কো 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' তকমা দিয়েছে ৷ সেদিন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বরাদ্দের টাকায় প্রাচীন শান্তিনিকেতন গৃহ-সহ ঐতিহ্যবাহী ভবন, ভাস্কর্যগুলি সংস্কার শুরু হয়েছিল ৷ আশ্রম ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছিল ৷ ঐতিহ্য সংরক্ষণের সেই কাজের ফল হিসেবেই ইউনেস্কোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' সম্মানে সম্মানিত কবিগুরুর শান্তিনিকেতন ৷

প্রাক্তন আচার্যের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপনে পৌষমেলার মঞ্চে সবরকম অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ৷ এর পাশাপাশি মনমোহন সিংয়ের স্মরণে আগামী 30 ডিসেম্বর উপাসনা গৃহে 'বিশেষ উপাসনা' করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ ৷