লালবাজারে সিপির সঙ্গে কথা, খুনের মামলা যাদবপুরে মৃত ছাত্রীর পরিবারের
ছাত্রীমৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে মৃতের মোবাইল ফোনও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷ বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে তাঁর বাবা-মায়ের ৷

Published : September 15, 2025 at 6:20 PM IST
|Updated : September 15, 2025 at 7:43 PM IST
কলকাতা, 15 সেপ্টেম্বর: যাদবপুরে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার খুনের মামলা দায়ের । ইতিমধ্যেই মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা আজ কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন । পরে সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা সোজা চলে যান যাদবপুর থানায় । লালবাজার সুত্রে খবর, ইতিমধ্যেই মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে খুনের মামলা করেছে । তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে ৷
এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসছে । মৃত ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়ে কখনও নিজের ব্যাগ হাতছাড়া করত না । কিন্তু ঘটনার দিন অনামিকার ব্যাগ তাঁর এক বন্ধুর কাছে ছিল । পাশাপাশি তাঁর পরিবার জানায়, অনামিকা অন্ধকারকে ভয় পেত । তাঁর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অন্ধকারকে ভয় পাওয়া তাঁদের মেয়ে কীভাবে ওই অন্ধকার গলিতে গেলেন । এছাড়াও তিনি সাঁতার জানতেন না । এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর এখনও অধারা ৷ ফলে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লালবাজারে কথা বলেন কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা । পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে কেউ বা কারা জলে ঠেলে ফেলে দিয়েছে । সেই কারণেই অনামিকার পরিবার পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছে যে, তাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে ।

এদিকে, যাদবপুরের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যু ঘটনায় এবার তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাত পড়ুয়া ৷ তদন্তে নেমে রবিবার ওই সাতজন ছাত্রকে তলব করে কলকাতা পুলিশ । এর মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা । তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয় । বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিনে যাঁরা প্রথমে অনামিকাকে জলাশয় থেকে উদ্ধার করেছিলেন, তাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু । ফলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন তদন্তকারীরা । এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের দ্বিতীয় চাবিকাঠি হল মৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন । সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, "ঘটনার আগে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তা জানার জন্য ফোনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এছাড়াও মৃতের অভিভাবকের সঙ্গেও কথা বলে আলাদাভাবে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে ৷"
গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকা জলাশয় থেকে তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী অনামিক মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয় ৷ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তিনদিনের সাংস্কৃতিক উৎসব 'রুহানিয়াত'-এর আয়োজন করা হয়েছিল ৷ তার শেষ দিনে এই দুর্ঘটনা ঘটে । রাত 10টা নাগাদ অনামিক মণ্ডল শৌচালয়ের দিকে গিয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে । এরপর রাত 10টা 20 মিনিটে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজি ভবনের কাছে জলাশয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় । দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ।
লালবাজার সূত্রে খবর, ঘটনার পরই জলাশয়ের পাড় থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন । ওই জলাশয়ের গভীরতাও মাপা হয় । গ্রিলহীন অংশ দিয়ে দুর্ঘটনাবশত জলাশয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না লালবাজারের গোয়েন্দারা । কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতা নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ।
অনামিকার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলছে জোরকদমে । তবে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে তা জানতে আপাতত ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দেওয়া রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা ।

