ETV Bharat / state

'রহস্যময়ী' শান্তার দুই সাগরেদকে গ্রেফতার লালবাজারের

'রহস্যময়ী' শান্তা পালের সাগরেদ এবার লালবাজারের জালে ৷ নৈহাটি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ৷ পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় ৷

ETV BHARAT
শান্তা পালের সাগরেদ গ্রেফতার (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 5, 2025 at 1:29 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 5 অগস্ট: কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালের দু’জন সাগরেদকে এবার গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা । গতকাল রাতে তাঁকে উত্তর 24 পরগনার নৈহাটি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় । ধৃতের নাম সৌমিক দত্ত (30)। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷

এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "এই সৌমিকের সঙ্গে শান্তা পালের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল । শান্তার গতিবিধির সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল সৌমিক । এছাড়াও শান্তাকে জেরা করে আমরা জানতে পেরেছি, ভারতে থাকার যাবতীয় নথিপত্র এই সৌমিক তাকে করিয়ে দিয়েছিল । ফলে সৌমিকের সঙ্গে দুষ্কৃতীদেরও যোগাযোগ থাকতে পারে । এছাড়া সৌমিক কীভাবে একজন বাংলাদেশিকে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার যাবতীয় তথ্য এবং নথিপত্র সংগ্রহ করে দিল সেই বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে । ধৃত সৌমিককে আমরা নিজেদের হেফাজতে চাইব । তাকে জেরা করে আশা করছি এই ঘটনায় আরও সাফল্য পাওয়া যাবে ৷"

গতকাল রাতে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার গোয়েন্দারা উত্তর 24 পরগনার নৈহাটি থানার আওতাধীন অটল বিহারী রোডের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে সৌমিককে গ্রেফতার করে । লালবাজার সূত্রে খবর, সৌমিকের কাছ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে । তবে শান্তা পালকে শুধুমাত্র সৌমিক দত্তই সাহায্য করেছিল, তেমনটা মানতে নারাজ তদন্তকারীরা । লালবাজারের দাবি, শুধু সৌমিক দত্ত নয়, বরং এরকম বহু সৌমিক দত্ত শান্তাকে সাহায্য করেছিল । এখন শান্তা পালকে জেরা করে তার কথাবার্তা এবং বয়ানের সঙ্গে ধৃত সৌমিকের বয়ান যাচাই করে নিতে চাইছেন তদন্তকারীরা ।

ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, শান্তা পাল এই ঘটনার আগে পাকাপোক্তভাবে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণিত করার জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক সরকারি জায়গায় তার নাম নথিবদ্ধ করিয়েছে । ঠিক যেমন কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার জন্য তিনি নাকি একটি সংস্থাকে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার বরাত দিয়েছিলেন । তবে শান্তার অভিযোগ, তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কয়েক লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পরেও তার ফ্ল্যাটের কোনও রকমের অন্দরসজ্জার কাজ শুরু করেনি ওই সংস্থা । ফলে তিনি স্থানীয় ঠাকুরপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করিয়েছিলেন । এমনকি নিজেকে ভারতীয় বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে সে ৷ পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি যাতে এফআইআর-এ পরিণত হয় তার জন্য অগ্রিম চিঠি দেওয়া হয়েছিল ঠাকুরপুকুর থানাকে ।

শান্তা পালের এই রহস্যজনক ভূমিকার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে । এখনও পর্যন্ত শান্তা পাল কাণ্ডে সে-সহ মোট দু'জনকে গ্রেফতার করতে পেরেছেন তদন্তকারীরা । কিছুদিন আগে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় শান্তা পাল । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, সে পাসপোর্টের আবেদন করেছিল কিন্তু পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় এবং তার অসংলগ্ন কথাবার্তার ফলে স্থানীয় পার্ক স্ট্রিট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয় । সেই ঘটনার ভিত্তিতে দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিন থানার আওতাধীন বিক্রমগড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শান্তাকে গ্রেফতার করেছিল পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশ । পরে ঘটনার তদন্তভার চলে যায় লালবাজারের গুন্ডা দমন শাখার হাতে ।