মহানগরে প্রায় 100 বড় গাছ কাটবে পুরনিগম, কেন এই সবুজ নিধন ?
একশোর কাছাকাছি গাছকে নানা কারণে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৷ সেগুলো কেটে ফেলার জন্য বন দফতরের কাছে চিঠি দিতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম ।

Published : August 3, 2025 at 6:24 PM IST
কলকাতা, 3 অগস্ট: শহর জুড়ে 100-র কাছাকাছি বড় গাছ কাটতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম ৷ এই গাছগুলি কাটার জন্য খুব শীঘ্র বন দফতরের কাছে অনুমতি চেয়ে পুর কর্তৃপক্ষ আবেদনও করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে ৷
বিগত কয়েক বছরে সবুজের আচ্ছাদন ফিকে হয়েছে মহানগরে । সেই সবুজ ঝলমলে প্রাণোচ্ছ্বল ছবি ফেরাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা পুরনিগমের উদ্যান বিভাগ । জোরকদমে চলছে সেই কাজ । আর এই আবহেই এবার কমবেশি 100টি বড় গাছ কলকাতার রাজপথ থেকে কেটে ফেলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে ৷ ভবিষ্যতে এই গাছ কাটার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর । আর এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, কেন শহরের এতগুলো গাছ কেটে ফেলার মতো এমন আবেদন করার পদক্ষেপ শুরু করেছে পুরনিগমের উদ্যান বিভাগ ?

পুরনিগম সূত্রে খবর, আসলে যে 100-র কাছাকাছি গাছ কাটার জন্য আবেদন করা হবে বলে তালিকা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ, সেগুলির এই মুহূর্তে অতি বিপজ্জনক অবস্থা । যে কোনও মুহূর্তে এই গাছগুলি ভেঙে পড়তে পারে । ভেঙে পড়ে ঘর, বাড়ি কিংবা পাঁচিল, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । আরও বড় আশঙ্কা গাড়ির উপর বা মানুষের উপর পড়লে প্রাণহানি ঘটনার । গাছগুলি আসলে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

সম্প্রতি হাওড়া শহরে ও দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে গাছ পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে । এর পরেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরনিগমের উদ্যান বিভাগকে নির্দেশ দেন, পুজোর আগে শহরের গাছগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে । সেই নির্দেশ অনুসারে শুরু হয়েছে গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা । আপাতত আটটি বরো এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে এই পরীক্ষা শেষ হয়েছে ।

কলকাতা পুরনিগমের তরফে জানা গিয়েছে, এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা মূলত চারটি বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে । হেলা গাছ, রোগগ্রস্ত গাছ, কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ, বিপজ্জনক গাছ । এখনও পর্যন্ত যেসমস্ত জায়গায় গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে তাতে মোট 160টি হেলা গাছ, 9টি রোগগ্রস্ত গাছ, 12টি কাণ্ড ফাঁপা গাছ, 28টি মরা গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে । আটটি বরো এলাকার 17, 16, 10, 11, 28, 62, 46, 47, 54, 55, 87, 85, 83, 84, 86, 67, 69, 74, 71, 73, 82, 72, 74, 92, 93 এই ওয়ার্ডগুলোতে গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে ।

এর মধ্যেই একশোর কাছাকাছি গাছকে নানা কারণে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলো কেটে ফেলার জন্য বন দফতরের কাছে চিঠি দিতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম । পুজোর আগে 75-80 শতাংশ সমীক্ষা শেষ হয় যাবে । ফলে বিপজ্জনক গাছের সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে ।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, "শহরের গাছগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হচ্ছে যাতে 70-80টি অতি হেলে যাওয়া গাছ আছে । আবার কাণ্ড বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখতে হলেও ভিতর পুরো ফাঁপা গাছও রয়েছে । কোনও কোনও গাছের গুড়িতে বড় গর্ত হয়েছে । কোনও গাছ ছেঁটে করে মাথার অংশের ভার কমাতে হবে । কোনও গাছ উপরের কাণ্ডের অংশ সমেত বাদ দিয়ে দিতে হবে । যেমন যেমন পদক্ষেপ প্রয়োজন আমরা করব ।"

তিনি আরও বলেন, "তবে সম্পূর্ণ গাছ অরণ্য আইন অনুসারে আমরা কাটতে পারি না । তাই যেগুলি অতি বিপজ্জনক সেগুলি কাটার জন্য বন দফতরের অনুমতি বা ছাড়পত্র প্রয়োজন । সেই ছাড়পত্র বা অনুমতি চেয়ে আমরা দ্রুত চিঠি পাঠাব । আমাদের লক্ষ্য পুজোর আগে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা সিংহভাগ শেষ করে ফেলে গাছ কাটা, ছাঁটা সমস্ত পদক্ষেপ নিয়ে ফেলা । কারণ একদিকে ঝড় জলে বিপদ থাকছে ৷ তার উপর শারদোৎসব উপলক্ষে দিন রাত শহরের পথ ঘাট লোকারণ্য থাকবে, ফলে বিপদের প্রমাদ গুনতে হবে প্রতি মুহূর্তে । যদিও এখনও পর্যন্ত অন্যত্র প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে এমন কোনও গাছ নজরে আসেনি ।"

পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী নব দত্ত গাছ কাটার বিষয়ে কলকাতা পুরনিগমের উদাসিনতার দিকেই আঙুল তুলছেন । তাঁর কথায়, "কর্তৃপক্ষ নিজেদের কাজ নিজেরা করেনি । জনগণের উপর দায় চাপিয়েছে । তারা যে জ্ঞান দেয় গাছের নিয়মিত পরিচর্যা নিয়ে সেটা নিজেরা করলে গাছগুলি বিপজ্জনক হত না । তাদের কারণেই হয়েছে । একে শহরের সবুজ ফিকে হচ্ছে, অন্যদিকে এতগুলি গাছ বিপজ্জনক বলে কাটার পদক্ষেপ । শহরের পরিবেশে অবশ্যই এর নেতিবাচক প্রভাব থাকবে ।"

