পুজোর মুখে বিপাকে 9 হাজার হকার, সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত পুরনিগমের
প্রথম ধাপে প্রায় 9 হাজার হকারকে সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়া হবে । বাকিদের ধীরে ধীরে সার্ভে করে পরিচয়পত্র দেবে কলকাতা পুরনিগম ৷

Published : August 30, 2025 at 9:46 PM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: পুজোয় আর কিছু দিন বাকি ৷ এখনও কোনও হকার পেল না সচিত্র পরিচয়পত্র । অথচ কলকাতা পুরনিগমের তরফে জানানো হয়েছিল, টাউন ভেন্ডিং কমিটির সহায়তায় শহরে বৈধভাবে ব্যবসা করা কমবেশি 9 হাজার হকারকে দেওয়া হবে পরিচয়পত্র । আপাতত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়টি বলে জানা গিয়েছে ।
পুরনিগম সূত্রে খবর, এই স্থগিতের সিদ্ধান্ত টাউন ভেন্ডিং কমিটির একাংশের আপত্তির কারণে । এর ফলে হকার সংগঠনগুলির মধ্যে ছড়িয়েছে ক্ষোভ । অবৈধ হকার লাগাম দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিচয়পত্র বিশেষ গুরুত্ব আছে বলে মনে করেন হকার সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা । বাদ গিয়েছে বহু বৈধ হকার বলে দাবি সংগঠনের । শহরে পিচ রাস্তার দখল নিয়ে নিচ্ছে বেআইনি হকাররা । সেই ছবি বারে বারে ফুটে উঠেছে । কলকাতা পুরনিগমের তরফে মাঝে মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় । যেহেতু কেউ এখনও আইনমাফিক হাতে আইনি পরিচয়পত্র পাননি তাই হকারদের শুধু পিচ রাস্তা থেকেই তোলা পর্যন্ত পদক্ষেপ আটকে ।

পাশাপাশি যত দিন যাচ্ছে কলকাতার রাস্তায় বেড়েই চলেছে হকার । তাই পুরনিগম মনে করছে, সমীক্ষার মধ্য দিয়ে বৈধ হকারদের সরকারি পরিচয়পত্র দেওয়া ও তাদের নিয়মমাফিক হকারি করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে । কিন্তু সমীক্ষা করা নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে হকারদের একাংশের মধ্যে । হকার সংগঠনগুলি দাবি করেছে, যে সমীক্ষা হয়েছে এতদিনে তার উপর ভিত্তি করে 9 হাজার হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া যাবে না । 2015 সালের তালিকায় 54 হাজার হকার ছিল শহরে । তবে পরবর্তী সময় তা আরও বেড়েছে । সমীক্ষায় দীর্ঘদিন হকারি করছে এমন ব্যবসায়ীর নাম বাদ পড়েছে । ফলে নতুন পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হলেই পুরনো বাদ পড়া হকাররা বিক্ষোভে সামিল হবেন ।
এদিকে কলকাতা পুরনিগমের তথ্য বলছে, 8727 জনকে নতুন পরিচয়পত্র দেওয়া হবে । জানা গিয়েছে, 2015 সালের তালিকার উপর ভিত্তি করে বছর দেড় আগে ডিজিটাল অ্যাপ মারফত সার্ভের মধ্য দিয়ে নতুন পরিচয়পত্র দেওয়ার এই লিস্ট তৈরি হয়েছে । কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, "এই 8727 জনকে প্রথম ধাপে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে । এটাই শেষ বা চূড়ান্ত তালিকা নয় ৷ শহরের বিভিন্ন জায়গায় সার্ভে হবে ডিজিটাল অ্যাপ মারফত । আবারও হকারদের নাম নথিভুক্ত হবে ।"

হকার জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধি অসিত সাহা বলেন, "পুরনিগম হকার আইন ও বিধি মেনে তালিকা তৈরি করছে না । পাশাপশি সেটা পাবলিক ডোমেন আপলোড করতে হয়, সেটাও করছে না । তাই কে বৈধ, কে অবৈধ বোঝা যাবে না । কারণ, যাদের তালিকা তৈরি হয়েছে, প্রথম দফায় কার্ড দেওয়ার জন্য তাতে অনেক বৈধ হকারের নাম নেই । এবার যাঁরা কার্ড পাবেন, তাঁদের অনেকের তালিকাতেই নাম নেই । ফলে এই সব নানা সমস্যা থাকায় আপত্তি তৈরি হয়েছে । যাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে তালিকা থেকে, তাঁরা নিয়ম মেনে বছরের পর বছর হকারি করছে । এদিকে পরিচয়পত্র না পেলে গন্ডগোলের সৃষ্টি হবেই ।"

কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, হাতিবাগান, গড়িয়া ও নিউমার্কেট চত্বরে বেশিরভাগ হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে প্রথম দফাতেই । হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ বলেন, "এই 9 হাজার হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়ার সঙ্গেই 64 হাজারের বাকিদের পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু করতে হবে । তারপর তালিকার বাইরে থাকা বাকিদের সার্ভে করে পরিচয়পত্র দিতে হবে ।"

কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকের কথায়, "হকারি করেন এখন শহরের রাস্তায় এরকম ব্যবসায়ীর সংখ্যা বিপুল । কমবেশি 2.5 লাখ । ধাপে ধাপে সমীক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই । এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া । কোনও চিন্তার বিষয় নেই হকারদের ।"

সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক অসিতাঙ্গ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "কলকাতা পুরনিগমের হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভাগ কেন্দ্রীয় হকার আইন না মেনে কাজ করতে গিয়েই বিষয়টি জটিল করছে । যেভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি অর্থের বিনিময় নানা বেআইনি কাজ করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, ঠিক একইভাবে হকারদের তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ব্যাপক স্বজনপোষণ করে চলেছে । আর এসবের জেরে নিয়ম মেনে যারা হকারি করছে তারা আইনি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । তারা বিভিন্ন সরকারি ঋণের সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে । আর অবৈধভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিছু হকার, যারা আইন কানুনের তোয়াক্কা করছে না ।"

