প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক চিকিৎসক কলকাতা পুরনিগমে, পরিষেবায় খামতির অভিযোগ
পুরনিগমের স্থায়ী চিকিৎসকের অনুমোদিত আসন 157 জন । সেখানে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র 70 জন । আংশিক সময়ের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন 69 জন ।

Published : March 19, 2025 at 5:35 PM IST
কলকাতা, 19 মার্চ: কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত নয়, কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ ধুঁকছে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে । শহরে বেড়েছে জনসংখ্যা ৷ বেড়েছে রোগীর সংখ্যাও ৷ তবে পাল্লা দিয়ে কমেছে পুরনিগমের চিকিৎসকের সংখ্যা । বর্তমানে প্রয়োজন প্রায় কমবেশি 350 জন চিকিৎসকের ৷ আছে এই মুহূর্তে 248 জন ।
এই ব্যাপক সংখ্যায় চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা পরিষেবায় । প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না চাইলেও অনেকে চিকিৎসকই আড়ালে স্বীকার করছেন এই বাস্তব সঙ্কটকে । বিরোধীরাও অভিযোগ তুলছে পরিষেবায় খামতি থাকা নিয়ে । অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগের দাবিও জানাচ্ছেন তারা ।
কলকাতা পুরনিগমের 144টি ওয়ার্ডে এখন 144টি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার রয়েছে । পাশাপশি আছে আরও 23টি স্যাটেলাইট সেন্টার । সব মিলিয়ে 167টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র । ন্যাশনাল আরবান হেলথ মিশন (এনইউএইচএম) প্রকল্প স্পষ্ট বলা আছে, প্রতি সেন্টারে কমপক্ষে দু'জন করে চিকিৎসক থাকতে হবে । কিন্তু বাস্তব তার ধারে কাছে নেই চিকিৎসকের সংখ্যা ।
কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, পুরনিগমের স্থায়ী চিকিৎসক অনুমোদিত আসন 157 জন । সেখানে বর্তমানে কর্মরত মাত্র 70 জন । অন্যদিকে এনইউএইচএম এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে পূর্ণ সময়ের জন্য 109 জন চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে । যেখানে 144টি আংশিক চিকিৎসক আসন অনুমোদিত আছে, সেখানে আংশিক সময়ের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন 69 জন । তবে এর মধ্যেই স্থায়ী চিকিৎসকদের কমপক্ষে 20 জন প্রশাসনিক কাজে যুক্ত থাকায় তাঁরা রোগী দেখতে পারেন না ।
অনেক বছর কলকাতা পুরনিগম স্থায়ী পদে চিকিৎসক নিয়োগ করেনি । তারা বিকল্প হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প এনইউআইচএম-এর উপরেই ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । ফলে সেই খাতে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক নিয়োগ করেই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের অভাবে বেহাল হয়েছে পরিষেবা ।
বিরোধী কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব বলেন, এই সমস্যা আমি নিজে ভুক্তভোগী । আমার ওয়ার্ডের চিকিৎসককে মাঝে মধ্যেই তুলে নিয়ে অন্য ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে । ফলে আমার এলাকার রোগীরা গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে ফিরে আসছে । আবার যত সময় কাজ করার কথা অর্ধেক সময় আমার ওয়ার্ডে, বাকি অর্ধেক সময় অন্য ওয়ার্ডে যেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের । এইভাবে চলতে পারে না । একটি হেলথ সেন্টারে নূন্যতম একজন পূর্ণ সময় ও একজন আংশিক সময় চিকিৎসক থাকা বাধ্যতামূলক । সেটা না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ৷"
তাঁর কথায়, "এলাকার সাধারণ মানুষগুলি পুরনিগমের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নির্ভর করেন । তাদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেট চিকিৎসক দেখাতে হচ্ছে ৷ এটা কাঙ্খিত নয়, এটা এই পুরবোর্ডের ব্যর্থতা । শুধু একটি ওয়ার্ডে নয় এই ছবি একাধিক জায়গায় । কোথাও একজন চিকিৎসক ছুটি নিলে অন্যকে দু’টি জায়গায় রোগী দেখতে হচ্ছে । কোথাও চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক কাজ ছেড়ে দিলে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা থমকে যাচ্ছে । কেউ ছুটি নিলে অন্যকে বাড়তি ডিউটি করতে হচ্ছে । আর এর মূল কারণ প্রয়োজনের তুলনায় বিরাট পরিমাণ চিকিৎসক কম থাকা ।"
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, "এরা শুধু চিকিৎসক নয়, সব ক্ষেত্রেই লোক নিয়োগ করে না । মুখে শুধু বড় বড় কথা । স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে ঢাক পেটায়, আর অর্ধেক সংখ্যায় চিকিৎসক নেই । কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে ।"
কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, "পরিষেবা সঠিকভাবে চালাতে সত্যি প্রয়োজন আছে চিকিৎসকের । তবে ওবিসি সংক্রান্ত মামলার জেরে নিয়োগ করা যাচ্ছে না । এটা মিটলেই দ্রুত নিয়োগ হবে । আমরা সব প্রক্রিয়া করে রেখেছি ।"
যদিও কর্তৃপক্ষের সেই দাবি মানতে নারাজ বিরোধী কাউন্সিলররা । তারা জানাচ্ছে, ওবিসি মামলাকে হাতিয়ার করা হচ্ছে । কুমির ছানা দেখানোর মতো । এতগুলো বছর কী করেছে? তথ্য বলছে, কলকাতা পুরনিগমে শেষ চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছিল 2024 সালের 12 ফেব্রুয়ারি ৷ অর্থাৎ এক বছরের বেশি সময় আগে । তাও এনইউএইচএম প্রকল্পের আওতাধীন চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হয়েছিল ।

