খেলা হবে দিবস-রাখি উৎসব পালনে 50 লক্ষের বেশি বরাদ্দ কলকাতা পুরনিগমের
বিরোধীদের প্রশ্ন, গরিব মানুষের ত্রাণের টাকা তিনবছর বকেয়া ৷ সেই পরিস্থিতি কেন উৎসব পালনে বরাদ্দ এত টাকা ?

Published : August 5, 2025 at 6:37 PM IST
কলকাতা, 5 অগস্ট: দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে 1 লক্ষ 10 হাজার টাকা করে সরকারি অনুদানের ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ৷ এই নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ এবার কলকাতা পুরনিগমেও একই ধরনের সরকারি বরাদ্দের একটি বিষয় সামনে এসেছে ৷ জানা গিয়েছে, খেলা হবে দিবস ও রাখিবন্ধন উৎসব পালন করার জন্য প্রায় 50 লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন পুরবোর্ড ৷
এই নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা ৷ তাদের বক্তব্য, গরিব মানুষের জেনারেল রিলিফ বা জিআর (ত্রাণ)-এর জন্য গত তিনবছর ধরে কোনও বরাদ্দ করা হয়নি ৷ অথচ উৎসবে অনুদানে আধা কোটি খরচ করতেও পিছপা নয় কর্পোরেশন ৷ যদিও পুরনিগমের বক্তব্য, সরকারি কর্মসূচি ৷ রাজ্যের তরফে এই কর্মসূচি পালনের জন্য টাকা দেওয়া হবে ৷

খেলা হবে দিবস-রাখিবন্ধন উৎসবে বরাদ্দ প্রায় 50 লক্ষ
কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে জানা গিয়েছে, প্রতি ওয়ার্ডে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করতে বরাদ্দ করা হয়েছে 20 হাজার টাকা করে । এদিকে খেলা হবে দিবস পালনে খরচ হবে প্রতি ওয়ার্ড পিছু 15 হাজার টাকা । অর্থাৎ দু’টি অনুষ্ঠানে 35 হাজার টাকা প্রতি ওয়ার্ডে বরাদ্দ করা হয়েছে ৷
কলকাতা পুরনিগমে 144টি ওয়ার্ড রয়েছে ৷ সেই হিসেবে রাখিবন্ধন উৎসবের জন্য মোট 28 লক্ষ 80 হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৷ আর খেলা হবে দিবস পালনের জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছে 21 লক্ষ 60 হাজার টাকা ৷ সব মিলিয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে 50 লক্ষ 40 হাজার টাকা ৷
কী বলছে পুরনিগম ?
কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘দু’টো কর্মসূচি সরকারি । আমরা তাদের নির্দেশ মতো পালন করব । কাউন্সিলর থাকবেন । প্রশাসনিক স্তরে খরচ খরচ করে বরোতে বিস্তারিত জমা দিয়ে টাকা নিতে হবে । এটা রাজ্যের কর্মসূচি । শাসক বিরোধী কোনও ভাগ নেই ৷ সব ওয়ার্ডে পালিত হবে । এই টাকা রাজ্যের তরফে কলকাতা কর্পোরেশনকে দেওয়া হবে ।’’
পুরনিগমকে তোপ বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের
এই নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ । তাঁর কথায়, ‘‘শুধু আমি নয়, তৃণমূলের অনেক কাউন্সিলর একাধিক মাসিক অধিবেশনে প্রশ্ন তুলেছেন গরিব-প্রান্তিক মানুষদের বার্ষিক যে ত্রাণ বাবদ নামমাত্র 1444 টাকা দেওয়া হয়, সেই টাকা তাঁরা কবে পাবেন ? কারণ, এক-দুই মাস নয়, কেটেছে তিনবছর ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে নিয়ে নেতাজি ইনডোরে বৈঠকে জন্য কর্পোরেশন কোটি টাকা খরচ করেন । আর প্রতি ওয়ার্ডে কম বেশি 100 জন এমন তীব্র অভাবী মানুষ আছেন, সব মিলিয়ে 15 হাজারের কাছে তাঁদের এই টাকা তিনবছর ধরে দিয়ে উঠতে পারছেন না ফিরহাদ হাকিম ।’’

সজলের অভিযোগ, ‘‘আসলে ওঁর দলের মনুষত্ব বলে কিছুই নেই । ফিরহাদ হাকিম অপারগ । ভোট বড় বালাই । বৃদ্ধ মানুষজন তাঁরা রোজ কাউন্সিলর অফিসে আসেন ৷ জিজ্ঞাসা করেন, তাঁদের এই টাকা কবে পাবেন ৷ উত্তর দেওয়ার কিছু থাকে না । মাথা নিচু হয়ে যায় এদের এই অমানবিক ভোট রাজনীতির কাছে ।’’
গরিবদের জিআর-এর টাকা
জিআর অর্থাৎ জেনারেল রিলিফ ৷ সহজ বাংলায় বললে, সাধারণ ত্রাণ ৷ কলকাতা পুরনিগম এলাকার গরিব-প্রান্তিক মানুষদের বছরে জিআর বাবদ 1444 টাকা দেওয়া হয় ৷ কিন্তু গত তিন বছর ধরে তাঁরা সেই টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ৷ এই নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের মাসিক অধিবেশনে সরব হয়েছেন সব দলের কাউন্সিলররাই ৷ সেই তালিকায় যেমন আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ চক্রবর্তী-তপন দাশগুপ্ত, তেমনই আছেন সিপিএমের নন্দিতা রায়-মধুছন্দ দেব ও বিজেপির মিনাদেবী পুরোহিত থেকে সজল ঘোষরা ৷

বারবার বিভিন্ন দলের কাউন্সিলরদের করা এই প্রশ্নের উত্তরে একটাই কথা বলেছে পুরনিগম কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকারের তরফে টাকা পাঠানো হলেই মিটিয়ে দেওয়া হবে । কিন্তু তিন বছর কাটলেও সেই টাকা এখনও আসেনি । ফলে প্রান্তিক মানুষগুলির মধ্যে চরমে উঠছে হতাশা । ফলে প্রশ্ন উঠছে, জিআর টাকা দিতে না-পারলেও রাজ্য সরকার উৎসবে এত বরাদ্দ কীভাবে করছে ৷
দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে বরাদ্দ
সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়, তা এবার বাড়িয়ে 1 লক্ষ 10 টাকা করার কথা সেদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ওইদিন থেকেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে ৷ অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ না-দিয়ে মেলা-খেলায় বেশি খরচ করছে মমতার সরকার ৷ এবার সেই সমালোচনার ঝাঁঝ বাড়ছে কলকাতা পুরনিগমের তরফে খেলা হবে দিবস ও রাখিবন্ধন উৎসব পালনে প্রায় 50 লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি সামনে আসার পর ৷

