বিশেষ অভিযান কেএমডিএ'র, সেতুর নিচে সরানো হবে বেআইনি কাঠামো
একইসঙ্গে ভবঘুরেদের রাস্তা ও ফুটপাত থেকে সেতুর নিচ থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযান চালাচ্ছে পুরনিগম । এরপর সেতুর নিচগুলি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে ৷

Published : June 15, 2025 at 2:29 PM IST
কলকাতা, 15 জুন: শহরের একাধিক সেতুর নিচ থেকে স্থায়ী-অস্থায়ী বেআইনি কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হবে ৷ এমনকি সরিয়ে ফেলা হবে সেখানে বসবাসকারীদেরও ৷ সেতুর স্বাস্থ্যরক্ষায় এই বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে কেএমডিএ ৷
শহরে একাধিক খালের উপর সেতু নির্মাণ করেছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি বা কেএমডিএ । সেই সেতুর মধ্যে একটি হল নিউ আলিপুর এলাকায় দুর্গাপুর ব্রিজ ৷ তার তলায় আস্ত একটি বস্তি তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিন ধরে ৷ সেই বস্তিতে আগুন লাগার ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সেতু । এর জেরে বিপুল টাকা খরচে সেতু মেরামত করে ফের স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে হয় । তারপরেই সেতুর স্বাস্থ্য রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার তাগিদেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ।
পাশাপশি উচ্ছেদের পরবর্তী সময় আবার যাতে সেই সব জায়গায় কেউ দখল করে ঘর বা ব্যবসা করতে না পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে পুলিশকে বাড়তি নজরদারি করতে হবে বলে জানান তিনি । সম্প্রতি কেএমডিএ শহরের অনেকগুলো সেতুর নিচে ফাঁকা করার অভিযান চালাচ্ছে । সেখানে বেআইনি নির্মাণ, সেটা স্থায়ী হোক বা অস্থায়ী ভেঙে ফেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ।
একইসঙ্গে কলকাতা পুরনিগমের তরফ শুরু হয়েছে ভবঘুরেদের রাস্তা ও ফুটপাত থেকে সেতুর নিচ থেকে সরিয়ে ফেলার লাগাতার অভিযান । সেতুর নিচগুলি ফাঁকা করার পর তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ ৷ যাতে ফের দখল না হয়ে যায় সেগুলি । যে সমস্ত জায়গায় সেতুর নিচের অংশে খাল রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অভিযান হচ্ছে ৷ এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল, করুণাময়ী সেতু, চেতলা লকগেট সেতু, সল্টলেক সেতু, বাগমারি সেতু, চিৎপুর সেতু, চেতলা আরসিসি সেতু ।

এই প্রসঙ্গে কেএমডিএ'র এক আধিকারিক বলেন, "মূলত এই সেতুগুলির নিচে ধীরে ধীরে একাধিক ঝুপড়ি তৈরি হয়েছে, যা পরে বড়সড় বস্তির আকার ধারণ করেছে । এখানে নানা ধরনের ব্যবসা চলে । রান্না থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজে আগুন জ্বালানো হয় ৷ যার জেরে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেতু । এর ফলে সেতুর আয়ু কমছে দ্রুততার সঙ্গে । তাই এই বিশেষ অভিযান । এই অভিযান চালাতে প্রাথমিকভাবে 50 লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে । এর পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালপুল, ফুটপাত ও শহরের রাস্তা দখল মুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুরনিগমের কঠিন বজ্র ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও সামাজিক প্রকল্প বিভাগ । সহায়তা করছে স্থানীয় পুলিশ ।"
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, "আগুন জ্বালানোয় সেতুর ক্ষতি হচ্ছে ৷ সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সেই কারণে কেএমডিএ, পিডব্লিউডি বা এইচআরবিসির সেতুর নিচে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না । ভবঘুরে যারা সেতুর তলায় রয়েছে, যাদের থাকবার জায়গা নেই, তাঁদেরকে শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । পুলিশের সাহায্য নিয়ে এই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে ।"

তিনি আরও বলেন, "কলকাতা পুরনিগম এবং রাজ্য সরকারের তরফে অনেকগুলি আরবান হোমলেস শেল্টার করা হয়েছে । যারা আবার সেতুর তলা ও ফুটপাতে পুরনো জায়গায় ফিরে আসছে, বা সেখান থেকে যেতে চাইছে না, তারা হল ব্যবসায়ী । আমরা একবার দু'বার তুলে দিতে পারি ৷ কিন্তু তারপর তারা যেন আর সেখানে ফিরে না আসে তাই বিষয়টি পুলিশকে দেখতে হবে । সেতুর স্বাস্থ্য যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই আইন-শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে এই ভবঘুরের জন্য । তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না সেটাও বোঝা যায় না । ব্যবসায়ী এবং দুষ্কৃতীও ওইসব জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে ৷ এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশেরই ।"

