মাওবাদীদের হুমকি চিঠি পেলেন কলকাতার ব্যবসায়ী, 50 লক্ষ টাকা দাবি
অভিযোগ দায়ের হয়েছে বড়বাজার থানায় ৷ তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ৷

Published : June 7, 2025 at 3:00 PM IST
কলকাতা, 7 জুন: ডেডলাইন ছাব্বিশের মার্চ ৷ তার আগেই দেশ থেকে মাওবাদীদের নির্মূল করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার ৷ সেই কারণে নিয়মিত মাওবাদ-বিরোধী অভিযান চলছে ৷ সাম্প্রতিক অতীতে মাওবাদীদের বেশ কয়েকজন বড় মাথাকেও নিকেশ করতে পেরেছে কেন্দ্র ৷ পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মাওবাদীদের তরফে বারবার আলোচনায় বসার আবেদন করা হচ্ছে সরকারের কাছে ৷
অথচ এর মধ্যেই ব্যবসায়ীর কাছে হুমকি চিঠি পাঠানোর অভিযোগ উঠল মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ৷ আজ থেকে প্রায় দেড়-দু’দশক আগে যে ধরনের চিঠি হামেশাই দেখা মিলত জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে, ঠিক সেই ধরনের চিঠিই এবার পেলেন কলকাতার এক সোনা-ব্যবসায়ী ৷
ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁর কাছে একটি হুমকি চিঠি এসেছে৷ সেই চিঠিতে 50 লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে ৷ টাকা না-দিলে ফল ভালো হবে না-বলেও জানানো হয়েছে ৷ ওই ব্যবসায়ীর সোনার দোকান ওল্ড চিনা বাজারে৷ জায়গাটি বড়বাজার থানার অধীনে ৷ তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷
শনিবার সকালে ওই দোকানে যান লালবাজারের গোয়েন্দারা ৷ তাঁরা সেখানে দোকানের মালিকের (অভিযোগকারী ব্যবসায়ী) সঙ্গে কথা বলেন ৷ ওই ব্যবসায়ীর বয়ান রেকর্ড করা হয় ৷ দোকানের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা ৷ কর্মীদেরও বয়ান রেকর্ড করা হয় ৷

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, জনৈক সমীর মণ্ডল এই চিঠিটি পাঠিয়েছে ৷ চিঠিতে তিনি নিজেকে মাওবাদী সংগঠনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৷ তাঁর দাবি মতো 50 লক্ষ টাকা তিনি গুপি ওরফে মুকুল নামে একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছেন ৷ কোন ঠিকানায় মুকুলকে পাওয়া যাবে, সেটাও চিঠিতে উল্লেখ করা রয়েছে ৷ ঠিকানাটি উত্তর 24 পরগনার দেগঙ্গার হাদিপুর কলোনির ।
কলকাতা পুলিশ আপাতত সমীর ও মুকুলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে ৷ ইতিমধ্যে তারা উত্তর 24 পরগনার দেগঙ্গায় সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ৷ পাশাপাশি পুলিশ জানার চেষ্টা করছে যে এই চিঠিটি কি আদৌ মাওবাদীদের তরফে এসেছে, নাকি টাকা আদায়ের জন্য সমীর ও মুকুল মাওবাদীদের নাম করে এই চিঠিটি পাঠিয়েছে ! তাছাড়া সমীর ও মুকুলের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ী বা তাঁর দোকানের কর্মীদের কোনও পরিচয় আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ৷
একই সঙ্গে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কারও কোনও গোলমাল অতীতে হয়েছে কি না, কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক শত্রুতা আছে কি না ! এদিকে যেহেতু ছত্তিসগড়ে জোর কদমে চলছে মাওদাবী নিকেশ, তাই সেই সময় এই হুমকি চিঠিকে একেবারেই হালকা করে দেখছে না লালবাজার । সেই কারণে ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ দোকানের পাশে বসেছে পুলিশ পিকেট ।

