ETV Bharat / state

পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়লেই আর কোনও সমস্যা হয় না, মত মাধ্যমিকে কলকাতায় প্রথম অবন্তিকার

কলকাতা থেকে মাধ্যমিকে প্রথম অবন্তিকা রায় ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় ৷ তার ইচ্ছেতেই মত রয়েছে বাবা-মায়ের ৷

ETV BHARAT
মাধ্যমিকে কলকাতায় প্রথম অবন্তিকা রায় (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 2, 2025 at 7:57 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 মে: কলকাতা থেকে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে অবন্তিকা রায় । সার্বিক মেধাতালিকায় তার স্থান অষ্টম ৷ সিস্টার নিবেদিতা স্কুলের এই ছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বর 688 । আগামী দিনে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা । ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অবন্তিকার চোখে । মেয়েকে কোনওদিন পড়াশোনা নিয়ে জোর করেননি বলে জানালেন তার বাবা-মা ৷ এমনকি মেয়ে বড় হয়ে কী হবে, সেই নিয়েও তাদের কোনও দাবি নেই ৷ পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছেন মেয়ের উপর ৷

সকালে যখন মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা হচ্ছে, তখন বাড়িতে জলখাবার খাচ্ছিল অবন্তিকার পরিবার ৷ সামনে খোলা ছিল টিভি ৷ সেখানেই নিজের নামটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল অবন্তিকা। তার কথায়, " নিজের নাম শুনে চোখে জল চলে এসেছিল আমার । আশা করেছিলাম ফল ভালো হবে । তবে এতটা ভালো হবে সেটা ভাবিনি ।"

পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়লেই আর কোনও সমস্যা হয় না, মত মাধ্যমিকে কলকাতায় প্রথম অবন্তিকার (ইটিভি ভারত)

এদিন ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে অবন্তিকা আরও বলে, "এরপর আমি সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করব । আমার পছন্দের বিষয় পদার্থ বিজ্ঞান । আমার আগামী দিনে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ।" অবন্তিকার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় পদার্থ বিজ্ঞানে সে মাধ্যমিকে পেয়েছে 97 । আর জীবন বিজ্ঞান, অঙ্ক ও ইংরেজিতে একশোয় 100 । ভূগোল, ইতিহাস এবং বাংলাতে পেয়েছে 97 ।

ETV BHARAT
অবন্তিকার ফলাফলে গর্বিত স্কুল (নিজস্ব চিত্র)

নিজের এই ফলাফলে স্কুল ও পরিবারের সবার অবদান রয়েছে বলে জানাল অবন্তিকা ৷ তবে তার কথায় বারবার উঠে এসেছে মায়ের কথা ৷ সে বলে, "আমার মা আমায় রুটিন তৈরি করে দিয়েছিল । 10 ঘণ্টার বেশি আমি কোনওদিন পড়িনি । পড়ার পাশাপাশি বোনের সঙ্গে খেলা, গান শোনা এবং গল্পের বই পড়া - সবই করতাম । আমার মনে হয়, বই খুঁটিয়ে পড়লেই আর কোনও সমস্যা হবে না । আর যেটুকু প্রয়োজন সেইটুকু ছাড়া মোবাইল ফোন আমি কখনওই ব্যবহার করিনি ।"

অবন্তিকার মা মুনমুন রায়ের কথায়, "প্রথম শ্রেণি থেকেই আমার মেয়ে এই স্কুলে পড়েছে । ওর এই রেজাল্টের পেছনে স্কুলের অবদান যথেষ্ট । তবে টেস্টের পর আমিই বাড়িতে ওকে পড়াতাম । ওর সব বিষয়ে টিউশন ছিল । শুধু বাংলা নিজে পড়ত, আর ইতিহাস আমি দেখিয়ে দিতাম । আমার মেয়ের যা ইচ্ছা, পরবর্তী সময়ে ও সেটা নিয়েই পড়াশোনা করবে । এ ব্যাপারে আমাদের কোনও জোর নেই ৷"

ETV BHARAT
সার্বিক মেধাতালিকায় অষ্টম অবন্তিকা (নিজস্ব চিত্র)

অবন্তিকার বাবা হেমন্ত রায়ের গলাতেও শোনা গেল একই কথা ৷ জানালেন, মেয়ে ডাক্তার হতে চায় ৷ কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে গিয়েছে আরজি কর কাণ্ড । তবে সেই ঘটনার জন্য অন্য কিছু না-ভেবে, ডাক্তারি পড়াতেই মেয়েকে উৎসাহ দিচ্ছেন বাবা । তিনি বলেন, "আমার মেয়ে যেটা চায়, সেটাই পড়বে ৷ কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয় সেটা ও এই স্কুল থেকে শিখেছে । আমি আশা রাখি, ও সব সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে । তাই ওর যেটা ইচ্ছা ও সেটা নিয়েই ভবিষ্যতে এগোবে ।"