ETV Bharat / state

ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প: জল সরবরাহ চালু রেখে কীভাবে হবে কাজ, আলোচনায় অধরা সমাধান

পরিকল্পনা তৈরি করতে সময় চাইলেন কেএমসি ও আরভিএনএলের আধিকারিকরা ৷ পানীয় ও নিকাশি লাইনের ম্যাপ তৈরি করে আরভিএনএল-কে দেবে কেএমসি ৷

BARRACKPORE METRO PROJECT
কলকাতা মেট্রো ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2025 at 9:26 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 জুলাই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ঘোষণা করেছিলেন ব্যারাকপুর রুটের মেট্রো প্রকল্প ৷ তবে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি জমি জটের কারণে ৷ আর এর পিছনে অন্যতম কারণ কলকাতার পানীয় জল সরবরাহের লাইন ৷ সেই পানীয় জল সরবরাহ চালু রেখে কীভাবে ব্যারাকপুর মেট্রোর কাজ হবে, তা নিয়ে আরও একবার বৈঠক করল কলকাতা পুরনিগম ও আরভিএনএল ৷ শুক্রবার সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ৷ ছিলেন আরভিএনএল আধিকারিকরা এবং ব্যারাপুর কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ৷

বরাহনগর স্টেশন থেকে ব্যারাকপুর রুটে মেট্রোর লাইন সম্প্রসারণ ও স্টেশন তৈরির কাজ কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ কারণ, পলতা থেকে ছয়টি বিরাট-বিরাট ব্যাসের পানীয় জলের পাইপ এসেছে কলকাতায় ৷ আছে আরও তিনটি বিশাল নিকাশি লাইন ৷ সঙ্গে ইলেকট্রিক লাইন, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির একাধিক জলের লাইন ৷

জল সরবরাহ চালু রেখে কীভাবে হবে ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের কাজ, আলোচনায় বেরল না সমাধান ৷ (ইটিভি ভারত)

ফলে যে সমস্ত জায়গায় মেট্রোর পিলার হবে সেখানে এই সব লাইন কীভাবে সরানো হবে ? এর বিকল্প লাইন কোথায় হবে ? স্টেশন করতে গেলে, নিচে থাকা জল ও নিকাশি লাইনে কোনও সমস্যা হলে, কীভাবে সমাধান হবে ? এই সমস্ত বিষয়ে সমাধান বের করতে বৈঠকে বসেছিল কেএমসি ও আরভিএনএল ৷ কিন্তু, এ দিনের বৈঠকেও সেই সমস্যার সমাধান মেলেনি ৷

তবে রাজ্যের তরফে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দিক থেকে মেট্রোর লাইন ঘোরাতে বলা হয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৷ কিন্তু, সেটা লাভজনক রুট নয় বলে, সেই পথে হাঁটতে রাজি নয় আরভিএনএল ৷ তাই কীভাবে, কী হতে পারে, তার সম্ভাব্য পরিকল্পনা কলকাতা কর্পোরেশন চেয়েছে আরভিএনএলের কাছে ৷

কলকাতা কর্পোরেশন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টানেল কেটে ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় রাস্তার কোন অংশে, কোন পাইপ, নিকাশি লাইন, কত নিচে রয়েছে, সব তথ্য তৈরি করবে ৷ যা আরভিএনএলের কাছে জমা দেবে ৷ তবে, পানীয় জল ও নিকাশি লাইন সরানো হলে, তার খরচ কারা বহন করবে, তা নিয়েও আলোচনা হয় ৷ কিন্তু, সেই নিয়েও কোনও সমাধান সূত্র বেরয়নি ৷

সব মিলিয়ে দুই পক্ষই বেশ কিছুদিনের জন্য সময় চেয়েছে ৷ আরভিএনএল রেলমন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবে পরবর্তী পরিকল্পনা কী হবে ৷ আর কলকাতা পুরনিগম এই সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা চালাবে এই সময়ের মধ্যে ৷

তবে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প প্রস্তাবিত রুটে কার্যত অসম্ভব ৷ কারণ, কোনোভাবেই জল সরবরাহে ছেদ ফেলতে চাইছেন না তাঁরা ৷ আর সেটা হলে, তার সব দায় আধিকারিকদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে ৷ তাঁদের কথায়, মেট্রো না-হলেও মানুষজন কষ্ট করে ট্রেনে বা বাসে যাতায়াত করতে পারবেন ৷ কিন্তু, জল বন্ধ হলে মানুষ ছেড়ে দেবে না ৷

এই প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, "আমরা বলেছি কোনোভাবেই যাতে জলের পরিষেবায় ব্যাঘাত না-ঘটে ৷ তাঁরা পরিকল্পনা করুক ৷ সময় চেয়েছেন, রেলমন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন ৷ খুবই প্রাথমিক কথা হয়েছে ৷ এরপর আরও কথা হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন ৷ জল ছাড়া মানুষ থাকতে পারবে না ৷ এটা মাথায় রাখতে হবে ৷"