চিংড়িঘাটায় যানজটে ভোগান্তির দিন শেষ, বড় সিদ্ধান্ত ইএম বাইপাস নিয়ে
চিংড়িঘাটায় নিত্যদিনের যানজট যন্ত্রণা থেকে এবার মুক্তি মিলতে চলেছে ৷ চওড়া করা হচ্ছে ওই এলাকার ইএম বাইপাসের একাংশ ৷


Published : December 27, 2024 at 7:16 PM IST
কলকাতা, 27 ডিসেম্বর: ইএম বাইপাসে গাড়ি চালান এমন মানুষজনেরা চিংড়িঘাটা নামটা শুনলেই আঁতকে ওঠেন ৷ নিত্যদিন সেখানে যে পরিমাণ যানজট হয়, তা কালঘাম ছুটিয়ে দেয় যাত্রীদের ৷ এবার সেই যন্ত্রণার থেকে মুক্তি মিলতে চলেছে । কলকাতা পুরনিগম ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চিংড়িঘাটা লাগোয়া এলাকায় ইএম বাইপাস আরও চওড়া করা হবে । ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরনিগম ও কেএমডিএ গোটা এলাকা পরিদর্শন করেছে । পাশাপশি কলকাতার পুলিশ কমিশনারও বেশ কিছুদিন আগে সরেজমিনে এলাকা দেখে এসেছেন ।
বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে যানজটের দুর্ভোগ প্রতিদিনের । বিশেষ করে নিকোপার্ক থেকে এসে ইএম বাইপাস ধরে যে সমস্ত গাড়ি বা বাস রুবির দিকে যায়, তাদের রোজ ওই সিগন্যালে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় । সেই প্রভাব পড়ে একাধিক রাস্তায় । তাই ওই জায়গা থেকে রুবির দিকে যাওয়ার বেশ খানিকটা রাস্তা চওড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷

বেশ কয়েক দফায় সমীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছে যে, রাস্তা কতটা চওড়া হবে, কত বাসিন্দা বা দোকান সরাতে হবে । বেশ কয়েক বছর আগেই এই ইএম বাইপাস রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেএমডিএ-র হাত থেকে কলকাতা পুরনিগম তার নিজের হাতে নেয় । তারপর বেশ কয়েক দফায় সংস্কারের কাজ চলেছে । 22 কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা ধাপে ধাপে মসৃণ করার কাজ করছে তারা । ফলে ছোট গাড়ি, বিশেষ করে বাইক দুর্ঘটনার প্রবণতা কমবে ।
পুরনিগম সূত্রে খবর, এই কাজ করতে গিয়ে অন্তরায় হতে পারে ওই স্থানে থাকা তিনটি বড় বহুতল । সেখানে একাধিক বাসিন্দা থাকেন । আছে দোকানপাট । সরকারি স্তরে আলোচনা হয়েছে, তাঁদের সরকারি জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে । সেই কাজ মিটলে বাইপাসে ওই এলাকায় আরও দুটি লেন তৈরি করা হবে । ফলে মোট 6 লেন হবে । সেই পথেই খালের উপর কালভার্ট বরাবর হবে বেইল ব্রিজ । দীর্ঘ বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে অনেকটা সংকুচিত হয়েছে রাস্তা । সেই অংশে আরও দুটি লেন হলে রাস্তা প্রশস্ত হবে ।
কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিক জানিয়েছেন, "বাইপাসে যানচলাচলের গতি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে । তার মধ্যে দুটো বড় পদক্ষেপ হল এই চিংড়িঘাটা থেকে ক্যাপ্টেন ভেড়ি অংশে দুটি লেন তৈরি ও গোটা বাইপাস মসৃণ করা । ভেড়ির কাছ থেকেই একটি উড়ালপুল, যেটা সোজা নিউটাউন যাবে, সেই কাজ শুরু হবে । এই রাস্তা চওড়া হলে সার্বিক ভাবে এই এলাকার যানজটে যে ভোগান্তি, সেটার আর সম্মুখীন হতে হবে না চালক থেকে যাত্রীদের ।"

