জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজে ধর্ষণ: ঠিক কী ঘটেছিল তরুণীর সঙ্গে
অভিযোগ, জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজে কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে তরুণীকে বয়েজ হস্টেলে ডাকা হয় ৷ নিরাপত্তারক্ষীর এন্ট্রি-এক্সিটের রেজিস্ট্রার খাতায় তাঁকে সই করতে নিষেধ করেন অভিযুক্ত ।

Published : July 12, 2025 at 6:52 PM IST
জোকা, 12 জুলাই: জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজের বয়েজ হস্টেলের ভিতর তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ৷ সেই ঘটনায় 26 বছরের যুবক পরমানন্দ জৈনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ অভিযুক্ত ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ৷ তরুণীকে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণের অভিযোগ ৷ একনজরে দেখে নেওয়া যাক শুক্রবার ঠিক কী কী ঘটেছিল তরুণীর সঙ্গে ৷
শুক্রবার সকাল 11টা 45 মিনিট: তরুণী হরিদেবপুর থানা এলাকার জোকার ওই ম্যানেজমেন্ট কলেজে ঢোকেন । এরপরেই পুলিশকে দেওয়া তাঁর বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাঁকে সংশ্লিষ্ট কলেজের বয়েজ হস্টেলে নিয়ে যান ।
বেলা 12টা: তরুণীকে কিছু পানীয় ও খাবার খাওয়ানো হয় । ওই নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, এরপর তাঁর সঙ্গে অপরাধের ঘটনা ঘটে । সেই সময় তিনি আচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন ।
রাত 8টা 35 মিনিট: ওই নির্যাতিতার জ্ঞান ফেরে । তিনি দেখেন, সেই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কলেজের হস্টেলেই রয়েছেন । এরপরেই পরিচিতদের তিনি ফোন করেন ।
সাড়ে 10টা থেকে 11টা: পরিচিতদের সঙ্গেই প্রথমে তরুণী ঠাকুরপুকুর থানায় হাজির হন । ঠাকুরপুকুর থানার তরফে বলা হয়, জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজের এই আপরাধের ঘটনাটি ঘটেছে তাই সেটা হরিদেবপুর থানার আওতাধীন । এরপর রাতেই ঠাকুরপুকুর মহিলা থানার পুলিশ ওই নির্যাতিতাকে সঙ্গে নিয়ে হরিদেবপুর থানায় আসেন । সেখানেই ওই নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।
রাত 12টা: হরিদেবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল অর্থাৎ জোকার ওই কলেজে ঢোকে । পরে কলেজ ক্যাম্পাস থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হরিদেবপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ । ঘটনার দু’টি মামলা রুজু করা হয় ।
শনিবার দুপুর 3টে: এই ঘটনায় অভিযুক্ত দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া পরমানন্দ জৈনকে গ্রেফতার করে শনিবার আলিপুর পুলিশ আদালতে পেশ করেন তদন্তকারীরা ৷ তারপর অতিরিক্ত তিনটি ধারা-সহ মোট পাঁচটি ধারা যোগ করা হয় । পুলিশ 25 জুলাই পর্যন্ত অভিযুক্তকে হেফাজতে চায় ৷ কিন্তু বিচারক 26 বছরের যুবককে সাতদিনের অর্থাৎ 19 জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন ।

আদালতে কী হল ?
শনিবার ধৃতকে পেশ করার পর প্রথমেই আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী শুভজিৎ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করেন, "অভিযোগকারী তরুণী মনোবিদ (সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলার) । পরমানন্দ জৈনের সঙ্গে তাঁর সোশাল মিডিয়ায় পরিচয় । তারপরে কথাবার্তা শুরু হয় । অভিযোগকারী শুক্রবার সকালে জোকায় ওই ম্যানেজমেন্ট কলেজের ক্যাম্পাসে যান ।"
এছাড়াও তিনি আদালতে সওয়াল করেন, "অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই তরুণীর খাবার খাওয়ার পরে বমি ভাব আসে । বাথরুমে যেতে চাইলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয় । প্রথমে জোর করে শারীরিক হেনস্তা এবং পরে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেলে শারীরিক নির্যাতন করা হয় তরুণীকে । টাইমলাইনে বলা আছে, ওই তরুণী সকাল 11টা 45 মিনিট থেকে রাত 8টা 35 মিনিট পর্যন্ত সেখানে ছিলেন । আবার পুলিশ বলছে, রাত 8টা 35-এ হরিদেবপুর থানা খবর পেয়েছে । এটা কিভাবে সম্ভব ?"
অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে জানান, পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী ওই তরুণীর অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের একটি হস্টেলের কথা উল্লেখ রয়েছে । তাঁর দাবি, ওই হস্টেলে পৌঁছনো পর্যন্ত ওই তরুণীকে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের কোনও না কোনও নিরাপত্তাররক্ষী নিশ্চয়ই দেখবে । তাহলে এক্ষেত্রে কোনও নিরাপত্তারক্ষী কেন ওই তরুণীকে দেখতে পেলেন না ।"
এই বিষয়ে পালটা সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, "অভিযুক্ত ওই কলেজের ছাত্র হওয়ায় তিনি তার প্রভাব খাটিয়েছেন এবং নিরাপত্তারক্ষীকে প্রভাবিত করে তরুণীকে বয়েজ হস্টেলের ভিতরে নিয়ে গিয়েছেন । প্লেস অফ অকারেন্স বা ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোন ছিল । আমরা আশঙ্কা করছি, ঘটনার ভিডিয়ো করা হয়ে থাকতে পারে । কারণ, যে অবস্থায় তরুণী ছিলেন, তাতে ভিডিয়ো করা হয়েছিল বলে আমাদের আশঙ্কা থাকছে । আমরা ফরেন্সিক ল্যাবে মোবাইল ফোন পাঠিয়ে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করব । এত বড় রুম, সেই রুমের কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে তা জানা প্রয়োজন । তাই অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জেরার প্রয়োজন ।"
লালবাজার সূত্রের খবর, ওই তরুণী অভিযোগপত্রে জানান, জোকার ম্য়ানেজমেন্ট কলেজে কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে তাঁকে বয়েজ হস্টেলে ডাকা হয় । এমনকি তাঁকে কলেজের গেটের বাইরের নিরাপত্তারক্ষীর এন্ট্রি-এক্সিটের রেজিস্ট্রার খাতায় সই করতে নিষেধ করেন অভিযুক্ত । এর থেকে পুলিশের প্রাথমিক দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা ।
এই ঘটনার তদন্ত নেমে শনিবার সকালেই ওই কলেজে যান কলকাতা পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সাইন্টিফিক উইংসের তদন্তকারীরা । তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কলেজের নিরাপত্তারক্ষীদের সেদিন কোনও কথা হয়েছিল কি না তা জানার জন্য তাঁর মোবাইল ফোন ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কলেজের 4 জন নিরাপত্তারক্ষীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা ৷
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্তে নেমেই কলকাতা পুলিশের মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা ওই নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁর যাবতীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়েছেন ।

