গরম পড়তেই জন্ডিসের বাড়বাড়ন্ত, আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে চাপানউতোর
স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের কথানুযায়ী, জন্ডিসে আক্রান্ত প্রায় 25-26 জন । অথচ রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট বলছে 58 জনের রক্তের নমুনাতেই মিলেছে হেপাটাইটিস-এ এর অস্তিত্ব ।

Published : March 19, 2025 at 8:11 PM IST
দুর্গাপুর, 19 মার্চ: দুর্গাপুর পুরনিগমের একটি ওয়ার্ডের দুটি গ্রামে জন্ডিসের প্রকোপ ৷ আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর ৷ দুর্গাপুর নগর নিগমের 25 নম্বর ওয়ার্ডের পাঁড়দহি ও হরিবাজার, এই দুই গ্রামে স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী ও বাসিন্দাদের কথানুযায়ী, জন্ডিসে আক্রান্ত প্রায় 25-26 জন । অথচ রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, 100 জনের মধ্যে 58 জনের রক্তের নমুনাতেই মিলেছে হেপাটাইটিস-এ এর অস্তিত্ব ।
দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য তথা স্বাস্থ্য দফতরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ রাখি তিওয়ারির দাবি, "নলবাহিত জলের লাইনে লিকেজ হয় ৷ যার জেরে পানীয় জলে মেশে খারাপ জল ৷ সেই কারণে এই দুই গ্রামে জন্ডিস ছড়িয়েছে দ্রুত । জলের নমুনা পরীক্ষাও করা হচ্ছে ।" কিন্তু এত সংখ্যক মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হলেও সংখ্যা কমানোর এই প্রচেষ্টা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই । যদিও এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা ।
দুর্গাপুর নগর নিগমের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, চলতি মাসের 7 তারিখ থেকে এই দুই এলাকায় পেটে ব্যাথা এবং জ্বর শুরু হয় । নগর নিগমের স্বাস্থ্য দফতরের কাছে খবর যেতেই শুরু হয় রক্তের নমুনা পরীক্ষার কাজ । তারপর থেকে 100 জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হলে 58 জনের শরীরে হেপাটাইটিস-এ জীবাণু পাওয়া যায় । তাঁদের মধ্যে সাতজনকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । বাকিদের বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছিল । নজর রাখছিল চিকিৎসক দল ।
কলকাতা স্বাস্থ্য ভবন থেকেও প্রতিনিধি দল আসে এলাকায় । ওই দুই গ্রামে পুরসভার নলবাহিত পানীয় জল না পান করার কথা জানানো হয় এবং ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন । তারপর থেকে প্রতিদিনই এলাকায় বসছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির । দুটি এলাকাতেই নজর রাখা হচ্ছে । ছ'জনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । একজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন । যাঁদের বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ ।

স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণিমা সেনগুপ্ত, "ছেলের জন্ডিস হয়েছিল ৷ চিকিৎসকেরা এসে পরীক্ষা করেছেন ৷ দুই ছেলে এখন ঠিক আছে ৷ স্বাস্থ্যকর্মীরা আসছে বারবার ৷ স্বাস্থ্য শিবির বসছে ৷ পানীয় জলের গাড়ি দিচ্ছে ৷ আমাদের গ্রামে অনেকের জন্ডিস হয়েছিল ৷ ভয়ে বলছে না ৷ স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করছে ৷"
নগর নিগমের স্বাস্থ্যকর্মী দীপা মণ্ডল বলেন, "জ্বর, পেটে ব্যথা হচ্ছিল এলাকায় । জন্ডিসের উপসর্গ থাকায় দুটি এলাকার মানুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল । তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ । একজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে । আমাদের নজরদারি চলছে এলাকা দুটিতে । বাড়িতে বাড়িতেও যাচ্ছি, খোঁজ রাখছি অসুস্থদের ।"
এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে । দুর্গাপুর নগর নিগম, স্বাস্থ্য দফতর কত দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে, এখন সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ । দুর্গাপুর নগর নিগম প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রাখি তিওয়ারি বলেন, "পানীয় জলের পাইপলাইনে লিকেজ থেকে নোংরা জল মিশে এই ঘটনা ঘটেছিল । আমরা নিয়মিত ওই এলাকার মানুষদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে জন্ডিসে আক্রান্তদের সুস্থ করার কাজ করেছি । নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে ওখানে । পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে ।"

