এসটিএফ থানা তৈরির উপর স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের
রাজ্য সরকার গত 31 জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুটি এসটিএফ থানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল। সেই নোটিশের উপরেই স্থগিতাদেশ জারি আদালতের ৷

Published : August 3, 2025 at 3:39 PM IST
কলকাতা, 3 অগস্ট: উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দুটি এসটিএফ (STF) থানা তৈরির বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের তরফে জারি করা গেজেট নোটিফিকেশনের উপর 15 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশে জারি করেছে।
রাজ্য দুটি থানা তৈরি করে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকো ট্রাফিক সাবসটেন্স অ্যাক্ট (এনডিপিএস), দি আর্মস অ্যাক্ট, বেআইনি জমায়েত এবং কার্যক্রম প্রিভেনশন অ্য়াক্ট (UAPA), দি প্রিভেনশন অফ মানি লনডারিং অ্য়াক্টের (PMLA) অধীনে সেখানে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এক আইনজীবী মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতেই থানা দুটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট ৷
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার গত 31 জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুটি এসটিএফ থানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাগুলির জন্য সল্টলেকে এসটিএফের থানা তৈরি হয় ৷ কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা এলাকাকে অবশ্য় বাদ রাখা হয়েছিল ৷ অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সব জেলার জন্য এসটিএফ থানার মুখ্য কার্যালয় তৈরি হয়েছিল শিলিগুড়ির অম্বিকানগর থানায়।
16 মে রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, সল্টলেকের থানাটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে বিধাননগর এসিজেএম আদালত। আর শিলিগুড়ি থানাটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে শিলিগুড়ি এসিজেএম কোর্ট। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে এই থানা তৈরির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, "বিচার পাওয়া বিলাসিতা নয়। এই নোটিশ কার্যকর হলে প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের পক্ষে অভিযোগ জানানোই সম্ভব হবে না ৷" সেই জন্য আপাতত 15 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নোটিশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। তবে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, এখনও পর্যন্ত যত এফআইআর দায়ের হয়েছে সেইসব এফআইআর-এর তদন্তের উপরে কোনও স্থগিতাদেশ দিচ্ছে না আদালত।
আদালতে শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল সওয়াল করেছিলেন, এই ধরনের প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া রাজ্য সরকারের অধিকারের মধ্যে পড়ে । তিনি আরও যুক্তি দেন, বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় স্থানীয় থানায় বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের হয়। পরে এসটিএফে ট্রান্সফার করা হলেও বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আর পাওয়া যায় না। ফলে তদন্ত ব্যাহত হয়। অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

