ETV Bharat / state

দুর্গাপুজোর পর চন্দননগরের জগদ্ধাত্রীও 'হেরিটেজ' ? গবেষণায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেবল একটি উৎসব হিসেবে নয়, বরং এক জীবন্ত অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করাই লক্ষ্য গবেষকদের ।

ETV BHARAT
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে গবেষণা (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 15, 2025 at 7:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 15 সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে । এবার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়েও শুরু হয়েছে গবেষণা । পশ্চিমবঙ্গের এই ফরাসি ঐতিহ্যের শহরে বহু বছর ধরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং নাগরিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক । আলোকসজ্জার শিল্পী, শোলা কারিগর, মূর্তি নির্মাতা থেকে প্যান্ডেল ডিজাইনার - সবাই মিলে ধরে রেখেছেন এক অনন্য ঐতিহ্য । সেই ঐতিহ্যকেই এবার হেরিটেজের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে দেখা শুরু করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ।

সরকারি স্পার্ক (SPARC) প্রকল্পের আওতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটেনের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই গবেষণা । নেতৃত্বে আছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীলাঞ্জনা গুপ্ত ও ড. রাহী সোরেন এবং লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ড. ইয়ান মাজেদেরা । তাঁদের লক্ষ্য, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেবল একটি উৎসব হিসেবে নয়, বরং এক জীবন্ত অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করা ।

ETV BHARAT
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে গবেষণায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল চিত্র)

গবেষণার অংশ হিসেবে স্থানীয় শিল্পীদের মৌখিক ইতিহাস, সাক্ষাৎকার এবং শিল্পকর্ম তৈরির নানা ধাপ নথিভুক্ত করা হচ্ছে । প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যান্ত্রিকতার বাড়-বাড়ন্ত, সরকারি স্বীকৃতির অভাব ও প্রজন্ম বদলের কারণে এই ঐতিহ্য আজ চাপে রয়েছে । তাই প্রয়োজন সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার । নীলাঞ্জনা গুপ্ত বলেন, "এখনও চন্দননগরে বারোয়ারি পুজোর ব্যাপারটা রয়েছে, যা কলকাতার দুর্গাপুজো থেকে চলে গিয়েছে । তবে, যাঁরা শোলার কাজ করেন বা অন্যান্যভাবে জড়িত, সেই মানুষগুলির রুটিরুজি আগে নিশ্চিত করতে হবে । নাহলে ঐতিহ্য রক্ষা করা যাবে না ।"

তিনি আরও বলেন, "ঐতিহ্য রক্ষা মানে শুধু কিছু ভবনের সংরক্ষণ নয়, মানুষকেও রক্ষা করা । এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্যান্য ফ্যাক্টর তো আছেই। সেগুলিও কুপ্রভাব ফেলছে ঐতিহ্যে । যেমন, এ রাজ্যে উপযুক্ত জলাভূমির অভাবে শোলা চাষ একেবারেই কমে গিয়েছে । ডাকের সাজের শোলার জন্য আমরা বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল । এছাড়া, আমাদের রাজ্যে তো বটেই, দেশেও ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে সঠিক নীতি নেই । সেটাও সরকারকে ভাবতে হবে ।"

গ্রাউন্ড লেভেলের কাজ ছাড়াও এই নিয়ে কর্মশালা ও আলোচনা সভা আয়োজিত হয়েছে । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অদৃশ্য ঐতিহ্য, নগর ঐতিহ্য ও পরিবেশনার সংযোগ নিয়ে কর্মশালা হয় । পরে আহমেদাবাদ ও কেরলের আলেপ্পিতেও সম্মেলন আয়োজিত হয় । প্রখ্যাত গবেষক মলি কৌশল, দাদি পুদুমজি, জানকি নায়ার, অনন্যা ভট্টাচার্য প্রমুখরা আলোচনায় অংশ নেন । তাতে উঠে আসে ঐতিহ্য, আধুনিকতা, স্মৃতি ও সম্প্রদায়ের রাজনীতির নানা প্রশ্ন ।

সবমিলিয়ে স্পার্ক প্রকল্পের গবেষণা দেখাচ্ছে, দুর্গাপুজোর পর জগদ্ধাত্রী পুজোও বাংলার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । আগামী দিনে এই প্রকল্প থেকে তৈরি হবে একটি হ্যান্ডবুক ও বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের কোর্স, যা নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য নিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করবে । একইসঙ্গে তৈরি হবে একটি ডিজিটাল আর্কাইভ, যাতে সংরক্ষিত থাকবে স্থানীয় কারিগরদের স্মৃতি ও শিল্পকর্ম । প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ শুধু গবেষণাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের মানচিত্রেও একদিন জায়গা করে দেবে ।