এক সংস্থায় কাজ করে অন্যত্র চাকরি খোঁজা অন্যায় নয়, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
কোনও কর্মচারী প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতে চাকরি খুঁজেছেন ৷ এই অজুহাতে চাকরি ছাড়ার পর তাঁর প্রাপ্য বকেয়া না-মেটানো স্বাভাবিক ন্যায়ের পরিপন্থী বলে পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের ৷

Published : August 30, 2025 at 6:03 PM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: এক সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন অন্য কোনও কোম্পানি, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতেও চাকরি খোঁজা অন্যায় নয় ৷ বাড়তি সুযোগ সুবিধার আশায় সেখানে কাজের সন্ধান করতে পারেন একজন কর্মচারী ৷ এটাই তাঁর মৌলিক অধিকার । এর জন্যে তাঁর বকেয়া অর্থ মিটিয়ে না-দেওয়া স্বাভাবিক ন্যায়ের পরিপন্থী বলে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ।
হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন ৷ পাশাপাশি তিনি ওই কর্মচারীকে অবিলম্বে তাঁর প্রাপ্য 1 লক্ষ 37 হাজার বকেয়া গ্র্যাচুইটির টাকা আট শতাংশ সুদ-সহ মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন কোম্পানিকে ।
2012 সালে ওই কোম্পানির টেকনিশিয়ান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন সুদীপ সামন্ত । তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী একটি কোম্পানি, যারা একইরকম ফিল্ম প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ার কাজ করেছিল, তাদেরকে সুদীপ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন গোপন তথ্য সরবরাহ করতেন এবং তার জন্য তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ওই কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও অভিযোগ । আর তাই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে সুদীপকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছিলেন অনুসন্ধানকারী আধিকারিক ৷ সেই অনুযায়ী, 2022 সালের 11 অক্টোবর ওই কর্মীকে বরখাস্ত করে ওই সংস্থা ৷ পরে তিনি নিজেও পদত্যাগ করেন বলে জানা গিয়েছে । শাস্তিস্বরূপ কোম্পানি তাঁর গ্রাচ্যুইটির টাকা আটকে দেয় ।
সুদীপ এরপর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোম্পানিরই আপিল কমিটির কাছে আবেদন করেন ৷ তারা তাঁর বকেয়া প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় । কিন্তু তারপরেও সংস্থার পক্ষ থেকে আপিল কমিটির নির্দেশ মানা হয়নি ৷ বরং আপিল কমিটির ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে । কিন্তু মামলাকারী সংস্থা সুদীপের বিরুদ্ধে কোনোরকম তথ্য বা প্রমাণ, তাদের প্রতিযোগী কোম্পানির সঙ্গে ওই কর্মচারীর কথোপকথনের কোনও কল রেকর্ড থেকে শুরু করে সেরকম কিছুই পেশ করতে পারেনি আদালতে ।
ভারতের বিশেষ ইন্সুলেটর ফিল্ম প্রস্তুতকারী ওই সংস্থার দাবি খারিজ করে শনিবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের পর্যবেক্ষণ, "অন্য কোনও কোম্পানিতে চাকরির সন্ধান করা, যদি সেটা প্রতিযোগী কোম্পানি হয়েও থাক, যদিও সেটা এই মামলায় প্রমাণিত নয়, তার মানে তিনি নৈতিক অপরাধী, অসৎ নন । গাড়ি পার্কিং থেকে অন্যান্য বাড়তি সুবিধা প্রত্যেক কর্মচারীরই প্রাপ্য । ওই সংস্থা প্রমাণ করতে পারেনি তাদের কর্মচারী কোম্পানির কোনও আর্থিক ক্ষতি করেছেন বা তার জন্য কোম্পানির সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে ।"
বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, "সংস্থার পক্ষ থেকে যে অনুসন্ধান ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে করা হয়েছে তা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের প্রাপ্য ন্যায়বিচারের পরিপন্থী । কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে ওই কর্মচারীর তেমন কিছুই খুঁজে পাইনি ।" এরপরেই বিচারপতি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুদীপ সামন্তকে অবিলম্বে তাঁর প্রাপ্য এক লক্ষ 37 হাজার বকেয়া গ্র্যাচুইটির টাকা 8 শতাংশ সুদ-সহ মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দেন ৷

