ETV Bharat / state

বাংলাদেশের শান্তা পালও কি জ্যোতি মালহোত্রার মতো গুপ্তচর, উত্তর খুঁজছে লালবাজার

বাংলাদেশি যুবতীর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক ৷

Bangladesh National Arrest Case
বাংলাদেশের শান্তা পালও কি জ্যোতি মালহোত্রার মতো গুপ্তচর (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 1, 2025 at 8:36 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 1 অগস্ট: বাংলাদেশি সন্দেহে ধৃত যুবতী শান্তা পালকে হেফাজতে রেখে যত জেরা করছে লালবাজার, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে ৷ তিনি ভারত-নেপাল-চিন সীমান্তে গিয়ে ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন ৷ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তিনি জ্যোতি মালহোত্রার মতো গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিলেন ?

জ্যোতি মালহোত্রা অবশ্য ভারতেরই নাগরিক ৷ আর তিনি পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তি করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে ৷ তবে শান্তা পাল যদি গুপ্তচর হন, তাহলে তিনি কোন দেশের কাজ করছিলেন সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয় ৷ আপাতত এই নিয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ৷

Bangladesh National Arrest Case
শান্তা পাল (ফাইল ছবি)

গত সোমবার শান্তাকে কলকাতার গল্ফগ্রিনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ ৷ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় তিনি যে নথি দিয়েছিলেন, তা দেখেই সন্দেহ হয় পুলিশের ৷ সেই নিয়ে খোঁজ নিতেই গিয়েই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারে পুলিশ ৷ গ্রেফতারির সময় শান্তার গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বাংলাদেশের একাধিক নথি ৷

তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ৷ ভারতে এসেছিলেন 2023 সালে । তারপর থেকে সঙ্গীকে নিয়ে এখানেই থেকে যান ৷ কিন্তু তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ৷ লালবাজার সূত্রে খবর, সেই সময় তিনি দালালচক্র মারফত ভারতের নথি তৈরি করেন ৷ আধার কার্ড-রেশন কার্ড সহ আরও অনেক নথি তৈরি করেন ৷ বাকি নথিগুলি পার্কস্ট্রিট থানা এলাকার হলেও আধার কার্ডটি বর্ধমানের ৷

Bangladesh National Arrest Case
লালবাজার (ফাইল ছবি)

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা শান্তা পালের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখেছেন ৷ সেখান থেকে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ৷ লালবাজার সূত্রের খবর, তাঁর সোশাল মিডিয়া পেজ ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ভারতে ভিসা জোগাড়ে বাংলাদেশিদের পরামর্শ দিতেন তিনি ৷ বিশেষ করে গত অগস্টের পর যখন ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকদের টুরিস্ট ভিসা দেওয়া হচ্ছিল না, তখন এদেশের আসার জন্য মেডিক্যাল ভিসার জন্য আবেদনের পরামর্শ দেন তিনি ৷

লালবাজার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আসান ট্রাভেলস কলকাতা অ্যান্ড বাংলাদেশ নামে সোশাল মিডিয়ায় একটি পেজ খুলেছিলেন শান্তা ৷ সেখানে নিজের টুরিজম ব্যবসার প্রচার চালাচ্ছিলেন শান্তা পাল । এর পাশাপাশি হোটেল খোলার জন্য তিনি ভারতের কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছিলেন কি না, ধৃতের ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ।

Bangladesh National Arrest Case
জ্যোতি মালহোত্রা (ফাইল ছবি)

তাছাড়া তিনি দিঘা থেকে শুরু করে আমাদের সিকিমের গ্যাংটক, সর্বত্র ঘুরেছেন ৷ সোশাল মিডিয়ায় তাঁর ভ্রমণের ছবি ও ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন ৷ ট্রাভেল ভ্লগার হিসেবে তিনি নাথু লা যান ৷ সেখানেই তিনি ভারত-নেপাল-চিন সীমান্তের ছবি তোলেন ৷

এখানেই শান্তার সঙ্গে জ্যোতি মালহোত্রার মিল পাচ্ছেন তদন্তকারীরা ৷ জ্যোতিও এভাবে ট্রাভেল ভ্লগার হিসেবে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেন ৷ সেখানকার ভিডিয়ো তুলতেন ৷ তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর জানা যায় যে সেই সব ভিডিয়ো-ছবি তিনি পাকিস্তানে পাচার করতেন ৷ কারণ, তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন ৷ শান্তাও কি গুপ্তচর ? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশ ৷

তবে এই নিয়ে তাদের তরফে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে নারাজ ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "শান্তা পালকে যতই জেরা করা হচ্ছে, তার কাছ থেকে ততই গুরুত্বপূর্ণ নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা চমকে দেওয়ার মতো । আরও ভালোভাবে গোটা বিষয়গুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যাচাই করা প্রয়োজন রয়েছে ৷"

আরও পড়ুন -

  1. গল্ফ গ্রিনে ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার রহস্যময়ী, উদ্ধার বাংলাদেশের বহু নথি
  2. বহাল তবিয়তে ছিলেন গল্ফগ্রিনে, এই একটি কাজ করেই ধরা পড়লেন ‘বাংলাদেশি’ যুবতী
  3. পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত জ্যোতির আসানসোল-যোগ, 'ঘনিষ্ঠ' সৌমিত থাকতেন এখানে