উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই সন্দীপের তৈরি দুর্গা পাড়ি দিচ্ছে চেন্নাইয়ে
মাটির তৈরি নানা সামগ্রী আগেই বানাত ৷ কিন্তু এবছর প্রথমবার একচালার দশভুজা বানাল সন্দীপ তথা আকাশ ৷ প্রতিবেদন ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি পলাশ মুখাপাধ্যায় ৷

Published : September 11, 2025 at 4:51 PM IST
বলাগড়, 11 সেপ্টেম্বর: কুমোরটুলি-সহ বিভিন্ন শিল্পীর তৈরি দুর্গা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশেও পৌঁছয়। মূর্তি তৈরি করে অনেক মৃৎশিল্পীই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। কেউ আর্ট কলেজের ছাত্র, কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে মূর্তি তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এর বাইরেও শুধুমাত্র সখের বসে মূর্তি তৈরি করেন অনেক শিল্পী। তেমনি এক অপটু হাতে তৈরি মাটির দুর্গা এবার পাড়ি দিচ্ছে চেন্নাইয়ে ৷ শিল্পী বছর সতেরোর আকাশ তথা সন্দীপ হাঁটুই ৷ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (সেমেস্টার) প্রস্তুতির মাঝেই সে তৈরি করে ফেলে মা দুর্গা ৷
ছোট থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সন্দীপ মাটির তৈরি নানা সামগ্রী বানাতে ভালোবাসে। পুজোর আগে পাড়ার শিল্পীদের কাছে গিয়ে প্রতিমা বানানো দেখত সে। আর সেই থেকেই তার অদম্য ইচ্ছে ৷ একদিন সে নিজেও দশভুজার মূর্তি গড়বে মাটি দিয়ে। আর আজ তার সেই স্বপ্নই পূরণ হল। তার হাতে বানানো এই খুদে দুর্গা পাড়ি দেবে চেন্নাইয়ে।
অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম সন্দীপের। বাবা সুকুমার হাঁটুই টোটো চালিয়ে সংসার চালান। আর্থিক সমস্যার কারণে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে পড়াশোনা করে এই মৃৎশিল্পী । সন্দীপ যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত তখন জিরাটের একটি বেসরকারি সংস্থার আবাসিক শিবিরে তাকে ভর্তি করে দেন বাবা। বর্তমানে ওই আবাসিক শিবিরে পড়াশোনা পাশাপাশি মাটির কাজও করছে ৷ প্রথম প্রথম আকাশের বাবা-মা মাটির জিনিস তৈরি করা পছন্দ করতেন না। সন্দীপ যেখানে পড়াশোনা করে, সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তা জয়প্রকাশ মিশ্র সন্দীপের পরিবারকে বোঝালে তখন তাঁরা রাজি হন।

সন্দীপ ছোটবেলা থেকে যখনই সময় পেত তখনই মাটির বিভিন্ন জিনিস তৈরি করত। এরপরেই তার ইচ্ছে হয় দুর্গা তৈরি করার। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। ইউটিউব ও পাড়ার প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের দেখে তাঁর প্রতিমা গড়ার ইচ্ছে হয়। এ বছরই প্রথম মাটি দুর্গা তৈরি করেছে সে। আড়াই ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি করেছে সন্দীপ। এক চালার কাঠামোয় রয়েছে, দুর্গা, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী ৷ যা তৈরি করতে তার সময় লেগেছে এক মাস। 20 সেপ্টেম্বর সন্দীপের হাতে তৈরি দুর্গা 1718 কিলোমিটার দূরে চেন্নাইয়ের নিউ প্যানাভেলে পাড়ি দিতে চলেছে । একচালার প্রতিমাকে ডাকের সাজে সাজানো হয়েছে ৷

শিল্পী থেকে সংস্থার কর্ণধারের বক্তব্য
শিল্পী সন্দীপ বলে, "মাটির কাজ করতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু আমার বাবা, মা বারণ করত। আমি তাঁদের কথা শুনতাম না। এলাকারই মৃৎশিল্পীদের কাছে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করা দেখতাম ৷ সেখান থেকেও কিছুটা শিখেছি। এবছর আমি প্রথম দুর্গা তৈরি করেছি। আগে বিভিন্ন রকম মাটির জিনিস তৈরি করেছিলাম। এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্গা তৈরির অর্ডার আসছে ৷ আমার তৈরি প্রথম দশভুজা পাড়ি দিচ্ছে বাংলার বাইরে ৷"

সংস্থার কর্ণধার জয়প্রকাশ বলেন, "এই আবাসনে মূলত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়েই পড়াশোনা হয়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় আকাশ আমাদের এখানে আসে। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ও মাটির কাজ করতে ভালোবাসে। ওর কাজ দেখে বলাগড়ের এক গৃহবধূ মিনা সেনের পছন্দ হয় ৷ তিনি বর্তমানে চেন্নাইয়ে রয়েছেন। আকাশের তৈরি মাটির কাজ ছবিতে দেখেই এবারে তিনি ছোট দুর্গার অর্ডার দেন। এখন সেই দুর্গা পাড়ি দিচ্ছে চেন্নাইয়ের নিউ প্যানাভেলে। দুর্গা ছাড়াও আরও একটি করে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর অর্ডার পেয়েছে সন্দীপ ৷"

